নির্যাতনের পর স্কুলের সেপটিক ট্যাংকে ছাত্রীকে ফেলে দিলেন দপ্তরি!

(Last Updated On: মার্চ ১১, ২০১৮)

হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে ৯ বছরের মেয়েকে উদ্ধার করেছে বাবা। কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার জন্য ওই সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।

রোববার (১১ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করে। তারা ওই দপ্তরিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

২ নম্বর ধলই ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য সুলতানা রিজিয়া জানান, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশাপাশি। তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ভাইকে ভুট্টা দিতে যায়। এ সময় তৃতীয় শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে সঙ্গে দেন শ্রেণিশিক্ষক। ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাবে বলে আপন চন্দ্র নামের এক দপ্তরি ওই ছাত্রীকে দোতলায় নিয়ে যান। পরে শিক্ষিকাসহ খুঁজতে যান। দপ্তরিকে ফোন দিয়ে ছাত্রীর কথা জানতে চাইলে বলেন, বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু বাড়িতে যায়নি। খবর পেয়ে বাবা ছুটে আসে। সবাই খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে সেপটিক ট্যাংকে গোঙানির শব্দ শোনা যায়। সবাই রশি আনতে ছুটে যান। কিন্তু মেয়েটির বাবা রশি ছাড়াই মেয়েকে বাঁচাতে ট্যাংকে নেমে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যান।

কাঠিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আমি শিক্ষা মেলার দায়িত্বে ছিলাম। তাই আজ স্কুলে যাইনি। অন্য শিক্ষকরা আমাকে টেলিফোনে খবর দিলে আমি দ্রুত চমেক হাসপাতালে ছুটে আসি। মেয়েটির মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে চতুর্থ তলার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার  জানান, বিকেলে কাটিরহাট থেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় আনা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ মেয়েটিকে স্কুলের দপ্তরি নির্যাতনের পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল।

কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মকসুদ আহমদ বলেন, আমরা দোষী দপ্তরি আপন চন্দ্রকে পুলিশে সোপর্দকরেছি। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলানিউজ।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.