আরিফের জয়ের পর রক্ত ঝরল সিলেটে, সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত

(Last Updated On: আগস্ট ১২, ২০১৮)
আরিফুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণার পর মিছিল করা নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ঘে এই প্রাণ ঝরল মহানগরটিতে।

নিহত ফয়জুল হক রাজু সিলেট মহানগর ছাত্রদলের আগের কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক ছিলেন। নতুন কমিটিতে তিনি কোনো পদ পাননি আর এই কমিটির বিদ্রোহী অংশের নেতা ছিলেন তিনি।

রাত নয়টার দিকে সিলেটের কুমারপাড়ায় টানা দ্বিতীয় দফায় জয়ী বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ৩০ জুলাই সিলেটে ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে দুই কেন্দ্রে ভোটের ফল ঘোষণা হলেও দুটি কেন্দ্র স্থগিত ছিল। আর এই দুটি কেন্দ্র ছাড়াই বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর জয় নিশ্চিতই ছিল। তবে তিনি যত ভোটে এগিয়ে, তার চেয়ে স্থগিত দুটি কেন্দ্রের ভোট বেশি হওয়ায় তাকে বিজয়ী ঘোষণার সুযোগ ছিল না।

ওই দুটি কেন্দ্রের প্রায় শতভাগ ভোট পেলেই কেবল আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের পক্ষে সিলেটের মেয়র হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে যেটা হওয়ার কথা ছিল না, সেটা হয়নি আর আরিফুল এই দুই কেন্দ্রে জিতে আগের চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে তিনি নির্বাচিত হন।

আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণার পর আরিফুলের সমর্থকরা রাতে নগরীর কুমারপাড়ায় বিজয় মিছিল করে। আর এই মিছিল শেষে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে নয়টার সময় আরিফুলকে ফুল দিয়ে ছাত্রদলের একটি পক্ষ বাসা থেকে বের হয়ে কুমারপাড়ার মোড়ে দাঁড়ায়। এ সময় আরেক পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তিনজনকে ধাওয়া দিয়ে ধরে কোপায়। পরে গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর পেয়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা কর্মী ও পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে নেয়ার পরই রাজু অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসকরা। পরে তিনি রাত ১১টার দিকে মারা যান।

অন্য দুই জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন  উজ্জ্বল ও সালাহ লিটন।

এই সংঘর্ষের সময় ইরফুল তার আরিফুল তার বাসায় অবস্থান করছিলেন।

সিলেট কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জানান, তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তবে কাউকে আটক করা যায়নি সে সময়।

গত ১৩ জুন রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হাসান স্বাক্ষরিত কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়।

এতে ২৮ সদস্যের জেলা কমিটির আলতাফ হোসেন সুমন সভাপতি ও দেলোয়ার হোসেন দিনার সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর ২৯ সদস্যের নগর ছাত্রদলের কমিটিতে সুদীপ জ্যোতি এষকে সভাপতি ও ফজলে রাব্বী আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে জেলা ও নগর ছাত্রদলের একটি পক্ষ। আর দুই পক্ষই শক্তি দেখাতে মরিয়া ছিল। তবে নির্বাচনকে ঘিরে দুই পক্ষ এতদিন চুপচাপ ছিল।

ঢাকাটাইমস.

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.