পাইলটের অনুরোধ রাখেনি কন্ট্রোল রুম (পাইলটের শেষ অডিও রেকর্ড)

(Last Updated On: মার্চ ১৩, ২০১৮)

ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধশতাধিক আরোহী নিহত হয়েছেন।

বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে পাইলটকে অবতরণের ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমনই আভাস পাওয়া গেছে। বিমানটি কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস। নেপালি এ দৈনিক বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট।

অডিও রেকর্ডের শুরুতে শোনা যায়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে সিগন্যাল না পাওয়ায় প্রায় আধঘণ্টা আকাশেই ঘুরছিল ইউএস বাংলা বিএস২১১ বিমানটি। রানওয়ে ০২-এ অবতরণের চেষ্টা করছিলেন বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। তবে বারবারই কন্ট্রোল রুম থেকে বিমানটিকে অবতরণের জন্য নিষেধ করা হচ্ছিল। বারবার বলা হচ্ছিল, ‘হোল্ড।’

পাইলট আবিদ সুলতান বলছিলেন, ‘আমি ডান দিকে যাচ্ছি।’ ঘুরতে থাকা সময়ের ২৫ মিনিটের শেষ দিকে এটিসি থেকে বলা হচ্ছিল, ‘রানওয়ে ক্লোজড।’ একপর্যায়ে কোনো উপায় না পেয়েই বিমানটি অবতরণ করাতে বাধ্য হন পাইলট।

এদিকে, বিধ্বস্ত বিমানটির নেপালি এক যাত্রী বলেছেন, ঢাকা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বিমানটি উড্ডয়ন করে। কিন্তু কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় এটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।

সিভিল এভিয়েশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নেপালের এটিসি সিস্টেম পৃথিবীর সবেচেয়ে দুর্বল। কেবল এ কারণে গত সাত বছরে ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

৭১ আরোহী নিয়ে ইউএস-বাংলা নেপালের বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায়

বাংলাদেশের বেসরকারি মালিকানা-ধীন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়ে নারী-শিশুসহ কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন ছিল যাত্রী, বাকি চারজন ক্রু। পাইলট-ক্রুসহ আরোহীদের ৩৬ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালের এবং একজন করে যাত্রী ছিল চীন ও মালদ্বীপের। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গত রাত সাড়ে ১০টায় জানিয়েছেন, ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জন কাঠমাণ্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ২৫ জন বেঁচে নেই। বাকি দুজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

নেপালের স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয় ও আগুন ধরে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে বিমানবন্দরের উদ্ধারকারী দল, নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্স ছুটে যায়। দুর্ঘটনার পর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রাডারের ভুল সিগন্যাল পেয়ে পাইলট উড়োজাহাজ অবতরণ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আজ নেপাল যাবেন।

উড়োজাহাজটি ছিল দুই ইঞ্জিনের টার্বোপ্রোপ ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের। ইউএস-বাংলার এই ফ্লাইট বিএস ২১১ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়। বাংলাদেশি ৩৬ জনের মধ্যে বিমানের ক্যাপ্টেন আবিব সুলতান মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ ও কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মারা গেছেন। সাফি সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। একটি সূত্র জানায়, পাইলট আবিব সুলতান অন্য একটি বিমান সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য গত রবিবার ইউএস বাংলার চাকরিতে ইস্তফা দেন। কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিনি গতকাল ফ্লাইট নিয়ে কাঠমাণ্ডু যান।

নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় খবরের কাগজ কাঠমাণ্ডু পোস্ট লিখেছে, উড়োজাহাজটি ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল রানওয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে। কিন্তু সেটি নামার চেষ্টা করে উত্তর দিক দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতায় পড়েছিলেন। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় সেটি।

বিমানের যাত্রীদের মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রগ্রাম অফিসার সানজিদা হক বিপাশা, তাঁর স্বামী রফিক জামান ও তাঁদের শিশুসন্তান অনিরুদ্ধ জামান বেঁচে নেই। বিধ্বস্ত বিমান থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের কাছে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। যাত্রী ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের এফ এইচ প্রিয়ক, তাঁর স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি ও তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তান তামারা প্রিয়ন্ময়ী এবং তাঁদের সঙ্গী ছিলেন প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদি হাসান মাসুম অমিয় ও অমিয়র স্ত্রী সাঈদা কামরুন নাহার স্বর্ণা। প্রিয়ক ও তাঁর শিশুসন্তান মারা গেছেন। কামরুন নাহার আহত হলেও আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

আরেক দম্পতি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার রেজওয়ানুল হক শাওন ও তাঁর স্ত্রী তাহেরা তানভীন শশী রেজা। তাঁদের মধ্যে শশী মারা গেছেন। তাঁদের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার গোপালপুরে। যাত্রী রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসি বেঁচে থাকলেও তাঁর স্বামী ক্যাফালো বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রকিবুল হাসান মারা গেছেন। যাত্রী ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী ও উম্মে সালমা। তাঁরা কেউই বেঁচে নেই। সরকারি এক সেমিনারে অংশ নিতে তাঁরা নেপাল যাচ্ছিলেন। বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনিও বেঁচে নেই। গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী পিয়াস রায়ও মারা গেছেন।

আরো মারা গেছেন হাসান ইমাম, বেগম নুরুন্নাহার বিলকিস বানু, মো. নজরুল ইসলাম, আখতারা বেগম, বিলকিস আরা, আলিফুজ্জামান, ইয়াকুব আলী, মিনহাজ বিন নাসির, আখি মনি, এস এম মাহবুবুর রহমান, মো. মতিউর রহমান ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। যাঁরা জীবিত আছেন বলে জানা গেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাহরীন আহমেদ, শাহীন বেপারী, কবির হোসাইন, শেখ রাশেদ রুবায়েত।

