পুরুষদের বলাৎকার করাচ্ছে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা

(Last Updated On: নভেম্বর ৪, ২০১৭)

যুদ্ধাস্ত্র ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে কৌশলগতভাবে লিবিয়ার বিদ্রোহী গ্রুপগুলো বিরোধী পক্ষের পুরুষদের বলাৎকার করাচ্ছে। এ ধরণের ঘটনার শিকার একাধিক পুরুষের বিবৃতি নেওয়ার পর তদন্তকারীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিউনিসিয়া ভিত্তিক একটি গ্রুপ এবং ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মন্ডির এক সাংবাদিক বলাৎকার শিকার একাধিক পুরুষের দেওয়া বিবরণের আলোকে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ঝাড়ুর অগ্রভাগ ও রকেটসহ বিভিন্ন বস্তুর মাধ্যমে এসব পুরুষের ওপর যৌন নিপীড়ন চলতো।

বেশ কয়েকটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, এক ব্যক্তিকে কারাগারের ভেতরে কয়েকজন বন্দীর মধ্যখানে ছুঁড়ে ফেলা হয় এবং ওই ব্যক্তিকে ধর্ষণের জন্য বন্দীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ না মানলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

আইনবিহীন ও সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলোতে বিরোধীদের অপমান ও নিস্ক্রিয় করতে এই ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

আহমেদ নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিমের শহর মিসরাতার কাছে তোমানিয়ার একটি কারাগারে তাকে চার বছর বন্দি রাখা হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ তারা আপনাকে বশে আনার জন্য পৃথক করে ফেলবে। এক্ষেত্রে তারা পুরুষদের বশে আন- এ ধরণের বাক্য ব্যবহার করে। এর ফলে আপনি জীবনেও মাথা উঁচু করতে পারবেন না। তারা সবকিছুই তাদের ফোনে রেকর্ড করে রাখে।

আহমেদ বলেন, ‘তারা একটি ঝাড়ু নেয় এবং এটি দেয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত করে। আপনি যদি খাবার চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই আপনার প্যান্ট খুলতে হবে এবং ওই ঝাড়ুর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। কারারক্ষী যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে রক্তাক্ত না দেখছে ততক্ষণ আপনি সেখান থেকে সরতে পারবেন না। কেউ এর থেকে রেহাই পায় না।’

মুক্তি পাওয়া এই ব্যক্তি জানান, তিনি কারাগারের যে অংশে ছিলেন সেখানে ৪৫০জন বন্দি ছিল।

তিনি বলেন, ‘সেখানে একজন কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসী ছিল। একদিন বিকেলে ওরা তাকে আমাদের কারাগারের ভেতরে ছুঁড়ে ফেলে এবং বলে, এই ব্যক্তিকে ধর্ষণ কর, আর নইলে তোমাদের হত্যা করা হবে।’

http://www.risingbd.com
Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.