গবাদী পশু পালন করে রিক্সাচালক বারিক এখন স্বাবলম্বী

(Last Updated On: আগস্ট ১৪, ২০১৭)

সেলিম চৌধুরী হীরা  ,কৃষক আবদুল বারিক। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরপাক খেয়ে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সংসারের অভাব অনটনের মধ্যে এক সময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। একদিন তার মনে ইচ্ছা জাগে গরুর খামার করার। তার ওই ইচ্ছা শক্তি থেকে গরুর খামার করে এখন তিনি কোটিপতি। সফল ওই খামারীর বাড়ী লাকসাম উপজেলা বাকই ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত হাজী আবদুল গণির ছেলে।
জানা যায়, লাকসাম উপজেলা বাকই ইউনিয়নের মধ্যপাড়া মৃত হাজী আবদুল গণির ছেলে রিক্সাচালক আবদুল বারিক একটানা ১৭ বছর যাবত রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। পরিবারের অভাব-অনটন ছিল তার নিত্যদিনের সাথী। সংসারের একটু সুখের কথা চিন্তা করে ১৯৯৩ সালে প্রবাসে পাড়ি দেন। শারীরিক অসুস্থ্যতার কারনে ৫ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। লোকসানের হিসাব কষতে গিয়ে এক সময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন আবদুল বারিক। একদিন তার মনে ইচ্ছা জাগে গরুর খামার করার, দেশে এসে মাথায় চিন্তা আসে ১টি গাভী বাছুর কিনার। ২০০৫ সালে ৬০ হাজার টাকার মূল্যে ১টি বাছুরসহ গাভী কিনেন। গরু পালন করার পর থেকে গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। মনের ইচ্ছা শক্তি থেকে গরুর খামার করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। ওই খামারী এখন প্রতিমাসে আয় করছেন প্রায় ১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে ওই খামারে। বর্তমানে ওই খামারে ১৪টি গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ লিটার দুধ উৎপাদন  হয়। এখন ওই খামারে বিভিন্ন জাতের হলেটেল ফ্রিজিয়াম, অস্টেলিয়ান জার্সি, ইন্ডিয়ান হরিয়ানা, সাইওয়াল ও ৬টি বাছুরসহ মোট ২৪টি গরু রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। বর্তমানে ওই খামারে ১৪টি গাভী থেকে প্রতিদিন ১০০ লিটার দুধ উৎপাদন করা হয়। ওই দুধ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে লাকসাম দৌলতঞ্জ বাজারের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বছরে ষাঁড় ও বাছুর বিক্রি করেও কয়েক লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় করেন তিনি। অন্যদিকে গরুর গোবর বিক্রি করেও প্রতিমাসে অতিরিক্ত আয় করছেন ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া গরুর মল খামারের ময়লা আবর্জনা দিয়ে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
খামারী আবদুল বারিক জানান, ১৭ বছর রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। ২৭ বছর বয়সে বিবাহ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাই বাধ্য হয়ে প্রবাসে পারি দেই, সেখানে জীবনে সুখে আসেনি। দেশে ফিরে এসে ৬০ হাজার টাকা মূল্যে ১টি গবাদী পশু পালন করতে শুরু করি। সৃষ্টির কর্তার কৃপায় আমার ভাগ্যে ফিরে যায়। আমার খামার ব্যবসা দেখে এলাকার যুবকরা খামার করার জন্য পরামর্শ নিতে আসেন। তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে ন্যাশনাল এ্যাগ্রীকালচারাল ট্যাকনোলোজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি) এর অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন তিনি আরো বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি বাংলাদেশের একজন সেরা খামারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন রশিদ চৌধুরী জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি খামারের মধ্যে আবদুল বারিকের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ডেইরী ফার্ম  করে আজ সাবলম্বী। তার খামারের প্রতি উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবক বিভিন্ন স্থানে ডেইরী ফার্ম করে বেকারত্ব দূরকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। তার মতো অবশিষ্ট খামারগুলো উন্নতি করতে পারলে এলাকায় দুধ ও আমিষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা যাবে। যা দেশের অর্থনীতিতে বড় সহায়ক হতে পারে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.