বিশ্বাস হলো আপেক্ষিকতা

(Last Updated On: মার্চ ২১, ২০১৭)

তাহসিন বাহার সুচনা: বিশ্বাস এর সাথে একটুখানি খুঁত এর মতো একটা ‘অ’ অক্ষর যুক্ত করলেই বিশ্বাস অবিশ্বাসে পরিণত হতে সময় লাগে না। আবার অবিশ্বাসের সাথে একটুখানি রঙ চড়িয়ে শাণিত ফলার ন্যায় ‘য-ফলা’ যুক্ত করলেই তা অবিশ্বাস্য হয়ে উঠে। এই অবিশ্বাস্য বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলনায় দুলিতে দুলিতেই জীবন অতিবাহিত হয়ে যায়। এর চেয়ে মহা ভয়ংকর যখন নিজের উপর থেকেই বিশ্বাসটুকু উড়ে যাবে কর্পূরের মতো। নিজের নিঃশ্বাসকেও তখন আগুনের ফুলকি মনে হয়। পাঁচ দশক আগেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে গিয়েছেন, ‘কেহ বিশ্বাস করে, কেহ করে না। যে বিশ্বাস করে সেও সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, যে অবিশ্বাস করে সেও না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নটা নির্ভর করে মানুষের খেয়ালখুশির উপর।” বিশ্বাসের বিপক্ষে অনুভবের নাম অবিশ্বাস। এক প্রকার বিশ্বাস থেকেই অবিশ্বাসের জন্ম হয়। অবিশ্বাস করাও প্রকান্তরে এক প্রকার বিশ্বাস। বিশ্বাসকে গলাটিপে হত্যা করার নাম বিশ্বাসভঙ্গ। বিশ্বাস, অবিশ্বাস, আর বিশ্বাসভঙ্গতা একত্রে জড়াজড়ি করে থাকে। মানুষের বিশ্বাসটা বড়ই অদ্ভুত, আজ একজনকে অনেক বেশি বিশ্বাস করলে হয়তো কাল তাকেই নাবিশ্বাস করে বসে। অদ্ভুত প্রবৃত্তি এই বিশ্বাসের। প্রয়োজন নামক পারদের উঠানামার উপরও বিশ্বাস অবিশ্বাস নড়াচড়া করে।

যে জায়গায় আপনি অপরিহার্য বলে বিশ্বাস করে বসে আছেন, একদিন আবিস্কার করলেন- সেখানে আপনি নিতান্তই থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। যতক্ষণ আপনি থাকেন, ততক্ষণ আপনি অপরিহার্য। যখন থাকেন না তখন গৌণ। আপনার জায়গাটা কেউ না কেউ দখল করে বসে থাকে অনায়াসেই। এই আবিস্কার আপনাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে ধরবে। হাজারও পাওয়ার মধ্যেও ‘না পাওয়াটা’কে খুঁজে চলবেন। অবিশ্বাস অনেকটাই দুঃখের মতো। এই ধূলোভরা ধরায় এদেরই দাপট বেশি। মানুষ সুখের জন্য দুঃখের সাথে যুদ্ধ করে নিত্যক্ষণ। একটা মানুষ সারাজীবনও যুদ্ধ করে একটু সুখের দেখা পাওয়ার জন্য। এর মানে দাঁড়ায়- সুখের অস্তিত্ত্ব বা দাপট ক্রমশই গুল্মের মত। হাতের উলটোদিকে- দুঃখ বা অবিশ্বাস প্রচণ্ড দাপটধারী। না চাইতেই পাওয়া যায়। বায়ুকণার মতো শরীর মহাশয়ের সাথে লেপ্টে থাকে। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে আমরা সবকিছুকেই স্থায়ী হিসেবে পেতে চাই। সেই সবকিছুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ক্ষণস্থায়ী জীবনটাই ‘শাট ডাউন’ মুডে চলে যায়। এই স্থায়ীত্ত্বকরণের পাটিগণিতে বারবারই অবিশ্বাস এসে হানা দেয়। এই অবিশ্বাসের হানা দেয়ার ‘হোম গ্রোণ’ আমরাই তৈরি করি। যদিও বিশ্বাসমূলটাই আমরা নড়বড়ে করে রাখি। দরজা খুলে রাখলে চোর আসতেই পারে ঘরে। চোরকে দোষ দিয়ে কী লাভ! তবুও আমরা চোরেরই বিচার করি। নিজ আয়নার সামনে দাঁড়াতে দুর্দান্ত ভয় আমাদের!

তাহসিন বাহার সুচনা: প্রেসিডেন্ট, জাগ্রত মানবিকতা
Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.