ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন ৪ মার্চ

(Last Updated On: মার্চ ৩, ২০১৮)

ইতালি জুড়ে এখন বইছে ভোটের হাওয়া। অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যেই  ৪ মার্চ (রোববার) দেশটিতে ২ কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চার বছর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভি বার্লুসকোনির পর মারিও মন্তি, এনরিকো লেত্তা, মাত্তেও রেন্সি  সর্বশেষ পাওলো জেনতিলিনিনিসহ ৪ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে দেশটিতে। তবে তাদের একজনও নির্বাচিত ছিলেন না।  এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি এর আগে কখনও ইতালি। ইতালিতে বরাবরেই অস্থির সরকার ব্যবস্থা বিরাজ করে । ৭৩ বছরের ইতালিতে ৭২ টি সরকারটি গঠিত হয়েছে। এ বছরের নির্বাচনেও কোন দল এবং জোট এককভাবে ক্ষ্মতায় আসার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে সব জরিপে দেখা গেছে , ধারনা করা যায় আরেক ঝুলন্ত সংসদ ও সরকার  আসছে ইতালিতে । মধ্য বামপন্থী( PD)মাত্তেও রেন্সির জোট , কট্টর ডানপন্থী  সাল্ভানি( Lega Nord)  সাথে জোটে আছে বার্লুসকোনির(Forza Italia)। এ দুই জোটের  বাহিরে আছে  ৩য় শক্তি লুইজির মোভিমেন্তো ৫ ইস্তেল্লা ( M5S) ।

ইতোমধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রতীক বন্টনও শেষ হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে জনগণের মধ্যে ততই ভোটের আমেজ দেখা যাচ্ছে। ইলেক্ট্রোরাল পদ্ধতিতে এবার এক সঙ্গে দুটি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাতীয় এবং অন্যটি আঞ্চলিক নির্বাচন।

জাতীয় নির্বাচনে উচ্চ কক্ষ (সিনেট) ও নিম্ম কক্ষ (ডেপুটি)তে  দলীয় প্রতিকে( লগো) কলম বা পেন্সিল দিয়ে ক্রস(x)  দিয়ে এবং আঞ্চলিক সরকার ( কয়েক টি প্রভিন্স মিলে) নির্বাচনে দলীয় মনোনিত প্রার্থীকে তার নামের উপর ক্রস(x) দিয়ে ভোট দিতে হয় । ভোট প্রাপ্তির অনুপাতে দল ও জোট আসন লাভ করবে ।

 ইতিপূর্বে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহন করা হয়েছে দিন রোববার ও সোমবার , তবে এবার শুধুমাত্র রোববার ছুটির দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ।

স্থানীয় সংবাদ সূত্রে জানা যায় রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভোটাররা নিজ নিজ  ভোট দিতে পারবেন।

অন্য দেশে অবস্থানকারী ইতালিয়ান নাগরিকরা দূতাবাসে গিয়ে ভোট প্রদান করেছেন ।

এ নির্বাচন প্রসঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ইতালিয়ান নাগরিক ও ভেনিস-বাংলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ কামরুল সারোয়ার বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য একটি ভাগ্য পরীক্ষা। কারণ ডানপন্থী দলগুলো কখনই অভিবাসীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করে না। যতটুকু পারে তাড়ানোর চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে ডানপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেলু’সকনি ঘোষনা দিয়েছেন তার দল ফরজা ইতালিয়া ক্ষমতায় আসলে ৬ লাখ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে এবং যে সমস্থ মহিলারা বেকার, গৃহিনী তাদের এক হাজার ইউরো দিয়ে সহযোগিতা করবেন। তাই তিনি বামপন্থী দলগুলোকে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ বামপন্থি দলগুলো অভিবাসীদের জন্য সুখে দুঃখে কাজ করে।

অভিবাসী থেকে ইতালিয়ান হওয়াদের ভোট মধ্য বামপন্থী পিডি(PD) পাবে সিংহভাগ ।

ইতালির পার্লামেন্ট উচ্চ ও নিম্ন কক্ষ এই দুই ভাগে বিভক্ত। নিম্ন কক্ষের আসন সংখ্যা ৬৩০ এবং উচ্চ কক্ষ ৩১৫। যাদের বয়স আঠারো ঊর্ধ্বে তারা জাতীয় নির্বাচনে শুধুমাত্র নিম্ন কক্ষের জন্য ভোট দিতে পারবেন। আর ২৫ ঊর্ধ্বরা উচ্চ কক্ষের জন্য ভোট দিতে পারবেন। উভয় সংসদ মিলে মোট আসন সংখ্যা ৯৪৫। নিম্ন কক্ষের আসন সংখ্যা ৬৩০ আসনের মধ্যে ইতালির ভিতরের ভোটে ৬১৮ এবং অন্য দেশে অবস্থানরত ইতালিয়ানদের ভোটের হিসেবে ১২ জন সাংসদ নির্বাচন করা হবে । অন্য দিকে উচ্চ কক্ষ ৩১৫ ইতালির ভিতরের ভোটে ৩০৯ এবং অন্য দেশে অবস্থানরত ইতালিয়ানদের ভোটের হিসেবে ৬ জন সিনেট  নির্বাচন করা হবে ।

ইউরোপ এখন ইতালির  নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। কে হাল ধরবেন ইতালির। কে হবেন ইতালি জনগনের পরবতী’অভিভাবক।

উল্লেখ্য ওয়াল্ডওমেটারসের একটি জরিপে দেখা যায় ইতালির বত’মান জনসংখ্যা ৫ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ৯শ ৮২। এর আগে ২০১৩ সালে সাধারণ নির্বাচনে ভোটার যোগ্য সংখ্যা ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৯শ ঊনাশি। এরমধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ ৮৮ হাজার ১শ সত্তর জন নারী এবং ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬১ হাজার ৮শ নয় জন পুরুষ  ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.