জার্মানিতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মিলনমেলা

(Last Updated On: ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭)

এমডি রিয়াজ হোসেন,জার্মানির মাইন্স থেকেঃ

বাংলাদেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের নানা জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান। শনিবার জার্মানির মাইন্স নগরীতে জার্মান-বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এতে সভাপতিত্ব করেন জার্মান বাংলাদশ সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি   বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং রাজনীতিক  ইউনুস আলী খান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মান বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সিডিইউ মাইন্স শাখার কার্যকরী পরিষদের সদস্য কার্স্টেন লাংগে এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিডিইউ এর বিশেষ কমিটি সিডিআ’র ফেডারেল কার্যকরী সদস্য গাব্রিয়েলা মুলার, সিডিইউ ভাইজেনাউ এর সভাপতি লুকাস আউগুস্টিন এবং জার্মান যুব ইউনিয়ন এর মাইন্স এর সভাপতি টর্স্টেন রোহে। অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন সাংবাদিক হোসাইন আব্দুল হাই।

জার্মান অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তৃতায় বলেন, স্বাধীনতা কখনই সহজলভ্য কোন জিনিস নয়। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সুরক্ষা করাটাও একই ধরণের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাংলাদেশের বিজয় দিবসে সবার সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করা উচিত প্রকৃত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার উপর গুরুত্ব দেওয়ার, যাতে করে বিশ্বের প্রতিটি দেশে মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত মর্ম এবং তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আসমা খান, সামাজিক সংগঠন ‘শেষ ঠিকানা’র সভাপতি আবু সেলিম, বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান খসরু, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ খসরু খান, কাজী আব্দুল মতিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক জমশেদ আলম রানা এবং মাহবুব হক। সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন ইউরোপের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী কনা ইসলাম, জালাল আবেদীন,  তাহমিনা ফেরদৌসী শিউলী এবং রিয়েল আনোয়ার। কবিতা আবৃত্তি করেন বাবুল তালুকদার, সান্তা গামুলের এবং অলিভার গামুলের ও হোসাইন আব্দুল হাই।

বাংলাদেশ এবং জার্মানির জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবস, বড় দিন এবং নতুন বছরের আগমনের প্রেক্ষাপট ঘিরে বাংলাদেশী এবং জার্মানদের এই মিলনমেলা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭১ সালের বীর শহীদদের, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর শহীদদের এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সেসময় জার্মানির সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

 

সভাপতির বক্তৃতায় ইউনূস আলী খান বিজয় দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সবুজ শ্যামল বাংলাদেশকে পেয়েছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বের বদৌলতে। আর তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্যজনক স্বীকৃতি ও গৌরব অর্জন করছে। তাই বিজয় দিবস সহ বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোকে যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা একইসাথে জার্মান সমাজের কাছে এবং বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং কৃতিত্বের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.