প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে হবিগঞ্জের দুই খুন

(Last Updated On: জুলাই ১৭, ২০১৮)

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে গিয়েই দুই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তালেব মিয়া এবং জাকারিয়া আহমেদ শুভ বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একথা জানিয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান।

গত ১৩ মে নিজ বাড়িতে খুন হন উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর স্ত্রী রুমী বেগম ও তার মা মালা বেগম। এ ঘটনায় রুমীর ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, রুমীকে ধর্ষণ করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

বাড়িতে রুমী ও তার শাশুড়ি মালা থাকতেন। বাড়িটির কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। পাশে অন্য কারো বসবাসও নেই।

কয়েকদিন আগে আখলাক বন্ধু রিপনকে তার স্ত্রী রুমীকে একটি মোবাইলের কভার কিনে দিতে বলেন জানিয়ে তিনি বলেন, রিপন ব্যস্ত থাকায় গত ১১ মে তার ভাই জয়কে দিয়ে কভার রুমীর বাড়িতে পাঠায়। জয় মোবাইল কভার নিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকার জাকারিয়া শুভর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তাকে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, এ সময় রুমীকে দেখে তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে শুভ। শুভ জানতে পারে ওই বাড়িতে অপরিচিত কেউ গেলে গেইট খোলে না। তবে পাশের বাড়ির ফারুক চৌধুরীর কর্মরত শ্রমিক তালেব মিয়া মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে গিয়ে কাজ করে।

“শনিবার তালেবের সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি দোকান থেকে আপ্যায়ন করে এবং মোবাইলে থাকা পর্নো ছবি দেখায়। এরপর তারা রোববার রাতে রুমীকে ধর্ষণ করার পরিকল্পনা করে।

“রোববার রাত সাড়ে ১০টায় ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমে তালেব দাদি বলে মালাকে ডাক দেয় এবং গেইট খুলতে বলে। গেইট খোলার পর তালেবের সঙ্গে শুভও ভেতরে ঢুকলে মালা বেগম তার পরিচয় জানতে চায়। তখন মালাকে হাতে থাকা ছোরা দিয়ে আঘাত করে শুভ।”

জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মালা দৌড়ে ঘরে গেলে পেছন পেছন গিয়ে তারা তাকে বেঁধে ফেলে এবং ছোরা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে পাশে থাকা রুমীও চিৎকার শুরু করলে শুভ তাকেও ছোরা দিয়ে আঘাত করে।

“রুমী দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলে তালেবও তাকে আঘাত করে। ঘটনার সময় ওই বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বাড়িতে বৈঠকে থাকা লোকজন চিৎকার শুনে এসে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়।”

পরে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সকালে রক্তমাখা কাপড় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করে। শুভর আরেক বন্ধু ধর্ষণে অংশ নেওয়ার কথা ছিল, পুলিশ তাকেও খুঁজছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তাকে পাওয়া গেলেই অভিযোগপত্র দিয়ে বিচার কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

bdnews24.com

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.