আক্রমণের সবচেয়ে সহজ শিকার ছাত্রলীগ

(Last Updated On: এপ্রিল ১৩, ২০১৮)

প্রভাষ আমিন ঃ বাংলাদেশে এখন আক্রমণের সবচেয়ে সহজ শিকার ছাত্রলীগ। আমরা সবাই যেন অপেক্ষা করি, কখন ছাত্রলীগ কোনো একটা অপকর্ম করবে, আমরা সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে গালি দেবো। ছাত্রলীগকে গালি দেয়ার মধ্যে দারুণ একটা উল্লাস দেখা যায়। গালিটা আমরা এমন নিষ্ঠুরভাবে দেই, ভুলে যাই তাদের গৌরবময় অতীত। শুধু প্রতিপক্ষ নয়, আওয়ামী লীগ নেতারাও ছাত্রলীগকে গালি দিয়ে আরাম পান। গালিগুলো যে মিথ্যা, তা কিন্তু নয়। গত ৯ বছরে হেন অপকর্ম নেই, যা ছাত্রলীগ করেনি। হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির লাঠিয়াল- অপকর্মের ফিরিস্তি বহুত লম্বা। একটা অপরাধ বাকি ছিল, পায়ের রগ কাটা। শিবিরের ট্রেডমার্ক এই অপবাদটা ছাত্রলীগের কাঁধে চাপাতে পারলে ষোলকলা পূর্ণ হয়। সোমবার রাতে তাও হলো। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা নাকি এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন। মূহুর্তেই ভাইরাল হয়ে গেল সচিত্র অভিযোগ। শুরু হলো বিক্ষোভ। হলের বাইরেও ছাত্রদের বিক্ষোভ।

ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে এশাকে হল থেকে, ছাত্রলীগ থেকে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হলো। অন্যায় করলে শাস্তি পেতেই হবে; ছাত্রলীগ হোক আর যেই হোক। কিন্তু রগ কেটে দেয়ার শাস্তি তো নিছক বহিস্কার হতে পারে না। এশা সুফিয়া কামাল হলে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে। ছাত্রীদের মারধোর করে, তাদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করায়; এসবও নাকি সত্যি। কিন্তু আসল অভিযোগের খবর কি? ছাত্রলীগ নেত্রী কি রগ কেটেছেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পুরোটাই চিলের পেছনে দৌড়ানো। আক্রান্ত মোর্শেদা বেগম একই হলের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। রাগের মাথায় কাচে লাথি দিয়ে তার পা কেটেছে। কেউ তার রগ কাটেনি। কিন্তু যাচাই না করেই ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবির দায় নিয়ে এশাকে বহিস্কার হতে হলো। এখানেই থামেনি তার শাস্তি।

এশাকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করা হলো, জামা ছিড়ে গেল। এমনকি জুতার মালা পরিয়ে তার ভিডিও তুলে ছড়িয়ে দেয়া হলো ফেসবুকে। এশা তার রুমে ডেকে মেয়েদের মারধোর করেছে। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হোক, গ্রেপ্তার করা হোক, সাজা হোক। কিন্তু একজন নারীকে জুতার মালা পরানোর, সেই ছবি ভাইরাল করার অধিকার কে, কাকে দিয়েছে? এশাও একজন নারী। তাকে যে এভাবে হেনস্থা করা হলো, তার কী হবে? এর কি কোনো প্রতিকার হবে না? নাকি ছাত্রলীগ হলে, তার আর কোনো মানবাধিকার থাকে না, নারী অধিকার থাকে না? ছাত্রলীগকে গালি দেন। কিন্তু তার আগে একজন নারীর হেনস্থার প্রতিবাদ করুন।

ফেইস বুক থেকে ।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.