মহিউদ্দিনের দোষটা কি জানতে ইচ্ছে করে

(Last Updated On: ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭)

জয়নাল হাজারী ॥ শুনেছি মহিউদ্দিনের মৃত্যুর খবর শুনে জননেত্রী শেখ হাসিনা অঝোরে কেঁদেছেন। অন্য কান্নার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবো না কিন্তু মহিউদ্দিনের জন্য কান্নাটা তার বুক ফাটা কান্না এতে কোন সন্দেহ নাই। মহিউদ্দিনের প্রতি নেত্রীর কি দরদ ছিল তা আমি আর আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাল করে জানি। আমারও মহিউদ্দিনের জন্য বিগত দিনে নেত্রী যা করেছেন তা পৃথিবীর কোন নেতা তার কর্মীর জন্য করেছেন কিনা তা আমার জানা নাই। আমাদের মৃত্যুসম বিপদ মূহুর্তে তিনি যেভাবে নিজের ঘরে আমাদের লুকিয়ে রেখেছিলেন তা অভূতপূর্ব। প্রতিদিন মহাখালি থেকে ৩২ নম্বরে এসেই প্রথমেই জানতে চাইতেন আমরা খেয়েছি কিনা। পরে বিপদ যখন অনেক বেড়ে গেল তখন আমাদের দুজনকে পাঠিয়েছিলেন আরো দূরে নিরাপদ স্থানে। সকল ব্যবস্থাপনাই করেছিলেন নেত্রী নিজে। হাজারো কাহিনী জমা আছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

সেজন্যই বলছিলাম নেত্রীর এই বুক ফাটা কান্না খুবই স্বাভাবিক। এখন আমার প্রশ্ন বর্তমান মেয়াদে মহিউদ্দিনকে চট্টগ্রামের মেয়রের নমিনেশন দেয়া হয়েছিল এবং নমিনেশন নিয়ে মহিউদ্দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে গেলেন। চট্টগ্রাম গিয়ে ঘরে ঢুকবার পূর্ব মূহুর্তে শুনলেন তার নমিনেশন বাতিল হয়ে গেছে। তার জায়গায় আ.জ .ম নাসিরকে নমিনেশন দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সেই মূহুর্তে মহিউদ্দিনের মানুসিক অবস্থা কি হয়েছিল তা খুব সহজেই অনুমেয়। হৃদরোগে আক্রান্ত এই মানুষটি তখনি মৃত্যুবরণ করতে পারতেন। তবুও দৃঢ় মন বলের অধিকারী এই মানুষটি আরো কয়েক বছর বেঁচে ছিলেন। পরে নির্বাচনের সময় তিনি নাসিরের বিরোধীতা করতে পারেন এই ভয়ে মহিউদ্দিনকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। এখন আমার ছোট্ট প্রশ্ন সেদিন কি দোষে মহিউদ্দিনকে নমিনেশন দিয়েও তা প্রত্যাহার করা হলো? আমি নই মহিউদ্দিন নিজেও জানতে পারলো না কি কারণে তাকে বঞ্চিত করা হলো। আসলে কেউ এখনো তা জানে না। তবে সবাই মনে করে কোন কারণ ছিল না। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীরা যুগে যুগে এভাবেই দেশপ্রেমিকদের শেষ করেছে। মহিউদ্দিনের ক্ষেত্রে যারা ষড়যন্ত্র করে সফল হয়েছে শুধু নেত্রীকে বলব এদেরকে চিহ্নিত করুন। যাতে আর কোন মহিউদ্দিনকে এভাবে চলে যেতে না হয়। ওরা এখনো তৎপর রয়েছে। এই অপতৎপরতা থেকে নেত্রী আপনি সতর্ক থাকুন।

হাজারিকা প্রতিদিন থেকে ।

 

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.