প্রবাস আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮)

ড.বিদ্যুৎ বড়ুয়া: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সমসাময়িক  বিশ্বে আলোচিত রাষ্ট্র নায়ক। নিপীড়িত নির্যাতিত ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের  খাদ্য , বস্ত্র ,অন্ন  সহ  আশ্রয় দিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবতার নেত্রী  হিসেবেই খ্যাত।  মানবিক গুনের অধিকারী তিনি জন্মসূত্রেই।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনক  বঙ্গবনধু আজীবন শোষিত নির্যাতিতদের জন্য লড়াই করেছেন।কোন কোন দেশ কখনো কখনো নেতা দলমত নির্বিশেষে সকলের হয়ে যান।  তার অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় সবার উপরে। দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য ,দেশের যাবতীয় ভালোর জন্য শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। যেমন ভারতের স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহেরু , সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ,আধুনিক মালেশিয়ার মাহাথির  এমনকি রাজতন্ত্রের থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবলও । এমন আরো অনেক  উদাহরন ইতিহাস  সাক্ষী বহন করে।  কোন দেশের জনগণের জন্য এই ধরণের নেতা পাওয়া যে কত বড় বিষয় তা ঠিক প্রকাশের নয় উপলব্ধির।

আজকের পৃথিবীর অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি ভারতের মূল রূপকার জওহরলাল নেহেরু এ কথা ভারতের দলমত নির্বিশেষে  সকলে স্বীকার করেন। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন তার দেশের মানুষ তাকে অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছিল। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর , থাইল্যান্ড , মালেশিয়ার সাধারণ জনগণের কাছে একই ধরণের উত্তর পাওয়া যায়। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন , নেক্সট টু গড। এই দেশ গুলোর জনগণের সচেতনতায় মুগধ  হতে হয়।  জওহরলাল নেহেরু যতদিন বেঁচে ছিলেন জনগণ তার হাতেই ক্ষমতা দিয়ে রেখেছিল। মাহাথির , লি কুয়ান  নিজে অবসর না নেয়া অবধি জনগণ তাদের হাতেই ক্ষমতা দিয়ে রেখেছিল।.থাইল্যান্ডের রাজার মৃত্যুর পরেও পৃথিবী দেখেছে তার অবস্থা ছিল সে দেশে ঈশ্বরের পরেই। অনেক  চড়াই উৎরাই পেরিয়ে , অনেক রক্ত ও সামরিক ব্যাটনের পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আজ সেই সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছে। স্বাধীনতার চারদশক পরে এমন একজন নেতা পেয়েছে যার অবস্থা সবার উপরে।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ  শক্তির প্রাণ ভোমরা ,  প্রগতিশীল শক্তির ভ্যানগার্ড  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে অনেক বার হত্যা ষডযন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়।  ২০০৪ সালে ২১ শে অগাস্ট  গ্রেনেড হামলার নির্মমতা ছিল ভয়াবহ।  দিনদুপুরে সেই সময়ে বিএনপি জামাত ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে উপর্যুপরি গ্রেনেড ও গুলি করে হত্যা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের মানব বলয় সেইদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনা বেঁচে যান।  কিন্তু ঘাতকদের পরিকল্পনা  থেমে নাই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও বিমান এর  ত্রূটি  এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে জঙ্গি আস্তানা  ,    প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর  অনবরত ও অবিরাম চেষ্টা শেখ হাসিনাকে  হত্যা পরিকল্পনার কথাই মনে করিয়ে দে।  কারণ  প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এর প্লাটফর্ম বিএনপি জামাত জানে  শেখ হাসিনা জীবিত অবস্থায়  তাদের দেশবিরোধী কোন পরিকল্পনা সফল হবে না।

দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশকে যেমন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তেমনি সাধারণ মানুষের আবেগের ও প্রশান্তির জায়গাগুলো শ্রদ্ধার সাথে  পূরণ  করছেন।  ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর  বাংলাদেশে রাজনীতির কালো অধ্যায় সূচিত হয়েছিল।  বন্দুকের  নলে  ক্ষমতা নেয়া জেনারেল জিয়া নিজের ক্ষমতা পোক্ত করার জন্য সকল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী , পাকিস্তানি ভাবধারা কায়েম করা  ,   মা বোনের সম্ভ্রম হানিকারী রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধীদের   প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বাংলার মাঠিতে। শুধু তাই নয়  জিয়া সরকার  জাতির পিতা বঙ্গবনধু শেখ মুজিব ও তার পরিবারবর্গের হত্যাকারীদের বিচার না করার জন্য ইনডেমনিটি বিল করেছিলেন। শুধু তাই নয় প্রবাসে এই সব হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করে  বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ দেন।  পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতা বঙ্গবনধু  শেখ মুজিবর রহমানের  হত্যাকারীদের বিচার করে।   দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর স্বাধীনতা অর্জনের  ৪০ বছর পর   বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী  গোলাম আজম, সাঈদী , নিজামী , সাকা , মুজাহিদ ,মীর কাশেম ও কাদের মোল্লাদের বিচারের রায় কার্যকর   করেন । সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা  বাস্তবায়িত হয়।

সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতে এই সব হন্তারকের দল  দেশে বিদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  হত্যা করতে  সারাক্ষন ওঁৎ পেতে থাকে। কিনতু বাংলাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার  কঠোরতার কারণে দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকটা  নিরাপদ। কিনতু প্রবাসে আওয়ামী লীগ যারা করেন তাদের অনেকের বাংলাদেশে থাকাকালীন কোন আদর্শে বলীয়ান ছিল তা অজানা থেকে যায়।  তাই কর্মী বা নেতা হিসেবে কতটা নিরাপদ তা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ।  তাই নিরাপত্তার বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়া প্রবাসে আওয়ামী লীগ এর সমর্থক এর সংখ্যা ও ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিছুটা বৃদ্ধি পেলে ও ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এই সংখ্যা অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।  প্রবাসে যার যার দেশে  বাংলাদেশের মানুষের কাছে নিজেদের মর্যাদা বাড়ানোর জন্য সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ অনুমোদনের বাইরে  স্বঘোষিত কমিটি করে আওয়ামী লীগ এর কার্যক্রম করছেন।  সেই ক্ষেত্রে বিএনপি জামাত এর  অনেকেই  এই সুযোগে আওয়ামী লীগ এর সাথে মিশে রয়েছে।  বিএনপির  মূল মাস্টারমাইন্ড তারেক জিয়া , বঙ্গবনধুর খুনী কয়েকজন  , রায় কার্যকৃত খুনিদের ও  এছাড়া শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা প্রবাসে অবস্থান করে। মাঝে মাঝে বাংলাদেশের শীর্ষ দৈনিক সংবাদ পত্রিকায়  শিরোনাম হতে দেখা যায়    বঙ্গবনধুর খুনী ডালিম কে স্পেন এর বার্সিলোনায় দেখা গেছে।  এছাড়া জার্মান এ বঙ্গবনধুর খুনীদের অন্যতম মোসলেহউদ্দিন সহ  অন্ন্যান্যদের  অবাধ বিচরণ।  সুইডেন এ রয়েছে যুদ্ধাপরাধী  খোকন রাজাকার সহ কিছুদিন আগে  শিরোনাম হওয়া  ছাত্রদল নেতা নাহিদ।  এছাড়া লন্ডনে যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মাইনুদ্দিন সহ  সাকা চৌধুরীর পরিবার।সম্প্রতি লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনে  বিএনপি জামাত গংদের হামলা , জাতির জনক এর ছবির অবমাননা প্রমান করে সুযোগের অপেক্ষায়  এরা কত হিংস্র হতে পারে।

এছাড়া লন্ডন এ মাঝে মাঝে তারেক জিয়ার সাথে পাকিস্তানি এজেন্ট আইএসআই  এর সাথে বৈঠক এর খবর চিন্তার বিষয়।  বাংলাদেশের চেয়ে প্রবাসে  আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা ও দেশ বিরোধী ষডযন্ত্রকারীরা   অবাধে চলাচল ও যোগযোগ করতে সক্ষম ও সক্রিয়। প্রবাসে আওয়ামী লীগ এর বিভিন্ন দেশের অন্তর্দলীয় গ্রূপিং এর ফলে জামাত বিএনপির লোকজন এই সুযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ষডযন্ত্রকারীদের অংশ  হতে পারে। এখন সবাই আওয়ামী লীগ প্রবাসে ও দেশে।  আমরা একটু পিছনের দিকে  খেয়াল করলেই  দেখি ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবনধু কে হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বেলজিয়াম এর রাষ্ট্রদূত সানাউল্লাহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা কে একমুহূর্ত তাদের রাখতে  অস্বীকৃতি জানায়।  উল্লেখ শেখ হাসিনা , শেখ রেহানা ও মরহুম  ওয়াজেদ মিয়া  তৎকালীন বেলজিয়াম রাষ্ট্রদূত সানাউল্লাহ এর আমন্ত্রণে জার্মান থেকে বেলজিয়াম গিয়েছিলেন। ।এই সব সানাউল্লাহ দের মত সুযোগ সন্ধানী আওয়ামী লীগে এখন অনেক।  আজকাল প্রবাসে  আওয়ামী লীগে  হাইব্রিড , অন্যদলের এজেন্ট হয়ে সুযোগ সন্ধানী হয়ে অনেক জামাত বিএনপি রয়েছে।  তাই প্রবাসে আওয়ামী লীগ এর নেতা কর্মীদের মনিটরিং  প্রয়োজন এবং সংগঠনে  নতুন কাউকে  সদস্য করার আগে যথাযথ তথ্য জানা দরকার। বিদেশ সফরের সময়  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ও আওয়ামী লীগ এর রং মাখা নব্য আওয়ামী লীগ যারা নাকি বিএনপি ও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের কেউ যাতে ঢুকতে না পারে সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ড.বিদ্যুৎ বড়ুয়া

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও

সাবেক ভিপি , ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদ

সাধারণ সম্পাদক , ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ

drbbaruabd@gmail.com

 

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.