লাকসামে শিক্ষকদের বই বানিজ্যে!

(Last Updated On: February 19, 2017)

সেলিম চৌধুরী হীরা,কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের সবক’টি উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের অবৈধ বই বানিজ্যে শিক্ষার্থীদের কাঁধে এখন মারাত্মক বোঝা। ওই মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাওয়া সরকারি বাংলা ২য়পত্র ও ইংরেজী ২য়পত্র বই দুটো বাদ দিয়ে কতিপয় অসাধূ শিক্ষকরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিম্নমান ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব প্রকাশকদের ওই বইগুলো পাঠ্য তালিকাভুক্ত করে ফাঁয়দা লুটছে। এ নিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরব ভূমিকা নিয়ে নানাহ কথাবার্তা তুলছেন।
জেলার দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, বরুড়া, সদরদক্ষিন ও সদ্য নব গঠিত লালমাই উপজেলার সবকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাইনবোর্ড কিংবা অসাধু শিক্ষক সেন্ডিকেট চক্র কতিপয় পুস্তক প্রকাশকের সাথে মোটা অংকের অবৈধ বই বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা ভবন, জেলা শিক্ষাবোর্ড, জেলা- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা এবং কোন কোন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এ অবৈধ বই বানিজ্যে সহযোগিতা দিচ্ছেন। এতে সম্মিলিত শিক্ষা দূর্নীতির শিকার হয়ে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত নানাহ ঝুঁকিতে এবং সরকারের শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ওইসব অবৈধ বানিজ্যের বে-সরকারী বইগুলো  শিক্ষকরা শ্রেণিভেদে কিনতে বাধ্য করায় আর্থিক খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
এছাড়া সরকারী নীতিমালা অনুসারে প্রত্যেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শ্রেণিওয়ারী প্রশ্ন ও সিলেবাস নিজেরাই করার কথা কিন্তু ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এককালীন কিংবা বাৎসরিক ও ব্যাক্তিগত কমিশনের লোভে জেলা শহরের অখ্যাত-কুখ্যাত প্রেস ও প্রকাশকদের কাছ থেকে সেরমাপা নিম্নমানের শিক্ষা সামগ্রীসহ ওইসব প্রশ্ন-সিলেবাস নিজেদের নামে ছেপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৮/১০ গুন বেশি দামে বিক্রি করছে। এ অঞ্চলের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো নানাহ দূযোর্গ- মহাদূর্যোগসহ নানাহ কারনে অর্থাভাবে ছেলে-মেয়েদের আকাশ ছোঁয়া দামে অবৈধ ভাবে পাঠ্য তালিকাভুক্ত বইগুলো কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। তার উপর ওই বিদ্যালয় গুলো থেকে শিক্ষা সামগ্রী ক্রয়, মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফিসহ নানাহ খাতে টাকা দিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। স্থাণীয় পুস্তক ব্যবসায়ীর একাধিক সূত্র জানায় সরকারী বোর্ড বইয়ের অনুমোদিত বিনামূল্যের দুটি বই পড়ানো শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক। এছাড়া সরকারী বইয়ের দামের চেয়ে অবৈধ পাঠ্য তালিকার বইদুটোর মূল্য কয়েক হাজার গুন বেশি। অবৈধ প্রকাশক ও শিক্ষকদের বই বানিজ্যের দাপটে স্থানীয় পুস্তক ব্যবসায়ীদের অনেকেই টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষকদের একাধিক সূত্র জানায়, বিনামূল্যে দেয়া সরকারী বইদুটো পাইরেসি করা কিন্তু বেসরকারী বইগুলো নাই এই তফাৎ। এছাড়া পাঠ্যভুক্ত ওইসব বইগুলোর লেখক কিংবা প্রকাশক নিয়েও রয়েছে হাজারো বির্তক। প্রত্যেক বছর বিদ্যালয়গুলোতে আর্থিক দেবতা হিসাবে বই বানিজ্যে কোন না কোন প্রকাশক হাজির হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউছুল আজম জানায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে সরকারী বিনামূল্যের বইয়ের বিপরীতে কোন বেসরকারী বই পাঠ্য তালিকাভুক্ত কিংবা পড়ানোর কোন সুযোগ নেই। তবে কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষক লোভে পরে বেসরকারী বইগুলো পাঠ্য তালিকাভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করার প্রমান পাওয়া গেলে তাৎক্ষনিক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.