দিল্লিতে এরশাদ: ভারতের কাছে তার গুরুত্ব কী

(Last Updated On: আগস্ট ৮, ২০১৮)

দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য আবার বলছেন, ভারত এখন জামায়াত ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই একটা সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী – জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

তার কথায়, “তা ছাড়া সে দেশে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি তৃতীয় শক্তি, এবং আপনি চান বা না-চান তারা পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দলও বটে। এর ওপরে মি. এরশাদ নিজে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, কাজেই কেন নয়?”

২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো না-হলেও এবারের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, ভারত এই ফ্যাক্টরটাও মাথায় রাখছে বলে বলছিলেন মিস ভট্টাচার্য।

“প্রথমত বিএনপি এখনও পরিষ্কার করে বলেনি তারা নির্বাচনে যাবে কি না। তবে তারপরও গণতন্ত্রে একটা তৃতীয় শক্তির সব সময়ই কিন্তু বড় ভূমিকা থাকে।”

“আসলে আমরা এখনও পর্যন্ত জানি না নির্বাচনী চিত্রটা শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। কিন্তু কে বলতে পারে, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটা বড় ভূমিকা নেবে না?”, বলছিলেন জয়িতা ভট্টাচার্য।

কিন্তু এই দিল্লি সফরে ভারতীয় নেতৃত্বর কাছ থেকেই বা জাতীয় পার্টি ঠিক কী প্রত্যাশা করছে?

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কথায়, “আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে ভারত কিন্তু বরাবরই আমাদের সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। গতবারও তারা ঠিক সেটাই করেছে।”

“আসলে ভারতের সাহায্য বলতে কি, ভারতে গণতন্ত্র কিন্তু একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়ে গেছে এবং তাদের থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি, অনেক কিছু শিখতে পারি। কোনও দিনই ভারতে সামরিক শাসন আসেনি, তাদের গণতন্ত্র অনেক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত – এগুলো নিয়ে আমাদের অনেক কথাবার্তা হল!”, জানাচ্ছেন তিনি।

চারদিনের সফর শেষে কাল বুধবারই ঢাকায় ফিরছেন জেনারেল এরশাদ ও তার সঙ্গীরা।

আর তারা এই বার্তা নিয়েই ফিরছেন, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কোনও সঙ্কটে জাতীয় পার্টি ইতিবাচক ভূমিকা নিলে ভারতও তাদের পাশেই থাকবে।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.