সিগন্যালের ভুলে দুর্ঘটনা? : কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দরের টাওয়ারের ভুল মেসেজের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের পাইলট ও টাওয়ারের তিন মিনিটের কনভারসেশন (কথাবার্তা) পাওয়া গেছে। সেখানে পাইলটকে টাওয়ার থেকে ভুল বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে। বৈমানিকদের দিক থেকে কোনো গাফিলতি ছিল না।’

এর আগে ইউএস-বাংলার জিএম (মার্কেটিং) কামরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তাঁদের দুজন কর্মকর্তা নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছেন। আহতদের নেপালের চারটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তিন বছরে ৩৬ হাজার ফ্লাইট আমরা পরিচালনা করেছি। এর আগে এমন কখনো হয়নি।’

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য : নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গোকুল ভাণ্ডারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৯ জনের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউকে জীবিত উদ্ধার করার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কারণ উড়োজাহাজটি ভয়াবহভাবে পুড়ে গেছে।’

এর আগে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র মনোজ নুপেন প্রাথমিকভাবে ৪০ জনের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো ৯ জন মারা গেছে। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুরেশ আচার্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থেকে ১৭ যাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুরের বরাত দিয়ে নেপালের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিমালয়ান জানায়, উড়োজাহাজটি থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করে কাঠমাণ্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে আটজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

স্বজনদের শোক, উৎকণ্ঠা : রাজধানীর উত্তরখানের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী কবির হোসেন ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন। তাঁর ছেলে শাওন সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বারিধারা সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ে ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, টেলিভিশনে বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়ে তিনি নেপালে তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই আত্মীয় তাঁকে জানিয়েছেন তাঁর বাবা কবির হোসেন আহত হয়ে নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাবার দুই ব্যবসায়ী অংশীজনও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ইউএস-বাংলার কার্যালয়ের আবুল কালাম আজাদ নামের একজন জানান, তাঁর বোন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা উম্মে সালমা ওই ফ্লাইটে ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বোনের সম্পর্কে সঠিক খবর জানতে পারেননি তিনি।

‘ভাগ্যক্রমে বেঁচে আছি’ : ‘জানালার পাশেই ছিল আমার আসন। কাচ ভেঙে আমি বেরিয়ে আসি।’ নেপালি যাত্রী বহোরা জানিয়েছেন এ কথা। উড়োজাহাজে থাকা ওই যাত্রীর বরাত দিয়ে কাঠমাণ্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, তিনিসহ ১৬ জন নেপালের বিভিন্ন ট্রাভেল সংস্থার হয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের সময় স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কাঠমাণ্ডুতে অবতরণের সময় এটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে উড়োজাহাজটি ঝাঁকুনি খেতে থাকে এবং এর পরপরই বিকট শব্দ হয়। স্থানীয় থাপাথালিভিত্তিক নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। বহোরা আরো বলেন, ‘উড়োজাহাজটি থেকে বেরিয়ে আসার পর আমি আর কিছু মনে করতে পারিনি। কেউ একজন আমাকে সিনামঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে আমার বন্ধুরা নরভিক হাসপাতালে নিয়ে আসে।’ তাঁর মাথায় ও পায়ে আঘাত লেগেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা : আর্নিকো পাণ্ডে নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নেপালের সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকাকে বলেছেন, রানওয়েতে বাঁক নেওয়ার সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘আমি সংযোগ সড়কে ছিলাম। দেখলাম, উড়োজাহাজটি টার্মিনালকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ দিকে দ্রুত বাঁক নিল। এর পরই রানওয়ে থেকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ বিশালাকারে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এর আগে খুব নিচে দিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের ওপর উড়োজাহাজটি চক্কর দিচ্ছিল।

হটলাইন চালু : দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যের জন্য সরকার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে হটলাইন চালু করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হটলাইনের নম্বর : +৮৮০১৯১২০৬২৯৬৬, +৮৮০১৭৫৭৬৮২৪৮৯ ও +৮৮০১৫৫৩৩৪৪৫৮৮। কাঠমাণ্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নম্বরগুলো হলো : মোহাম্মদ আল আলামুল ইমাম (কাউন্সেলর), মোবাইল নম্বর +৯৭৭৯৮১০১০০৪০১ ও অসিত বরণ সরবার (প্রথম সচিব), মোবাইল নম্বর +৯৭৭৯৮৬১৪৬৭৪২২।

ইউএস-বাংলা জরুরি তথ্যের জন্য যাত্রীদের স্বজনকে ০১৭৭৭-৭৭৭৭৬৬ নম্বরে ফোন করতে বলেছে। পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের নম্বর ৯৫৪৫১১৫, ৯৫৪৯১১৬। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার গত রাতে জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা ও মানসিক সুস্থতায় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটিকে ইতিমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিযুক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক : উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভারত, ভুটান, রাশিয়ার শোকবার্তা : দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি টুইট বার্তায় নিহতদের স্বজনকে সমবেদনা জানান এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের পাশে আছে। ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু এক টুইট বার্তায় হতাহতের খবরে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনিও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। শোক জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শোক জানিয়ে তাঁর বার্তাটি ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। শোক প্রকাশ করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেও।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গতকাল সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে এর আগে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি ফকার এফ-২৭ বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হলে ৪৯ যাত্রী নিহত হয়।

আহতদের চিকিৎসা ও লাশ আনার দায়িত্ব নিয়েছে ইউএস-বাংলা : ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব তারা নিচ্ছে। যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের লাশ নেপাল থেকে আনতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এয়ারলাইনসটির সিইও ইমরান আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আহত বা নিহতের পরিবারের একজন করে সদস্যকে আজ (মঙ্গলবার) আমরা নেপাল নিয়ে যাব।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.