কেন্দ্রীয় নেতা মারুফ চাঁদপুর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী

(Last Updated On: এপ্রিল ৩, ২০১৮)
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একসময়ের রাজপথ কাঁপানো তুখোড় ছাত্রনেতা এবং আমরা ক’জন মুজিব সেনা জাতীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সমন্বয়কারী জাকির হোসেন মারুফ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এই কৃতি সন্তান পারিবারিক ঐতিহ্য, ব্যক্তিগত বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন আর ক্লিন ইমেজের কারণে বেশ জনপ্রিয়। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও তিনি এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও দলের পক্ষে নিরলস কাজ করেছেন।
            জাকির হোসেন মারুফ চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নুল আবেদীন পাটওয়ারীর ছেলে। তার মায়ের নাম মিসেস যোবেদা আবেদীন। ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল তার জন্ম। পড়াশোনা, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
            জাকির হোসেন মারুফ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (২০০২-২০০৬)। বর্তমানে আমরা ক’জন মুজিব সেনা জাতীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সমন্বয়কারী। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক (২০১২-২০১৬) ছিলেন জাকির হোসেন মারুফ। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক (১৯৯২-১৯৯৪) এবং কবি জসীম উদ্দিন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৯-১৯৯২) ছিলেন মারুফ। মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদীন পাটওয়ারী ফাউন্ডেশনেরও সভাপতি।
            জাকির হোসেন মারুফ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাস্টার ট্রেইনার কো-অর্ডিনেটর অব পোলিং এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ঘাতক দালাল নির্মুল ও জাতীয় সমন্বয় কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চিত্রন আবৃত্তি সংগঠন, জননাট্যম, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র, ক্রিকেট কোচিং স্কুল, ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সমিতি, চাঁদপুর জেলা যুব কল্যাণ সমিতি, মেঘনাপাড় সমাজকল্যাণ সংস্থা, নটরডেম কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে তিনি সম্পৃক্ত।
            দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে পরপর দু’বার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর এবং ২০১৬ সালের ২২-২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি।
            ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার সময় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকের পাশেই ছিলেন জাকির হোসেন মারুফ। সে সময় শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে তৎকালীন কারাবন্দী শেখ হাসিনাকে মুক্তির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন এবং প্রাক্তন ছাত্রনেতাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
            জাকির হোসেন মারুফ এক সম্ভ্রান্ত ও বনেদী পরিবারের সন্তান। বাগাদীর পীর সাহেবের সন্তান তার মা। এছাড়া গাছতলার পীর, রামপুরের পীর এবং কল্যান্দীর পীর মরহুম আ. খালেক সাহেবের পরিবারের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক তাদের। এ কারণে ধর্মভীরু এ অঞ্চলে পীরের মুরিদসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের কাছে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্য রয়েছে। তিনি মনোনয়ন পেলে তার এই পারিবারিক পরিচিতি বেশ সহায়ক হবে বলে অনেকেই মনে করেন। এছাড়া মারুফ নিজে একজন প্রগতিশীল মুক্তমনের মানুষ। ফলে প্রগতিশীল মানুষও তার প্রতি আস্থাশীল। এককথায় তিনি মনোনয়ন পেলে প্রগতিশীল ও ধর্মপ্রাণ দুই শ্রেণীর মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা পাবেন অনায়াসে। যা তার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ত হতে পারে।
            এক প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসেন মারুফ বলেন, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালোবেসে রাজনীতি করি। সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার রাজনৈতিক অভিভাবক। দলের জন্য যে কোনো সময় যে কোনো দায়িত্ব পালনে আমি প্রস্তুত রয়েছি। নেত্রী আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি চেষ্টা করেছি অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে। আগামী দিনেও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেবেন।
Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.