স্বপ্নবাজ নায়কের প্রস্থান

(Last Updated On: ডিসেম্বর ২, ২০১৭)

ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া : ভীষণ মন খারাপ।  অনেক কষ্ট হচ্ছে।

আনিসুল হক অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন , স্বপ্নবান ও অনুপ্রাণিত করার মত মানুষ। আজ বনানীর কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।

আমরা যখন স্কুলে পড়ি তখন থেকে বিনোদন বক্স বলতে বিটিভি। বিটিভি আনন্দমেলা অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ত উপস্থাপক থেকে আমার কাছে ভালোলাগার মানুষ। কেন জানিনা সব সময় মনে হয়ে তিনি মানুষকে সহজেই মোটিভেট করতে পারতেন। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেল পড়ার সময়ে কখনো আনিসুল হক এর সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হয় নি। তিনি তখন পুরোদমে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সময় সুযোগ পেলে তিনি কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে দেখার চেষ্টা করতাম। বিজিএমই , এফবিসিসিআই , সার্ক চেম্বার এর সভাপতির পর ঢাকা উত্তর মেয়র হওয়ার পর দেখা হওয়ার সৌভাগ্য হল ডেনমার্ক এর কোপেনহেগেন শহরে। ২০১৬ সালে জানতে পারলাম ঢাকা উত্তর মেয়র আসবেন কোপেনহেগেন শহরে। ময়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি দেখতে। যেহেতো ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক সেহেতু একটা দায়িত্ব রয়েছে সৌজন্য সাক্ষাৎ না হলে ও বিমান বন্দরে রিসেপশন দেওয়ার। কিনতু এর বাইরে আনিসুল হক এর সাথে আড্ডা দেওয়ার ইচ্ছে। কি করা যায় ভাবতেই মনে আসলো ডাঃ আব্দুন নূর তুষার ভাই এর কথা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আমার বড় ভাই। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে আমার সাথে। আবার তুষার ভাই এর সাথে রয়েছে ঘনিষ্ঠতা আনিসুল হক। তুষার ভাই কে যখন বললাম আনিসুল হক আসবেন ডেনমার্ক। একটু বলবেন আমার কথা , আমি ফোন করবো , এখানকার আমরা একটু সময় নিয়ে আড্ডা দিতে চাই। তিনি ফোন নম্বর দিলেন আমি ফোন করলাম বাংলাদেশে। পরিচয় দিয়ে কথা বললাম , বললেন ডেনমার্ক আসছি দেখা তো হচ্ছে .সময় করা যাবে। যথারীতি ৭ জুন ২০১৬ তিনি ডেনমার্ক কোপেনহাগেন আসলেন। অনেকেই গেলাম বিমান বন্দরে। সবার সাথে ফটোসেশন করলেন। সবাই বিদায় নিয়ে চলে আসার সময় আনিসুল হক পিছন ফিরে বললেন – বিদ্যুৎ সাহেব আপনাকে সময় করে ফোন করবো পরশু , কাল তো ব্যস্ত সিডিউল। এই কথা এখনো কানে বাজে। যথরীতি পিএস মিজান সাহেব ফোন দিলেন , বললেন স্যার আজকে বিকাল ৫ টা থেকে ফ্রি। হোটেল রেডিসন এ বিকাল ৫ টা থেকে ৭ টা আড্ডা দিলাম। লিটল মারমেইড এর স্ট্যাচু এর সুভেনিওর দিলাম , বললেন পছন্দ হয়েছে উপহারটা। এর পরে জানতে চাইলাম , আপনার সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কেন ? পাশাপাশি বললাম আপনার মত অনুপ্রাণিত করার মত মানুষদের রাজনীতিতে আসা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তিনি বললেন , মানবসেবা করার জন্য রাজনীতির মত মহৎপেশা একটাও নেই। চিন্তা শক্তি ও কার্যকর করার ক্ষমতার সমন্বয় এর জন্য রাজনৌতিক পদ মেয়র পদে আসা। আমাদের বললেন প্রতিষ্ঠিত হোন আগে নিজে তারপর আসে পাশের মানুষ , দেশ সবার কথা ভাববেন। খুব মনে পড়ছে আনিস ভাই আপনার কথা।

ভালো থাকবেন।

আপনি তো এই সময়ে অসংখ্য তরুনের স্বপ্নের দিশারী , হিরো।

আজীবন হিরো থাকবেন।

বাংলাদেশ আপনাকে মিস করবে।

ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া

কোপেনহেগেন ,ডেনমার্ক

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.