ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন, যত দোষ নন্দ ঘোষ !!

(Last Updated On: মে ৫, ২০১৮)

এডভোকেট  আনিসুর রহমাম মিঠু: এক শ্রেনীর মানুষ দেশের যাবতীয় দোষ ছাত্রলীগের কাঁধে তুলে দিতে পারলে বিমলানন্দ লাভ করেন । ইদানীং তাদের প্রধান আলোচনা হচ্ছে ছাত্রলীগে শিবির ঢুকে গেছে ।এবং এজন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারা এবং সাবেক ছাত্রনেতারা দায়ী  ।

আমি বলতে চাই অনুপ্রবেশ ঘটে থাকলে রাজনৈতিক ভাবে অনভিজ্ঞ এমপিদের কারনে বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে । কুমিল্লার এক থানায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতিকে সেই কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি করা হয়েছিল , কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যানতে পেরে সেই কমিটি বাতিল করেছিল ।

শিবির ছাত্রদলের নেতারা বিভিন্ন এলাকার এমপি সাহেবদের হাতে ফুল দিয়ে প্রকাশ্যে যোগ দান করেছে , অথচ সব দোষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের !!

আজকের ছাত্রলীগকে যে সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে , আগে সে সব সমস্যা ছিলনা ।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই এখন ছাত্রলীগ , অন্য কোন দলই নেই । এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ নেয়া , তাদের ভেতর তদন্ত করে বের করা , কার মনের ভিতর কি আছে , এটা খুবই কঠিন কাজ ।

সব চাইতে বড় সমস্যায় ছাত্রলীগ পরেছে কোটা আন্দোলনের পরে । কিন্তু ছাত্রলীগের প্রতি কি মূল সংগঠনের কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে তোমরা এই আন্দোলনের পক্ষে থাক অথবা বিপক্ষে থাক ?

 

ছাত্রলীগ একটি প্রাচীন অথচ আধুনিক সংগঠন ।এই সংগঠনের ইতিহাস ঐতিহ্য আছে ।বঙ্গবন্ধুর আমলে এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সং্খ্যা ছিল ৪১ জন । আমি যখন ছাত্রলীগ করি ডাকসু ভিপি সুলতান ভাইদের আমলে তখন সদস্য সংখ্যা ৬১ ।

 

বাহাদুর – অজয় কমিটির সময় এটি ছিল ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ।কেন্দ্রীয় কোন সদস্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছে শুনতে আমরা বিশ্বরোডে দাড়িয়ে থাকতাম , আপ্যায়ন করার জন্য ।

 

লিয়াকত – বাবু দুজনই জেলে থাকা অবস্থায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন । তারা জেলে থাকা অবস্থায়ই ২০১ সদস্যের কমিটি সম্পন্ন হয়ে যায় ।

 

পরবর্তি কমিটি গুলোতে সদস্য সং খ্যা আরো বাড়ে , এবারের কমিটিতে সহ সভাপতি , যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংঠনিক সম্পাদকই, মোট দুইশ জন হবে !!

 

কমিটিকে এত লম্বাচওড়া কেন করা হলো ? এখন সভাপতি সাধারন সম্পাদক ছাড়া অন্যদের জেলার ছাত্রনেতারাও পাত্তা দিতে চায়না, পদের গুরত্ব নষ্ট হয়েছে

 

সুযোগ বুঝে কিছু মানুষ সমসাময়িক কালের সবচাইতে দক্ষ সংগঠক , একজন জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতাকে বিতর্কিত করতে চেষ্টা করছেন ।তারা নেত্রীর কান ভারী করার চেষ্টা করছেন ।

 

আমি বলতে চাই কমিটি যে পদ্ধতিতেই করা হউক তার আয়তন না কমালে , সংগঠন গতিশীল হবে না । কমিটি গঠন ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে গঠনতন্ত্র অনুসরন করতে হবে ।

 

কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বোচ্চ ১০০ জেলা ৫০ এবং থানা ও কলেজ ৪০ সদস্য বিশিষ্ট করা উচিৎ ।সে কমিটির একজন সদস্যকেও ছাত্ররা অনেক গুরুত্ব দিবে ।

 

আমি মনে করি ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাধারন সম্পাদক সোহাগ এবং জাকির সংগঠনের জন্য দিনরাত কাজ করেছেন । সমস্যা সমাধানে সাধ্যমত ভূমিকা রেখেছেন ।তাদের বিদায় বেলায় যারা সমালোচনা করছেন , তারা সচেতন ভাবে অন্যায় কাজ করছেন ।

লেখক – এডভোকেট  আনিসুর রহমাম মিঠু

সাবেক সাধারন সম্পাদক, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগ।

সাবেক সহ- সম্পাদক উপ- কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.