সর্বশেষ সংবাদ

অনুপ্রবেশকারীদের ওপর ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা

(Last Updated On: July 22, 2017)

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুটি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সদস্য করা হয়েছে আবদুল মতিন খসরুকে। তিনি আগে দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আর নতুন আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে শ ম রেজাউল করিমকে।
এদিকে দলে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কীভাবে এসব নেতা দলে অনুপ্রবেশ করে পদ-পদবি পায়, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। ওই বৈঠকেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুটি পদে পরিবর্তন আনা হয়।
মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বরিশাল সিটি করপোরেশন নিয়ে তিনি বলেন, এখানে তো প্রার্থী আছেই। তারপরও এতো কথা কেন? এতো গ্রুপিং কেন?
বৈঠকে অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে দলীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢোকেন, তারা বিশেষ একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসে নানা অপকর্ম করেন। আর দোষ পড়ে দলের ওপরে। তিনি বলেন, কোথায় কারা ঢুকেছেন, কাদের মাধ্যমে ঢুকেছেন, কী অপকর্ম করছেনÑ এসব তথ্য আমার কাছে আছে; আরও তথ্য আসছে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেনÑ দল ভারী করে বদনাম কেনার দরকার নেই। এমন এলাকা আছে, শুধু দলেই নেওয়া হয়নি, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়ে দেওয়া হয়েছে এই অনুপ্রবেশকারীদের।
ইউএনও সালমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওবায়েদ উল্লাহ সাজু কে? দলে তার অবদান কী? আজ অতিউৎসাহী হয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি, তাতে কী হয়েছে? দল ও সরকারকে তিনি বিব্রত করেছেন।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা জানান, কারা, কোথায় অনুপ্রবেশ করেছেন, কার মাধ্যমে দলে ঢুকেছেন, দলীয় পদ পেয়েছেন, তাদের একটি তালিকা করে জমা দেওয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্য সম্পাদকম-লীর নেতাদের সঙ্গে দলের ভেতরে এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ে শিগগিরই কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন দলীয় সভাপতি। এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেবেন বলেও জানা গেছে। অন্য দল থেকে কাউকে দলে না নিতেও প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে শিগগিরই বৈঠক ডেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে দলীয় সভাপতি কঠোর নির্দেশনা দেবেন বলেও সূত্র জানায়।
এদিকে বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিম-লীর সদস্য করা হয়েছে আবদুল মতিন খসরুকে। তিনি বিগত ছয় বছর ধরে আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাকে করা হয় আইনমন্ত্রী। তিনি কুমিল্লা-৫ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
শ ম রেজাউল করিম বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। পেশাজীবনে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যা মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। ওয়ান ইলেভেনের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

http://www.dainikamadershomoy.com/

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.