চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় উপস্হিতি যে কারনে কম!

(Last Updated On: এপ্রিল ৯, ২০১৮)

চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় উপস্হিতি যে কারনে কম!

বিশেষ প্রতিনিধি , চাঁদপুর থেকেঃ  ১লা এপ্রিল অনুষ্ঠিত  চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর জনসভা এখন টক অব দি টাউন। জনসভা কে ঘিরে কতিপয় নেতার ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা এখন মানুষের মুখে মুখে।জনসভায় লোক সমাগম ভালই হয়েছিল।চাঁদপুরে  প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আসবেন এই অপেক্ষায় ছিল পুরো চাঁদপুরবাসী।নিজস্ব শো-ডাউন দেখাতে গিয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মিছিল স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়া হয়নি।উল্লেখ্য ১১ টি প্রবেশদ্বার এর মধ্যে শুধু দুটি খুলে রাখা হয়েছিলো।প্রবেশদ্বার শুধুমাত্র দীপুমনি মনোনীত স্বেচ্ছাসেবী বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিলো যেন দীপুমনির অনুসারী ব্যতীত অন্যরা ঢুকতে না পারে।মানুষজন তাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে পাবে না এই বিরক্তি নিয়ে বাইরে অবস্হান নেয়। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ যে পানির ব্যবস্হা করেছিলো সেটিও স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

জানা যায় , সমাবেশকে সফল করার পরিবর্তে স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রিয় যুগ্ম -সাধারন সম্পাদক ডাঃ দীপু মনির নির্দেশে দুলাল পাটওয়ারী নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।কার ব্যানার,ফেস্টুন,পোস্টার ছিড়তে হবে, কাকে কাকে মঞ্চে উঠতে দেয়া হবে না,কার মিছিল কে প্রশাসন দিয়ে বাধাগ্রস্ত করতে হবে,কাকে বক্তৃতার সুযোগ দেয়া যাবে না,কার বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলতে হবে এসব ষড়যন্ত্র নিয়েই ব্যস্ত ছিল।জনসভা সফল করার বিষয়ে তাদের কোনো মনোযোগ ছিল না।ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তৃতা শুরু করেন তখন সর্বসাকুল্যে ৮-১০ হাজার লোক উপস্হিত ছিল। জনসভায় সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রিয় ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক সুজিত নন্দী বক্তৃতার মাঝে বলেই ফেললেন ‘মাঠ অনেকখানি খালি।

এটা চাঁদপুরবাসীকে একটা লজ্জাজনক পরিস্হিতিতে ফেলে দেয়।অতীতে দীপুমনি’র দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়ায় সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয়  প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শফিকুর রহমান এবং সাবেক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা জাকির হোসেন মারুফকে মঞ্চে ডাকা হয়নি।  দীপু মনির ব্যক্তিগত জিঘাংসা, প্রতিহিংসা ও পতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থেকেই এটা করা হয়েছে।এই ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছে সামসুল হক ভুইয়া ও দুলাল পাটওয়ারী।চট্রগ্রাম বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর  রহস্যজনকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

এদিকে জাতীয়  প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শফিকুর রহমান ৬ এপ্রিল দৈনিক জনকন্ঠে  প্রকাশিত”‘এ দীনতা ক্ষমতা করব প্রভু” শিরোনামে  লেখায় প্রধানমন্ত্রীর  চাঁদপুরের জনসেবা নিয়ে অনেক তথ্য দিয়েছেন । সেই লেখার এক অংশে শফিকুর রহমান জানান , জনগণ নির্বিঘ্ন গেট পার হতে পারলে মাঠ, গ্যালারি সবই ভরে যেত। কিন্তু ভরল না, এ দুঃখের শেষ নেই। আরেকটি ব্যাপার খুব শ্রুতিকটু লেগেছে যে, জনসভা মঞ্চের পরিচালনার মাইক থেকে চাঁদপুরের বিপরীতে পদ্মার ওপারে শরীয়তপুর জেলা পরিষদ এবং দূরের লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্চে উপস্থিত থাকার পরও তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি। এটা হীনম্মন্যতা, এর নাম রাজনীতি নয়। ভব্যতাও নয়। এটাকে চানক্যনীতিও বলা যেতে পারে। অবশ্য যারা করেছেন তারা হীনম্মন্যতা থেকেই করেছেন। চানক্যের নাম না জানারই কথা। তাছাড়া বক্তাদের কে কার পরে বক্তৃতা করবেন অর্থাৎ সিনিয়রিটি প্রটোকল কোনটাই মেনটেইন করা হয়নি। কেন কি কারণে তা কেবল আয়োজকরাই বলতে পারবেন। আমার এসব বলার অর্থ বৈরিতা নয়। এখনও নির্বাচনের ৭-৮ মাস বাকি রয়েছে। এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে, নিজেদের সংশোধন করেত হবে- ‘এ দীনতা ক্ষমতা করব প্রভু।’

এসব নিয়ে তুমুল আলোচনা,সমালোচনার ঝড় বইছে চাঁদপুরে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.