কে এই হামলাকারী?

(Last Updated On: মার্চ ১৮, ২০১৮)

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতকারীর পরিচয় মিলেছে। তার নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুর রহমান। তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। ঘটনার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছেন।
গতকাল বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় শেখপাড়ার বাসায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাসাটি তালাবদ্ধ। কুমারগাঁও বাসস্টেশনের দুজন প্রত্যক্ষদর্শী ফয়জুলের পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে চলে যেতে দেখেছেন। তারা কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘মেডিকেলে যাচ্ছি।’
এলাকাবাসী জানান, ফয়জুল মাদ্রাসাশিক্ষার্থী বলে এলাকায় পরিচয় দিতেন। তবে কোন মাদ্রাসায় পড়েনÑ এ বিষয়ে এলাকার কেউ কিছু জানাতে পারেননি। ফয়জুলের বাবা মাওলানা হাফিজুর রহমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী টুকেরবাজারে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। রাত ৯টার দিকে হাফিজুরের মুঠোফোনে ফোন দিলে ওপাশ থেকে কেউ ফোন ধরেননি। এরপর ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানায়নি।
এদিকে হামলাকারীকে আটক করে শিক্ষার্থীরা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তার অবস্থাও গুরুতর। সন্ধ্যার পরে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গেছে।
এদিকে পুলিশের সন্দেহ হামলাকারী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হতে পারে। এই যুবকের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ জোনের সহকারী কমিশনার মুনাদির ইসলাম চৌধুরী জানান, ড. জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাতকারী তরুণকে হামলার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ধরে ফেলেন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাকে ধরার পর বেদম মারধর করেন। ফলে সে অচেতন অবস্থায় আছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা হামলাকারী যুবক প্রশিক্ষিত হতে পারে। হামলার ধরন থেকে এমনটাই মনে হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, র‌্যাবসহ একাধিক সংস্থা মাঠে নেমেছে। ঢাকা থেকে রওনা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের একটি টিম।
জানা গেছে, ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার বেশ আগে থেকেই হামলাকারী যুবক তার পেছনেই দাঁড়িয়েছিল। ঘটনার পরপরই তাকে আটক করা হয়। বৃষ্টির আশঙ্কায় সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান ৫ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। ঠিক এই সময়েই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়। ওই বিরতির সময় জাফর ইকবালের পেছনে একটি হট্টগোল হয়েছিল। এর পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীর সংখ্যা ২ থেকে ৩ জন। তাদের সবাই তরুণ।

http://www.dainikamadershomoy.com

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.