‘গণধর্ষণের দায়ে মিয়ানমার সেনাদের বিচার হতে হবে’

(Last Updated On: নভেম্বর ১৩, ২০১৭)

সমকালঃ  জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবশ্যই বিচার হওয়া প্রয়োজন।

রোববার ঢাকায় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি (হাই রিপ্রেজেনটেটিভ) ফ্রেডারিকা মঘারিনি আগামী ১৯ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঘারিনি কক্সবাজারের উখিয়া ও কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রমিলা প্যাটেন জানান, তিনি কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সময় রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণধর্ষণের ভয়ঙ্কর কাহিনী শুনেছেন। রাখাইন থেকে পাওয়া তথ্য এবং পালিয়ে আসা নারীদের বর্ণনা ও ক্ষতচিহ্ন থেকে এটা স্পষ্ট যে, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গা শিউরে ওঠার মতো বর্বরতা চালিয়েছে, সেখানে অসংখ্য নারী মিয়ানমার সেনাসদস্য ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জঘন্য অপরাধের দায়ে অবশ্যই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

প্যাটেন বলেন, ‘রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা একদিকে গণহত্যা চালিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে আর এর মধ্যেই তারা নারীদের ধর্ষণ করেছে। এমনকি তাদের ভয়াবহ বর্বরতা থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। কোনোভাবেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্যাটেন জানান, কক্সবাজারের ক্যাম্পে অনেক রোহিঙ্গাই তাকে বলেছেন, তারা রাখাইনে তাদের গ্রামে ফিরে যেতে চান। কিন্তু তারা নাগরিকত্ব ও আবারও সহিংতার শিকার হবেন না—এমন নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরতে চান।

তিনি বলেন, ‘এই রোহিঙ্গারা যে ভয়াবহ বর্বরতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, তা কখনই মন থেকে মুছে যাবে না। এখন তারা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের যে দাবি করছে তা কোনো অজুহাতেই উপেক্ষা করা যায় না।’

প্রমিলা প্যাটেন আরও বলেন, ‘রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ উদার মানবিকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিপন্ন অসহায় মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে সবাই কৃতজ্ঞ থাকবে।’

প্রমিলা প্যাটেন চার দিনের সফরে কক্সবাজার এলাকায় কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি সুশীল সমাজ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাতে রাখাইনে কয়েকটি সেনা-পুলিশ চৌকিতে হামলার জেরে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর থেকে সেনা সদস্য ও স্থানীয়দের দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুরা; এরইমধ্যে সোয়া ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ এসেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.