আজ শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

(Last Updated On: জুন ১২, ২০১৭)

সেলিম চৌধুরী হীরা..‘‘আজকের শিশু আগামীদের ভবিষ্যত’’। পৃথিবীর প্রতিটি শিশুই ফুলের মত সুন্দর রূপে বিকশিত হওয়ার দাবী নিয়ে পৃথিবীতে আসে । কিন্তু সম্পদের অসম বন্টন ও সামাজিক অসংগতির শিকার হচ্ছে অনেক শিশুই। কোমলমতি শিশুদের কচি হাত হয়ে উঠে শ্রমের হাতিয়ার।
১২ জুন বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস। শিশুর অধিকার সু-রক্ষা ও ঝুকিপূর্ন শিশু শ্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে আন্তজার্তিক শিশু শ্রম  সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে, বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশে পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। ৩য় বিশ্বের দেশ হিসাবে বাংলাদেশে শিশু শ্রম এখনো অনেক বেশি অমানবিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শ্রমে নিয়োগকে শিশু শ্রম বলেছে। কিন্তু আমরা তা মানছি না।
বাংলাদেশে শিশু শ্রমে প্রধান কারন সীমাহীন দরিদ্রতা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছলতার কারনে অভিভাবকরা নানা ধরনের কাজে জড়িয়ে দিচ্ছে শিশুদের। লেখা পড়া বাদ দিয়ে তাদের ঠাঁই হচ্ছে ছোট ছোট কলকারখানা, পাথর ভাঙ্গা, ফেরি করে জিনিষপত্র বিক্রি করা, রিক্সা চালানোসহ অনেক শিশুকে জড়ানো হচ্ছে ভিক্ষা ভিত্তিতে। জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৩৪ লক্ষ ৫০ হাজার শিশু কোন না কোন শ্রমে নিয়োজিত। তবে বাস্তব চিত্র আরো বিভিষিকা ময়।
এ শিশু শ্রমিকদের উপার্জন হয়তো বাবা-মায়ের দারিদ্রতা লাঘব করে না, তবে কষ্ট কিছুটা লাঘব করে। এই চিন্তা চেতনা নিয়ে দরিদ্র বাবা-মা তাদের শিশুকে কর্ম ক্ষেত্রে পাঠায়। কিন্তু তাদের দিয়ে শ্রম আদায় মানবতাবিরোধী কাজ জানলেও দারিদ্রতার যাতাকলে পড়ে তা ভুলে যান। যে বয়সে শিশুদের লেখাপড়া করা কথা, খেলাধুলা করা কথা সে বয়সে তারা শ্রমিক হয়ে শ্রম বিক্রি করছে তা কখনো মেনে নেয়া যায় না। সরকারকে শিশু নির্যাতন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হতে হবে। সাথে সাথে শিশু শ্রম বিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সমাজের সচেতন ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না।
সামাজিক আন্দোলন ও সরকার পাশাপাশি কাজ করার মাধ্যমে শিশু শ্রম বন্ধ করে, সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবী উঠেছে। কারন আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যত।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.