ছাত্রলীগের সভাপতি ও সা: সম্পাদক পদে ৩১৮টি মনোনয়নপত্র

(Last Updated On: মে ১০, ২০১৮)

সমকাল: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন ঘিরে জল্পনা-কল্পনা এখন তুঙ্গে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ পদে কারা আসছেন- এ নিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও অনুমান-আলোচনা ও সমীকরণের অন্ত নেই! আগামী ১১ ও ১২ মে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় সম্মেলন সামনে রেখে গত কয়েক মাস ধরেই নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা। সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাদের সক্রিয়তা। অনেকটা গোপনে প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যেই শীর্ষ পদের প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে জোর লবিং-তদবির চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় তাদের অফিস-বাসায় আনাগোনা বেড়েছে পদপ্রত্যাশীদের। এবারের সম্মেলন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও শেখ হাসিনার কঠোর মনোভাব এবং ‘নতুন মডেলে’ ছাত্রলীগকে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন।

জমা পড়েছে ৩১৮টি মনোনয়নপত্র : এমন প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে গত ৭ মে।

এর আগে গত ২-৫ মে পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। আসন্ন জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান লিমন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে মোট ৩১৮টি। এর মধ্যে কেউ কেউ উভয় পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি সদ্য বিলুপ্ত বিভিন্ন ইউনিট কমিটির নেতারাও রয়েছেন।

প্রার্থীরা ব্যস্ত প্রস্তুতিতে : মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের সক্ষমতার জানান দিতে কর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে ব্যাপক শোডাউন চালাচ্ছেন। ফলে নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা বেড়েছে এবং বেড়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনাও। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে গত ২৫, ২৬ ও ২৯ এপ্রিল যথাক্রমে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, নগর উত্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দিনই ছাত্রলীগের এই তিন সুপার ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গেই এই তিন ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির পদপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন ওই তিন ইউনিটের পদপ্রত্যাশীরাও।

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকানোর উদ্যোগ :দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, পছন্দের প্রার্থীদের নেতৃত্বে বসিয়ে সংগঠনে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে কতিপয় সাবেক শীর্ষ নেতা তথাকথিত সিন্ডিকেট গড়ে গত কয়েকটি সম্মেলনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের কৌশলের বিপরীতে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে টিকে থাকতে পারেননি কেউ। যোগ্য ও পরীক্ষিত একাধিক প্রার্থী সিন্ডিকেটের আনুগত্য না মানায় নেতৃত্ববঞ্চিতও হয়েছেন। এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক এবং সমালোচনার পরও সিন্ডিকেটের কর্তৃত্ব কমেনি। বরং দিন দিন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ওই চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিন্ডিকেট নিয়ে বিভিন্ন সময় উষ্ফ্মা প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে এবার সম্মেলনে কথিত ওই সিন্ডিকেট ভাঙতে উদ্যোগী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এরই ধারাবাহিকতায় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ফিরে গত ২ মে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা হলে সিলেকশনের মাধ্যমে পারিবারিক পরিচয় ও যোগ্যতা বিবেচনা করে এবার ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে গেলে কিছু ঝামেলা হয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এবার সম্মেলনে আলাদা করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব কিংবা সমর্থনের প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সিন্ডিকেট দিয়ে পকেট কমিটি করে ছাত্রলীগ চলবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ছাত্রলীগ পরিচালনার জন্য ‘নতুন মডেলে’ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

আলোচনায় ‘নতুন মডেল’ : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবার প্রার্থী তালিকা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও উপযুক্তদের শীর্ষ পদে তুলে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। তারা জানান, বিতর্কিত ও অযোগ্যরা যেন নেতৃত্বে আসতে না পারে সেজন্য এবার নেতা নির্বাচনে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। আসন্ন সম্মেলনের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বারের মতো আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। পদপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরিশ্রমী, ত্যাগী, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী খুঁজে বের করতে বেশকিছু মানদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের ইমেজ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভূমিকা, পারিবারিক রাজনৈতিক মতাদর্শসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবির সম্পৃক্ততা কিংবা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত কি-না তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সার্বিক বিচার-বিশ্নেষণ শেষে ছয়জন প্রার্থীকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় তুলে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে ওই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

নেতৃত্বের দৌড়ে আছেন যারা :কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আদিত্য নন্দী, এস এম আবদুর রহিম তুহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক লালন, দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, শওকত-উজ-জামান সৈকত, প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রানা হামিদ, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, কর্মসংস্থান সম্পাদক রাকিবুল হাসান, বিজ্ঞান সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরেফিন, আইন সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয়, কৃষিশিক্ষা সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক শেখ সাগর আহমেদ, উপ-প্রচার সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ, উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, উপ-আইন সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম, উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পার্থপ্রতীম ঘোষ, উপ-স্কুলছাত্র সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, অসীম কুমার বৈদ্য ও খাজা খায়ের সুজন, উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফ, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সাগর হোসেন সোহাগ, ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, উপ-পরিবেশ সম্পাদক সুরঞ্জন ঘোষ, ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব, উপ-বৃত্তি সম্পাদক আজিজুল হক সরকার আজিজ, উপ-দপ্তর সম্পাদক ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক, উপ-মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক আল মামুন, উপ-আপ্যায়ন তানভীর রহমান মাহিদ, সহ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়, এস এম মামুন, মাহফুজ ইবনে রহমান, জায়েদ বিন জলিল, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, প্রদীপ চৌধুরী। এ ছাড়া সভাপতির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি বায়েজিদ আহমেদ খান ও ঢাবি ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাবির সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল জোবায়ের, বিদ্যুৎ শাহরিয়ার কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু এবং স্যার এএফ রহমান হল সভাপতি হাফিজুর রহমান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, জসীম উদ্‌দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, জগন্নাথ হলের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস, ফজলুল হক হলের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক শিশিম, অমর একুশে হল সভাপতি আবদুল জব্বার রাজ প্রমুখ।

নেত্রীরাও এগিয়ে এবার : ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী হিসেবে এবার আলোচনায় উঠে এসেছেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেত্রীও। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি চৈতালী হালদার চৈতী, রাজশাহীর আনিকা ফারিয়া জামান অর্না, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইশাত কাসফিয়া ইরা, উপ-পরিবেশ সম্পাদক শেখ নাবিলা, উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার এবং ঢাবির রোকেয়া হল শাখার সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, শামসুন নাহার হলের সভাপতি নিপু ইসলাম, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের বেনজীর হোসাইন নিশি ও রোকেয়া হলের সাবেক নেত্রী সাবরিনা আক্তার।

বয়সসীমা কমছে না : গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৭ বছরের বেশি বয়সী কেউ ছাত্রলীগের নেতা হতে পারবেন না। তবে ২০০৬ সাল থেকে সর্বশেষ কমিটি পর্যন্ত অলিখিতভাবেই বয়সসীমা ২৯ বছর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এবারও বয়সসীমা ২৯ রাখা হচ্ছে। সে হিসেবে শীর্ষ পদের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন ঢাবি ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, সহ-সম্পাদক এনামুল হক প্রিন্স প্রমুখ।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, সিন্ডিকেট বলে ছাত্রলীগে কিছু নেই। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ তার নির্দেশনায় চলে, তার নির্দেশেই চলবে। এই কমিটি থেকে আবারও নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজনের চর্চা শুরু হবে বলে প্রত্যাশা সোহাগের।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, মেধাবী, ত্যাগী ও সৎ প্রার্থী নেতৃত্বে আসবেন- যারা দুর্দিনে দলের সঙ্গে ছিলেন এবং আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

সমকাল…

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.