দূতাবাসের অবহেলায় রোমের শহীদ মিনার পরিত্যক্ত !

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮)

ইতালি প্রতিনিধিঃ  দেশের সীমানে পেরিয়ে প্রবাসেও এখন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদযাপন করা হয়  আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস অমর একুশে। ইউরোপের দেশ গুলোও পিছিয়ে নেই এ থেকে। যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে ভাষা দিবস। ইউরোপিয়ান দেশগুলির মধ্যে ইউকের পর প্রথম এবং  দ্বিতীয় স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয় ইতালিতে।

সঠিক পরিচর্যা  ও তদারকির অভাবে যার ২টিই এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বলা যায়। বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয় চরম অবহেলার পরিচয় দিয়ে আসছে । রাজনৈতিক ও সামজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস কর্তাদের সরব উপস্থিতি থাকলেও শহীদ মিনার বিষয়ে বেশ নিরব ।

দূতাবাসের মত এখানে একই অবস্থান আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্যান্য সংগঠন গুলোর। এদেরও কোন নজর নেই এই দুই শহীদ মিনারের প্রতি ।

ইতালিতে স্থায়ীভাবে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের পাড়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বারিতে ২০১০ সালে স্থানীয় প্রবাসের উদ্যোগে । এরপর ২০১১ সালে রাজধানী রোমের পারিওলিতে লারগো বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ চত্বরের পাশে নির্মিত হয় তৈরি  দ্বিতীয় স্থায়ী শহীদ মিনার।

রোমের স্থায়ী শহীদ মিনারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ২০১১ সালে এবং সে বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করেন ততকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি। এর দুই দিন পর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে ওই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনায় অংশ নেন ইতালি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস স্টেফানিয়া গ্যাব্রিয়েলা অ্যানাস্তাসিয়া ক্র্যাক্সি। ঢাকার জাতীয় শহীদ মিনারটির একই আদলে তৈরি হয় রোমের শহীদ মিনার। এর নকশায় মাঝের স্তম্ভ¢টিতে রয়েছে বাংলায় ‘মা’ কথাটি খোদাই করা লেখা। এই নকশার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, শহীদ মিনারে বিশ্বের ৫০৭টি ভাষার নাম লেখা আছে।

অন্যদিকে বারি‘র এই শহীদ মিনার ২০০৮ সালে নির্মানের অনুমতি মেলে এবং বরাদ্দকৃত স্থান লারগো দু যোন পার্কে দুই বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। যা ২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ততকালীন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে বারি শহরের স্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের সম্মান জানানোর অবস্থা থাকলেও রোমের স্থায়ী শহীদ মিনারে প্রায় ৪ বছর ধরে শহীদদের সম্মান জানানো হচ্ছে না। অন্য একটি পার্কো অস্থায়ী শহীদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারী উদযাপন করে দূতবাস থেকে ।

দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্যি দুইটি স্থায়ী শহীদ মিনারই সঠিক পরিচচ্চার অভাবে প্রায় ধ্বংশের মুখে।

রোমের বাংলাদেশীদের অহংকার করা ভাষা আন্দোলনের নিদর্শন সম্মান জানানো পরিবর্তে পরে আছে  পরিত্যাক্ত অবস্থায়।

এ অবস্থা থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি প্রবাসীদের আহ্বান যতদ্রুত সম্ভব এই শহীদ মিনারকে রক্ষা করার।এ ব্যাপারে বাংলাদেশের  রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন সময় বলেছেন আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তবে পুনরায় যায়গা নির্ধারন একটু সময়ের ব্যাপার।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.