tramp-j salam

সৌদি যুবরাজ সালমানের ‘অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব’ দাবি করেছিলেন ট্রাম্প

(Last Updated On: জানুয়ারি ৬, ২০১৮)

বিবিসি বাংলা ঃ সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হবার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে তার বন্ধুদের বলেছিলেন, তিনি আর তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সৌদি আরবে একটি ‘অভ্যুত্থানের পেছনে’ কলকাঠি নেড়েছেন।

“আমরা আমাদের একজন লোককে শীর্ষ পদে বসিয়েছি” – বলেছিলেন ট্রাম্প।

আমেরিকান সাংবাদিক মাইকেল উলফের বই থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরমহল সম্পর্কে আরো যে সব বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। মি. ট্রাম্প অবশ্য এ বইকে ‘মিথ্যায় ভর্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন।

মি. ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব যান, সেখানে তিনি ১১ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির এক চুক্তি করেন। সৌদিরা সাতে সাত কোটি ডলার খরচ করে ট্রাম্পের সম্মানে এক পার্টি দেয়, ট্রাম্পের পরিবারকে সোনার তৈরি গলফ কার্টে করে বেড়াতে নিয়ে যায়।

তখনকার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের (বইতে তাকে বর্ণনা করা হয়েছে এমবিএন নামে) সাথে কুশনারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু উলফ লিখছেন, মোহাম্মদ বিন সালমান বা ‘এমবিএস’-এর সাথেও কুশনারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমবিএস-কে সে বছর মার্চ মাসে হোয়াইট হাউস সফরে যাবার আমন্ত্রণ জানানো হল.

এমবিএস একে সৌদি রাজপরিবারের ভেতরের ক্ষমতার লড়াইয়ে তার নিজের পক্ষে ব্যবহার করেন। হোয়াইট হাউজ এতে কোন বাধাই দেয় নি।

মোহাম্মদ বিন সালমান মি. ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, কয়েক সপ্তাহ পর মি ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরের সময় চুক্তিগুলোর কথা ঘোষণা করা হবে।

এই সফরের কয়েক সপ্তাহ পরই মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গভীর রাতে আটক করলেন মোহাম্মদ বিন সালমান, তাকে বাধ্য করলেন যুবরাজের পদ ছেড়ে দিতে, এবং সেই পদে আসীন হলেন এমবিএস নিজেই।

ট্রাম্প এ খবর কিভাবে তার বন্ধুদের বলেছিলেন তা বর্ণিত হয়েছে উলফের বই ফায়ার এ্র্যান্ড ফিউরির ২৩১ পৃষ্ঠায়।

মাইকেল উলফের বই থেকে আরো কিছু নতুন তথ্য:

ট্রাম্পের ভয়: কেউ তার খাবারে বিষ মিশিয়ে দিতে পারে

মাইকেল উলফ তার বইতে লিখছেন, হোয়াইট হাউসে তাসার পর মি. ট্রাম্প কড়া নিয়ম চালু করেন যে: স্টাফদের কেউ তার ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দিতে পারবে না, বিশেষ করে তার টুথব্রাশে।

প্রেসিডেন্ট চান তার জিনিসপত্র তিনি যেভাবে ঘরে ফেলে যাবেন তা যেন ঠিক সেভাবেই থাকে। এমনকি ময়লা কাপড়চোপড়ও মেঝেতে ফেলে যান তিনি। এ নিয়মের পেছনেও তার বিষপ্রয়োগের ভয় কাজ করে – বলছেন উলফ।

কেউ তাকে বিষ খাইয়ে দিতে পারে এ ভয়ে তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে খেতে পছন্দ করেন- কারণ কেউ জানবে না যে তিনি কখন সেখানে যাবেন এবং খাবারটাও তখন তখন তৈরি করে দেয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট তার বেডরুমে তালা লাগাতে বলেছিলেন

হোয়াইট হাউসে এসে মি. ট্রাম্প তার ঘরে মোট তিনটি টেলিভিশন দিতে বলেন। চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে তিনি তার শো্বার ঘরের দরজায় তালা লাগাতেও বলেন। এ নিয়ে তার সাথে সিক্রেট সার্ভিসের রেষারেষি হয়েছিল। কারণ তারা চাইছিল তাদের লোকেরা যেন ঘরে ঢুকতে পারে সে সুযোগ থাকতে হবে।

মি. ট্রাম্প হচ্ছেন জন এফ কেনেডির পর প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি তার স্ত্রীর সাথে এক ঘরে থাকেন না, আলাদা শোবার ঘরে থাকেন।

প্রেসিডেন্টের সহকারীরা তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন

উলফের রিপোর্টিংএ দেখা যায়, মি. ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ লোকেরাও তার বুদ্ধিমত্তা এবং দেশের নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তিনি লিখেছেন, প্রত্যেকেই তার নিজের মতো করে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলতেন যেন প্রেসিডেন্টের যথেষ্ট জানাশোনা নেই, এমনকি তিনি তা নিয়ে ভাবেনও না।

একজন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট একটি ‘ইডিয়ট’, আরেকজন বলেছেন, তিনি ‘বিষ্ঠার মতো নির্বোধ’।

কুশনার এবং ইভানকার কাছে এফবিআই ডিরেক্টর কোমি ছিলেন মূর্তিমান আতংক।

উলফ তার বইতে লিখছেন: বাচ্চারা অর্থাৎ ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আতংকিত ছিলেন যে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে এফবিআই যে তদন্ত করছিল – তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে।

তারা ভীত ছিলেন যে এফবিআই এবং বিচারবিভাগের তদন্ত রাশিয়া প্রশ্ন ছাড়িয়ে ট্রাম্প পরিবারের অর্থ-সম্পদের দিকে যাচ্ছে।

মি. কুশনারই নাকি এফবিআই প্রধান জেরেমি কোমিকে সরিয়ে দেবার জন্য চাপ দিচ্ছেলেন, এবং ব্যাপারটা যে মি. ট্রাম্প নিজেই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তার সহকারীদের প্রায় কেউই জানতেন না – লিখছেন উলফ।

বোল্টনের গোঁফ তার পছন্দ ছিল না

জাতিসংঘের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বোল্টনকে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার কথা উঠলেও তার গোঁফের কারণে তা হয় নি।

কারণ স্টিভ ব্যানন বলেছিলেন, “বোল্টনের গোঁফটা একটা সমস্যা। ট্রাম্প মনে করেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপযুক্ত চেহারা নেই” – এক পার্টিতে বলেছিলেন তিনি।

কেকেকে কিসে বিশ্বাস করে ট্রাম্প কি জানতেন না?

শার্লটভিলের ঘটনার পর আগস্ট মাসে বিক্ষোভের সময় মি. ট্রাম্প ‘সব পক্ষের ঘৃণা. গোঁড়ামি, এবং সহিংসতার” নিন্দা করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সংগঠন কু ক্লাক্স ক্লান বা কেকেকে’র নিন্দা না করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

উলফ তার বইতে লিখছেন, ট্রাম্প মনে করতেন কেকেকে সম্ভবত তাদের পুরোনো মতাদর্শে এখন আর বিশ্বাস করে না, বা কিসে বিশ্বাস করে তা কেউ হয়তো জানেই না।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.