ধর্ষিতার পরিবারের সবাইকে আটকে রেখেছে ধর্ষক

(Last Updated On: মার্চ ১২, ২০১৮)

আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা গ্রামে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর পরিবারকে আটকে রেখেছে প্রভাবশালী ধর্ষক ও তার লোকজনেরা! তারা অসুস্থ কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছে না বলে মেয়েটির পরিবারের এক সদস্য ইত্তেফাককে জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেনীর ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল স্থানীয় কাশেম (৫০)। মেয়েটির মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য মেয়েটির বাবা প্রায়ই হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। সে সময় মেয়েটি একা থাকতো বাড়িতে। কাশেম সে সুযোগে মেয়েটিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে এসেছে।

মেয়েটি সে কথা কাউকে বললে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে মেয়েটিকে ভয়-ভীতি প্রদর্শণ করে এসেছে। সে ভয়ে এতদিন মেয়েটি কাউকে কিছু বলেনি।

কিন্তু সম্প্রতি মেয়েটির গর্ভে বাচ্চার অস্তিত্ব ধরা পড়লে মেয়েটিকে দরিদ্র বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত ঘটায় কাশেম। গত শনিবার হরিনাকুন্ডু সদর হাসপাতালে গর্ভপাত ঘটাতে গেল অপরিণত জীবীত শিশু জন্ম নেয়। কিন্তু মায়ের কোল থেকে জীবিত কন্যা শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কাশেমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান। হাসপাতালে তিনজন নার্স এ কাজে মনিরুজ্জামানকে সহযোগীতা করে বলে জানা গেছে।

অসুস্থ মেয়েটির সঙ্গে কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে মেয়েটি জানায়, গর্ভপাতের পর তাকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। প্রচুর রক্তক্ষরনে অসুস্থ মেয়েটি বাড়িতে স্যালাইনের ওপর ভরসা করে চিকিৎসা নিচ্ছে।

নির্যাতিতা মেয়েটির মা মোবাইলে জানান, স্বামীর বন্ধু হিসেবে একই গ্রামের ইব্রাহীম আলীর ছেলে কাশেম তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। প্রায় ৯ মাস আগে চিকিৎসার জন্য তারা স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলে তার মেয়ে দাদির সাথে বাড়িতে একা ছিল। ওই রাতেই কাশেম গলা টিপে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তার মেয়ের সর্বনাশ করে। অতটুকু মেয়ে কাশেমের ভয়ে মুখ ফুটে তাকে কিছু জানায় নি।

নির্যাতিতা মেয়ের বাবা আজমত আলী জানান, আমরা অত্যন্ত গরিব। গ্রামে আমাদের কেউ নেই বললেই চলে। প্রভাবশালী কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামান লোকজন দিয়ে আামদেরকে বাড়ির ভেতর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারছি না। গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে স্যালাইন দিয়ে মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছি না।

তিয়রবিলা পুলিশ ক্যাম্পের আইসি মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, সব শুনেছি ও দেখেছি। কিন্তু তারা আইনের আশ্রয় না নিলে তো আমরা কিছু করতে পারছি না।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সতত্যা স্বীকার করে জানান, নির্যাতিত পরিবারটি আইনের আশ্রয় নিতে পারে।

গ্রামের একাধিক সূত্র জানায়, প্রভাবশালী আবুল কাশেম গ্রামের কয়েকজনকে ঘটনা মীমাংসা করে ফেলতে নিযুক্ত করেছে। মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন আজমত আলীর বাড়িতে পাহারা বসিয়েছে যাতে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আইনের আশ্রয় না নিতে পারে।

ইত্তেফাক/

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.