হারিয়ে যেতে গ্রীষ্মের লালপরী কৃষ্ণচূড়া

(Last Updated On: মে ৮, ২০১৭)

সেলিম চৌধুরী হীরা, লাকসাম ,গ্রীষ্মের অতি পরিচিত একটি ফুলের নাম কৃষ্ণচূড়া। একসময় গ্রীষ্মের খড়তাপের যন্ত্রনা থেকে অনেকটা মুক্তি পথ ছিলো মনপুলকিত করা, মধুময় সৌন্দের্য্য মুগ্ধতায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের দোলনা। গ্রীষ্ম- প্রচন্ড গরম আর খড়তাপ নিয়ে যেমনি আসে, সাথে নিয়ে আসে গাছে গাছে রক্তিম জাগরণে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য বার্তা। সেই বার্তা মনে প্রাণে পুলক ছড়িয়ে দিয়ে যায় ক্লান্ত শ্রান্ত মানুষের মনে। কবির ভাষায় বলেছিলেন ‘‘ কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে-তুমি আসবে বলে’’ এইতো কৃষ্ণচূড়া ফুলের মুগ্ধ দৃষ্টি দেওয়ার দিন। মেঘলা আকাশ কিংবা মেঘমুক্ত গাছের মগডালে জেগে উঠা কৃষ্ণচূড়ার জুড়ি নেই। যদি সঙ্গে হালকা বাতাসের দোলনা থাকে। বর্তমানে এই আনন্দ উপভোগের জন্য কৃষ্ণচূড়া দৃষ্টি গোচর হয় কম।
আমাদের দেশে দুই ধরনের কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটতে দেখা যায়। একটি আগুন লাল, অন্যটি হলদেটে লাল। এ অ লের উজ্বল আগুন লাল ফুল কিছুটা দেখা গেলেও হলদেটে লাল কৃষ্ণচূড়া এখন আর চোখে পড়ে না। কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের অতি পরিচিত একটি ফুল। বাংগালীর কবিতা , সাহিত্য, গান, গল্প ও বিভিন্ন উপমা উঠে এসেছে এ ফুলের কথা। শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষটি দেশের গ্রাম- বাংলায় এখন তার নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে কোনমত টিকে আছে। বৃক্ষ নিধনের ফলে এ অঞ্চলে কৃষ্ণচূড়া আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ তার বৈজ্ঞানিক নাম ডেন্সোলিক বেজিয়া। এটি ফাবাসীয়া বংশের অর্ন্তগত একটি বৃক্ষ যা গুলমহন নামেও বাংলা পরিচিত। কৃষ্ণচূড়ার আদী নিবাস পূর্ব আফ্রিকা মাদাগাঁষ্কায়। ভিনদেশী এ ফুলের বৃক্ষগুলো আমাদের দেশে নতুন নামে পরিচিত। ধারনা করা হয় আদিকালের রাধা ও কৃষ্ণের নামের মিলনে বাংলায় এ নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.