ওজনে প্রতারণা -১. মিষ্টি দোকান

(Last Updated On: আগস্ট ৭, ২০১৭)

সেলিম চৌধুরী হীরা..ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা শহর, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, বরুড়াসহ দেশের প্রায় অঞ্চলে কিছু অসাধু মিষ্টি দোকানে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। বেশি মুনাফার আশায় ভারী মিষ্টির প্যাকেট ব্যবহার করে ওজনে ঠকাছে ক্রেতাদেরকে। কিছু কিছু মিষ্টি দোকানের প্যাকেটের দাম পড়ে ২০ থেকে ৮০ টাকা।
বর্তমান ডিজিটেল স্কেলের ব্যবহারে পরিমাপে প্রতারণা করার সম্ভব না হলেও প্রতারকদের প্রতারণার ধরণ বদলে গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন নামে শত শত মিষ্টি দোকানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ২/৩ প্রকার মিষ্টি প্যাকেট রাখে। যা কিনা ১০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। ভারী এ প্যাকেটে মিষ্টি ওজন করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতারণা করে আসছে সাধারণ ক্রেতাদের সাথে। আরো জানা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা ২/৩ প্রকার ওজনের প্যাকেট রেখে ক্রেতা বুঝে ১০০ থেকে ৪০০ গ্রামের প্যাকেট ব্যবহার করে মিষ্টি ওজন করার সময়। প্যাকেট তৈরি প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে প্যাকেট গুলো বানিয়ে নেয় প্রতারক ব্যবসায়ীরা।
একজন ক্রেতা সাধারণত ১ কেজি মিষ্টি কিনে পাচ্ছেন ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম মিষ্টি। অন্য দিকে একজন ক্রেতা নিজের অজান্তেই ১৭০/১৮০ থেকে ২৫০/৩০০ টাকা কেনা মিষ্টির সাথে একই দামে কিনে নিচ্ছে কাগজের তৈরি মিষ্টির প্যাকেটও। ১ কেজি মিষ্টি ২০০ টাকা হলে ২০০ গ্রাম ওজনের ১টি মিষ্টি প্যাকেটের দাম পড়ে ৪০ টাকা। ২০০ টাকার মিষ্টির সাথে ১টি প্যাকেট ৪০ টাকায় কিনে প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তেই প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা আলেখার চর এলাকার এক মিষ্টি ব্যবসায়ী এ প্রতারণার কথা স্বীকার করে বলেন, সব ব্যবসায়ী এক রকম নয়। তবে একটু আর্ধটু সবাই করলেও সামান্য কিছু অতি লোভী মিষ্টি ব্যবসায়ীর কারণে সকল ব্যবসায়ী অভিযুক্ত হচ্ছে।
লাকসাম আলমদিনা সুইস্ এর মালিক আলহাজ্ব মনিরুজ্জামানের ছেলে মোঃ মনির হোসেন জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কম দামে  নিম্নমানের মিষ্টি বিক্রির পাশাপাশি এমন প্রতারণা করে থাকে। বিশেষ করে বাস, ট্রেন ও লে র যাত্রীদের কাছে মিষ্টি বিক্রয়ের সময় এরকম প্রতারণা বেশি হয়। আমরা দীর্ঘদিন প্রায় ৩০ বছর যাবত মিষ্টির ব্যবসা করে আসছি। আমাদের কোন ক্রেতা আজ পর্যন্ত এমন প্রতারণার স্বীকার হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
লাকসাম বাকড্ডা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, বাজার থেকে সাধারণ মানের ১ কেজি মিষ্টি কিনলে ১৬ থেকে ১৮টি মিষ্টি পাওয়া যায়। তবে এক দিন একটি দোকান থেকে ১ কেজি মিষ্টি কিনে বাড়ীতে গিয়ে দেখি ১২টি মিষ্টি রয়েছে। সন্দেহ বশত মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখি যে, মিষ্টি প্যাকেটের ওজন হবে ১ পোয়ার (প্রায় ৩০০ গ্রাম) ওপরে। তিনি আরো জানান, প্রশাসন একটু ভূমিকা রাখলে এ প্রতারক ব্যবসায়ীদের প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন ব্যাপার হবে না।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.