১৯ বছর বয়সেই ৪ বিয়ে

(Last Updated On: জুলাই ২৪, ২০১৮)

রানা মন্ডল। বয়স ১৯ বছর। এ বয়সেই ৪টি বিয়ে করে এলাকায় আলোচনার ঝড় তুলেছে সে। তার বাড়ি জেলার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে।

প্রথম তিন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে গত ২০ জুলাই স্কুল পড়ুয়া এক মেয়েকে বিয়ে করেছে রানা। নিজের বময় ১৯ বছর হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ জালিয়াতি করে বসয় বাড়িয়ে একের পর এক বিয়ে করছে সে। এ ঘটনায় তার বাবা রাশেদ মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল সরেজমিনে রানার গ্রামে গিয়ে তার পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রানা রাজমিস্ত্রির কাজ করে। বর্তমানে মেহেরপুরে আছে সে।

স্থানীয়রা জানান, সল্পশিক্ষিত রানা ২০১৭ সালের জানুযারি মাসে ভেড়ামারা উপজেলায় প্রথম বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক মাস পর প্রথম সংসার ভেঙে যায়। এরপর মিরপুর উপজেলার কচুবাড়িয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। সেই স্ত্রীও চলে যায় ৫ মাস পর। এরপর কয়েকমাস পর ফের দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডিতে তৃতীয় বিয়ে করে। সে সংসারও টেকেনি। এরপর সর্বশেষ চলতি মাসের ২০ জুলাই ভেড়ামারায় মৌসুমী নামের এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করে রানা।

এ বিষয়ে ইউয়িন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আলী আসমত বলে, রানার বিয়ে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার বিচার-সালিশ হয়েছে। তারপরও এ কাজ চলছেই। তারা কাউকে না জানিয়ে একের পর এক নাবলক ছেলেকে বিয়ে দিচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি করে এ কাজ করে আসছে পরিবারটি।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই একটি জন্ম নিবন্ধন নেন রানা মন্ডল। সেই জন্ম নিবন্ধনে বয়স দেখানো হয়েছে ২১ বছর। তবে বয়স প্রমাণের জন্য কোন কিছু জমা দেয়া হয়নি। ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যন খন্দকার টিপু সুলতান ও সচিবের অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের ইউসিডি কর্মী রানার নামে এই জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন। সেই সনদ সব বিয়েতে ব্যবহার করেছে সে।

রানার বাবা রাশেদ মন্ডল বলেন, ছেলের জন্ম তারিখ আমার মনে নেই। তবে আমার মেয়ের বয়স বর্তমানে ১১ বছর। মেয়ের থেকে ছেলের বয়স ৮ থেকে ৯ বছর বেশি।

গত দেড় বছরে ছেলে ৪টি বিয়ে করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দুই বউ চলে যাওয়ার পর আমি বিয়ে দিতে চাইনি। পরে তার মায়ের কথায় বিয়ে দিয়েছি। বিয়ের আগে ইউনিয়ন সচিবের মাধ্যমে সনদটি নিয়েছি।

রানার মা রেহেনা খাতুন রেনু বলেন, আমার ছেলের বিয়ে আমি দেব, তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়?  ছেলে বিয়ে করতে চায়, বিয়ে দিয়েছি। এখানে বাইরের লোকের এত মাথা ব্যাথা কেন?

রানার সহপাঠি হৃদয় খান বলেন, রানা ও আমি একসঙ্গে পড়েছি। আমার ২-১ বছরের বড় সে। আমার বয়স এখন ১৬ বছর চলছে।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, আমার সময়ে এ কাজ হয়নি। আগের চেয়ারম্যানের সময় সনদ জালিয়াতি করে কাজটি করেছে রানার পরিবার। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে বয়স না হওয়ার পরও ছেলেকে একাধিক বিয়ে দেওয়ায় রানার বাবা রাশেদ মন্ডলকে পুলিশ আটক করেছে। তবে রানা মন্ডল বর্তমানে পলাতক।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল আহমেদ বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। দেড় বছরে একটি ছেলে ৪টি বিয়ে করেছে, তার তার বয়স কুড়ির নিচে। খুবই গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। সনদ জালিয়াতি করলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার উপজেলার বাইরে সে ৩টি বিয়ে করেছে। আর একটি বিয়ে করেছে আমার উপজেলার মধ্যে।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.