ধর্ষকের ভূমিকায় নিউইয়র্ক পুলিশ

(Last Updated On: নভেম্বর ৩, ২০১৭)

প্রথম আলো ঃ  হাতকড়া পরা এক তরুণী নিউইয়র্কের দুই পুলিশ সদস্যের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ অভিযোগে করা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিংস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস থেকে বলা হয়েছে, গেল সেপ্টেম্বর মাসে এ ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্কের কোনি দ্বীপে।

মামলার বিবরণ ও অ্যাটর্নি অফিসের বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়, হাতকড়া পরা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভ্যানের পেছনে বসানো হয় তাঁকে। এরপরেই দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে ধর্ষণ করেন। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি ব্রুকলিন সাউথের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে দায়িত্বরত ছিলেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওই দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা হলেন অ্যাডি মার্টিনস (৩৭) ও রিচার্ড হল (৩৩)। তাঁদের বিরুদ্ধে সোমবার মোট ৫০টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্য সরাসরি ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অপহরণসহ বিভিন্ন বিষয় আছে। তবে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্টিনসকে আড়াই লাখ ডলারে এবং রিচার্ডকে দেড় লাখ ডলারে জামিন দিয়েছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২৫ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে।

নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, অ্যাডি মার্টিনস ও রিচার্ড হলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্য তাঁরা বেতন-ভাতা পাবেন না।

কিংস কাউন্টির ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ বলেন, অভিযোগই বলে দেয় তাঁরা (মার্টিনস ও রিচার্ড) কীভাবে জনমানুষের আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এটা ধারণাতীত যে নিউইয়র্ক পুলিশের দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা এমন জঘন্য অপরাধে জড়িত হবেন। তাঁরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবা দিতে শপথ নিয়েছেন। তাঁরা ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে সেই শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তাঁদের জবাবদিহি করতে চাই। জনগণের বিশ্বাসও ফেরাতে চাই।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী মাইকেল ডেভিড বলেন, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তরুণী ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ আছে। অপেক্ষাকৃত লঘু অর্থের বিনিময়ে তাঁদের জামিন পাওয়ার সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি হতাশায় ডুবে আছেন। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী একটি হাইস্কুল থেকে স্নাতক করেছেন। তিনি কলেজে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তাঁর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে।

১৫ সেপ্টেম্বরের সন্ধ্যায় যা ঘটেছিল
অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে পাওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একটি পুলিশ ভ্যানে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করেন মার্টিনস ও রিচার্ড। এ সময় তাঁরা সাদাপোশাকে ছিলেন। তাঁরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই অফিস ত্যাগ করেছিলেন। এরপর গাড়ি চালিয়ে চলে যান ব্রুকলিনের কালভার্ট ভক্স পার্কে। সেখানে দুই পুরুষ আরোহীসহ ১৮ বছর বয়সী ওই নারী একটি ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মার্টিনস ও রিচার্ড গাড়ি থামিয়ে তাঁদের নামান। এরপর ওই তরুণীকে তাঁর পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এমনকি অন্তর্বাস খুলতেও বাধ্য করা হয়। এটা এ জন্য করা হয় যে তিনি কিছু লুকাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে। এরপরই মাদক রাখার অভিযোগে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরানো হয়। পুরুষ দুই আরোহীকে সেখান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা চলে যাওয়ার পর দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওই তরুণীকে ভ্যানে তুলে নেন।

অ্যাটর্নি অফিস জানায়, এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তা মার্টিনস ওই তরুণীকে বলেন, যদি তিনি তাঁদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় হাতকড়া পরা ওই যুবতীকে পেছনের আসনে বসিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করেন মার্টিনস। তখন গাড়ির চালকের আসনে থাকা রিচার্ড আয়নায় (লুকিং গ্লাসে) সেই দৃশ্য দেখেন। চার মাইল দূরে বে রিজ এলাকায় গিয়ে গাড়িটি থামানো হয়। মার্টিনস চালকের আসনে বসেন। আর তরুণীর কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অশালীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে রিচার্ড। এরপরই তাঁরা ওই তরুণীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হুমকি দেন যেন তিনি মুখ না খোলেন।

অ্যাটর্নি অফিস জানায়, ওই তরুণী সেখান থেকে ছুটে যান মেইমোনাইডস মেডিকেল সেন্টারে। সেখানে যৌন নিপীড়নবিষয়ক কিছু পরীক্ষা তিনি করান। ওই তরুণীর ডিএনএ পরীক্ষার পর দুই গোয়েন্দার ডিএনএর মিলে যায়।

অন্যদিকে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪২ মিনিটের দিকে ওই তরুণীকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশ ভ্যান থেকে।

এ বিষয়ে মার্টিনসের আইনজীবী মার্ক বেডরো এক বিবৃতি বলেছেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুলিশ কর্মকর্তা, তাই আমরা অভিযোগ অস্বীকার করছি। আমরা অভিযোগ অস্বীকার করছি যে ওই তরুণীকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছিল। বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করবে না। আসলে যৌন হয়রানির কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

তবে রিচার্ডের আইনজীবী এখনই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.