তাদের সবার মাফ চাওয়া উচিত: জয়

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭)

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর বাংলাদেশে যারা এ অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়।

কানাডার আদালতে এ সংক্রান্ত মামলার রায়ের পর ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

পাশাপাশি এ ইস্যুতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং বাংলাদেশে তাদের পক্ষ নেয়া সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের সমালোচনাও করেন।

জয় অভিযোগ করেন, এটা ছিল বাংলাদেশ এবং এ সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কানাডার আদালতেও নাকচ হয়ে যায়।

জয় বলেন, ‘এ মিথ্যা তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। পুরো উপাখ্যান চলাকালে আমি তাদের এসব প্রমাণাদি দেখেছি। এতে সুনির্দিষ্ট-বিস্তারিত কিছু নেই, যা সুস্পষ্টভাবেই বানানো। রয়েছে শুধু একটি বেনামি সূত্র, এমনকি যা কানাডার আদালতের কাছেও প্রকাশ করা হয়নি। সুতরাং তারা অভিযোগ করেছে, কিন্তু দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র আরও বলেন, ‘আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সুনামহানি করতে বিশ্বব্যাংক এ ষড়যন্ত্র করেছে।’

জয় বলেন, ‘এটা লজ্জাজনক যে, আমাদের সুশীল সমাজের একটা অংশ দ্রুত আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা বেশ কয়েকজন পরিশ্রমী, সম্মানিত যোগ্য মানুষের গায়ে কালিমা লেপন করেছেন। যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা দেশপ্রেমিক হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সরকার এবং ‘সম্মান ক্ষুণ্ণ হওয়া’ ব্যক্তিদের কাছে ওই সমালোচকদের ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ এখন পাওনা বলে মন্তব্য করেন জয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কাছেও তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মতামত প্রকাশ করেন তিনি।

জয় তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ইউনূসের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সরকারকে শায়েস্তা করতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিল করতে বিশ্বব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারকে হিলারির হুমকি সংবলিত বার্তা পৌঁছে দিতে তার সঙ্গেও তখন কয়েকবার যোগাযোগ করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা। পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন জড়িত। অথচ ড. ইউনূসের অব্যাহত তদবিরে হিলারির চাপে এ প্রকল্পে অর্থ বন্ধ করে বিশ্বব্যাংক।

জয় প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি জানেন, ইউনুস, তার পরিবার, বন্ধুরা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে লাভজনক টেলিযোগাযোগ কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। একটি বেসরকারি ট্রাস্টের মাধ্যমে তারা এটার মালিক হয়েছে, শুধু তারাই এর সুবিধাভোগী। গ্রামীণ ব্যাংকের একটি মাল্টি মিলিয়ন ডলারের লোন থেকে এই শেয়ারের টাকা দেয়া হয়েছে, যা অবৈধ।’

জয় বলেন, ‘দাতাদের অর্থে দরিদ্রদের ক্ষুদ্র ঋণ দিতে খরচ করে গ্রামীণ ব্যাংক। এখান থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসার জন্য ঋণ করা যায় না। গ্রামীণ ব্যাংকে করা একটি স্বাধীন কমিশনের অডিটে দেখা গেছে, এ ট্রাস্ট থেকে লাভের এক পয়সাও গ্রামীণ ব্যাংক কিংবা তার অন্য কোনো প্রকল্প পায়নি, এমনকি ইউনূস কখনও করও দেননি।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পে সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ এনে এ প্রকল্পে অর্থ বন্ধ করে দেয় বিশ্বব্যাংক। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই বলে আসছেন, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ তোলা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এতে বাংলাদেশীরাও জড়িত ছিলেন।

তিনি সম্প্রতি সংসদে বলেন, হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন আটকে দিয়েছিলেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস এবং এতে বাংলাদেশের এক সম্পাদকেরও ভূমিকা ছিল।

সূত্র- যুগান্তর ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.