ইতালিতে কেনো ‘সিজনাল ভিসা নিষিদ্ধ’ বাংলাদেশ!

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮)

পলাশ রহমান:ইতালিতে প্রতি বছর সিজনাল শ্রমিক আমদানি করা হয়। তাদের ভিসা দেয়া হয় ৯ মাসের জন্য। নিয়ম হলো ন’মাস পরে তারা নিজ দেশে ফিরে যাবে। পরের বছর আবার আসতে চাইলে অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা দেয়া হবে। এ ভাবে অন্তত তিন বার আসা যাওয়ার পর ইতালিতে স্থায়ী ভাবে কাজ এবং বসবাসের জন্য আবেদন করা যাবে। এ নিয়ম চলে আসছে অনেক বছর ধরে।

কোন দেশ থেকে কতো জন সিজনাল শ্রমিক আমদানি করা হবে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। শুরু থেকে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এখন আর বাংলাদেশ থেকে কোনো সিজনাল শ্রমিক ইতালিতে আসতে পারে না। অপরাধ হলো বাংলাদেশিরা সিজনাল ভিসায় ইতালিতে আসে, কিন্তু আর ফিরে যায় না। পরিসংখ্যান বলে ২০১৩ সালের আগে পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক সিজনাল ভিসায় ইতালিতে এসেছে, কিন্তু তারা সময় মতো ফিরে যায়নি। এমনকি তাদের অধিকাংশ ইতালিতে এসে কোনো একটা প্রতিষ্ঠানের অধিনে কাজের নিবন্ধনও করেনি। গোটা ৫০ জন বাদে আর সবাই অবৈধ ভাবে ইতালিতে থেকে গেছে, কেউ কেউ পাড়ি জমিয়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশে।

কেনো বাংলাদেশি শ্রমিকরা সিজনাল ভিসায় ইতালিতে এসে আর ফেরত যায় না? হিসাব সহজ- একজন বাংলাদেশি শ্রমিক ইতালিতে আসতে দালালকে বা তাকে নিয়ে আসা আত্মিয়কে দিতে হয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার খরচ হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এক সিজন কাজ করে, থেকে খেয়ে এই টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয় না, সে পালিয়ে যায়। অথচ মাঝখান থেকে যে ১০/১২ লাখ টাকা নেয় তার খরচ হয় না ১০ টাকাও। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে আসার আগে শতকরা একশ জনই নিয়ত করে আসে আর ফিরবে না। তারা বিশ্বাস করে ইউরোপের কোনো একটা দেশের মাটিতে একবার পা রাখতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান। শুরু হয়ে যায় স্বর্গীয় জীবন। যদিও এখানে আসার দু’দিন পরেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়, কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না।

যেসব প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের আত্মিয় বা পরিচিত জনদের স্পন্স করে বা স্পন্সর জোগাড় করে ইতালিতে নিয়ে আসে তাদের নিয়তেও ঘাপলা থাকে। তারা এখানের বাস্তবতা জানে, কিন্তু যাকে নিয়ে আসে তাকে সত্যি কথা বলে না। তার টার্গেট থাকে টাকা নিয়ে কোনো মতে ইতালিতে এনে ফেলে দিতে পারলেই সে খালাস। এরপর আর কোনো দায় দায়িত্ব তার নেই। কোনো দায়িত্ব পালনও করে না। টাকার বিনিময় নিজের আপন ভাই, খালাতো মামাতো ভাই, ভাইপো, ভাগিনাদের এনে একই ভাবে ছেড়ে দিয়েছে, হকারি করতে, ফুল বিক্রি করতে পাঠিয়েছে এমন শত শত মানুষকে আমি চিনি। এসব নিয়েই এক সময় নিজেদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। হাতাহাতি, মারামারি থেকে শুরু করে মুখ দেখা দেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। কদাচিৎ থানা পুলিশও হয়। এসব ঘটনায় ভুক্তভুগি সাধারণত থানা পুলিশ করে না কারন অর্থ প্রদানের কোনো প্রমান তার কাছে থাকে না। তাছাড়া সে নিজেও যে অবৈধ ভাবে সববাস করছে তাতো সে জানেই।

এসব নতুন বা সিজনাল শ্রমিকদের সবাইকে যে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয় বা হতো তা কিন্তু না, কেউ কেউ তাদের চাকরি দেয়, কেউ কেউ নিজের যোগ্যতায় কোনো না কোনো প্রবাসী বাংলাদেশির খেত খামারে অথবা ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে কাজ জুটিয়ে নেয়। এমনকি ব্যাচেলদের বাসায় রান্না বান্নার কাজ করেও অনেকে জীবন চালানো শুরু করে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.