maxresdefault

চলেই গেলেন আনিসুল হক

(Last Updated On: ডিসেম্বর ১, ২০১৭)

আমাদের সময়ঃ লন্ডনে চিকিৎসাধীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকরা তার ভেনটিলেশন যন্ত্র খুলে নেন। এরপর মৃত ঘোষণা করা হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। আনিসুল হকের পারিবারিক সূত্র জানায়, লন্ডনের স্থানীয় সময় ৪টা ২৩ মিনিটে এবং বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। লন্ডনে রিজেন্ট লেক মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আনিসুল হকের মরদেহ আনা হবে ঢাকায়। ওই দিন বাদ আসর তাকে দাফন করা হবে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে।
আনিসুল হকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় দুদিন আগে ফের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেই থেকে গণমাধ্যমে তার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
লন্ডনের একটি হাসপাতালে গত আগস্ট মাস থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহ) আক্রান্ত হয়ে। নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডনে যান আনিসুল হক। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর অবস্থার উন্নতি হলে গত ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তরের বার্তা জানিয়ে বিবৃতি দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফের আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে দুদিন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন তিনি।
তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী আনিসুল হক ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিটিভিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনও করেছিলেন তিনি। এর পর ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন আনিসুল হক।
সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক মেয়র আনিসুল হকের ছোট ভাই।
‘ঋণশোধের’ স্বপ্ন পূরণ হলো না
গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর জন্মভূমি নোয়াখালীতে গেলে তাকে বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। মানুষের সমুদ্র দেখে সে সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত আনিসুল তার বক্তব্যে বলেন, একসঙ্গে এত মানুষের সামনে কোনো সময় বক্তব্য দিইনি। এত ফুলেল শুভেচ্ছাও পাইনি। এত ভালোবাসা! সত্যি আমি ঋণী হয়ে গেলাম আমার এই জন্মমাটি ও মানুষের কাছে; প্রিয় জন্মস্থান কবিরহাট এবং প্রিয় নোয়াখালী জেলার কাছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আধুনিকায়ন ও বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ঢাকাকে পরিবর্তনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামীতে একইভাবে আমি নোয়াখালীকেও পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়ে ঋণ শোধের চেষ্টা করব। সেই ঋণশোধের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সদা হাস্যপ্রিয় এই ব্যক্তিত্ব।
শোকগাথা
মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এ ছাড়া শোক জানান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

 

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.