মিয়ানমারে ভয়াল গণহত্যা

(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭)

আমাদের সময় ঃ  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাবিরোধী সেনা অভিযান ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। জ্বলছে রাখাইন, মরছে রোহিঙ্গারা। ব্রাশফায়ারে গণহত্যার পাশাপাশি যুবতী ও নারীদের গণধর্ষণের পর গলা কেটেও হত্যা করা হচ্ছে। নির্যাতনের ভয়াবহতায় প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশও বাড়ছে বাংলাদেশে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে রবিবার পর্যন্ত ৪ শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৬০০ ঘরবাড়ি। গত ১০ দিনে পালিয়ে আসা লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। অনেক রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে গত ১০ দিনের ভয়াবহ হামলা প্রত্যক্ষ করে মুসলিম দেশগুলো নড়েচড়ে বসেছে। তারা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বানের পাশাপাশি জাতিসংঘকে ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার বিবৃতি দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি একে ‘গণহত্যা’ উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ফোন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার অঙ্গীকার করেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেনতো মারশুদি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান নিয়ে এখন মিয়ানমারে। তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

গত ২৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যায় যখন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় সফরে মিয়ানমার যাচ্ছেন। বিবিসি বলছে, মোদির এই সফরে রাখাইন প্রদেশের সহিংসতা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে দেশ দুটির মধ্যে। সম্প্রতি ঘটনাপ্রবাহে মোদির ভূমিকা কী হবে, এটিই এখন দেখার বিষয়। ভারতেও ৫০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.