সর্বশেষ সংবাদ

লাকসামে জলাবদ্ধতায় ইরি-বোরো ফসল উৎপাদনে ঝুঁকি

(Last Updated On: March 14, 2017)

সেলিম চৌধুরী হীরা, লাকসাম কুমিল্লা দক্ষিনা লের লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলাসহ লাকসাম পৌর শহরে গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে গ্রামের নির্মা লে মারাত্মক জলাবদ্ধতায় আগাম ভয়াবহ বন্যার আশংকা করছেন কেউ কেউ। ফালগুনের শেষ প্রান্তে এসে সপ্তাহ ব্যাবধানে এ দুর্যোগ এ অ লের সার্বিক জনচলাচল অচল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বানিজ্য স্থবির ও তার উপর আকস্মিক জলাবদ্ধতা এবং চলমান ইরি-বোরো উৎপাদনে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ায় মানুষ শংকায় পড়েছে।
৩টি উপজেলাসহ লাকসাম পৌর শহরের নির্ম্না ল প্রায় সময়ই মারাত্মক জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। এ অ লের একমাত্র ডাকাতিয়া নদীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খাল জবর দখলসহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোন জায়গা নেই। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নাঙ্গলকোটের ৮টি ইউনিয়ন, মনোহরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন ও লাকসাম উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, পৌরশহরের ৯টি ওয়ার্ডসহ ৩টি উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামের নির্মা ল জলাবদ্ধতার শিকারে চলমান ইরি-বোরো মৌসুমএবং আগাম গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।
পৌরশহরের সড়ক পথগুলো এখনো খানাখন্দে ভরা তবে একাধিক সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। ময়লা-আবর্জনায় শহরের অলি-গলিসহ এলাকার পরিবেশকে বেসামাল করে তুলেছে। নতুন-পুরাতন ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খালগুলো এ অ লের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। লাকসামের চাইলতাতলী, ঘাগৈর, বেরুলা, কার্জন, মেল্লা, কুচাইতলী ও ছিলনিয়া খালের অবস্থা বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। ওইসব খালগুলো জবর দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ গতিহীন। তার উপর ময়লা আবর্জনাসহ বিষাক্ত পানি জলাবদ্ধ হয়ে এ অ লের বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে নানাহ রোগের আতংকে সকল পেশার মানুষ। ইতিমধ্যে খালের উপর ব্রীজ ও কালভাটগুলোর প্রবেশ পথ ভরাট হয়ে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলার জলাখ্যাত ৩টি উপজেলায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। প্রত্যেক বছর এলাকার মানুষ ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জবরদখলকারী ও নদী-খালের ভরাট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন নিরব দর্শক। ফালগুন মাসের শেষ দিকে হঠাৎ প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে জেলা দক্ষিনা লের ৩টি উপজেলাসহ লাকসাম পৌরশহরের কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা না থাকায় পানি আটকে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা দক্ষিনা লের স্থাণীয় প্রশাসন গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে এ এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং বন্যা উত্তর পুনঃবাসন প্রকল্প হাতে নিতে হলে কয়ে’শ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যা ৩টি উপজেলা প্রশাসনের হাতে নেই।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.