মুরাদকে সতর্ক করলেন ওবায়দুল কাদের

(Last Updated On: নভেম্বর ২৭, ২০১৭)

যুগান্তরঃ রাজধানীর লালবাগে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে শেখ হাসিনার কঠোর বার্তা দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে সতর্ক করলেন ওবায়দুল কাদের।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মুরাদকে সতর্ক করে দেন।

আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের রোববার দুপুরে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মুরাদকে ডেকে নেন। মুরাদ এ সময় লালবাগে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকে অবহিত করেন।

জবাবে ওবায়দুল কাদের মুরাদের উদ্দেশে বলেন, নেত্রী সব জানেন। তোমার ব্যাপারে নেত্রীর কাছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ গেছে। তুমি মোস্তফা মহসীন মন্টু গ্রুপের লোকজনকে গুরুত্ব দিচ্ছ, বিভিন্ন পদে বসাচ্ছ, নেত্রীর কাছে এমন অভিযোগ আছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মান্নাফির মতো মহানগরের সিনিয়র একজন নেতাকে লাঞ্ছিত করে সেদিন কেন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল? নেত্রী কিন্তু সব জানেন। তোমারও বুঝতে হবে, ওনার ছেলে (মান্নাফি) নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী) নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। নেত্রী সবার ব্যাপারে অবগত আছেন। সামনে জাতীয় নির্বাচন, সরকারবিরোধীরা সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, নেত্রী কোনোভাবেই মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যক্তিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব-কোন্দল বরদাশত করবে না, এটা আমাকে বলে দিয়েছেন। তাই দ্রুত মহানগরের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বসে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং নিরসন করে ফেল।

এছাড়া আজ শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতে যাতে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেন কাদের।

এ উপলক্ষে সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে ডা. শামসুল আলম খান মিলনের সমাধিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করবে। এদিকে সন্ধ্যায় একই স্থানে আবু আহমেদ মান্নাফীকে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গেও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি বারবার ফোন কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শেষের দিক থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার পর থেকে স্নায়ুযুদ্ধে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এবং মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

তবে বিষয়টি এতদিন নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও গত ১৬ নভেম্বর আজিমপুরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তার আগে সিটি কর্পোরেশনের গুলিস্তান এলাকা থেকে হকার উচ্ছেদ, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজেদের লোক ঢোকানো নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ ও দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর মুরাদ ও খোকনের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত আগস্টে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শোক দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের কর্মসূচি ঘোষণার পর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে গত ২৬ অক্টোবর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধনের সময়।

প্রধানমন্ত্রী টেলিকনফারেন্সে থাকাকালেই মারামারি ও ভাংচুরে জড়ায় দুই পক্ষ। এর জের ধরে বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই হাতাহাতি ও ভাংচুরে লিপ্ত হন তারা।

তবে আজিমপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে। সেদিন শাহে আলম মুরাদের সভাস্থলের সামনে আবর্জনার স্তূপ, খোকন ও মুরাদের বহিষ্কারের দাবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, গাড়ি ভাংচুর, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.