১৫ আগস্ট জাতির জন্য শুধু শোকের নয়, লজ্জারও

(Last Updated On: আগস্ট ১৫, ২০১৮)

নূরে আলম সিদ্দিকীঃ ১৯৪৭ থেকে ৭১— এই দীর্ঘ পথপরিক্রমণে একেকটি আন্দোলনের সোপান উত্তরণের মাঝে একেক গুচ্ছ তরুণ তাজা তপ্ত প্রাণ অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। কিন্তু এসব কিছুরই পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ প্রতীক ছিলেন জাতির জনক ও আমার প্রাণের মুজিব ভাই। আগস্ট মাসটি বাঙালি জাতির তথা বাংলাদেশের জন্য শোকের মাস। কিন্তু আমার জন্য এটি হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মাস; অনুভূতি, উপলব্ধি ও মননশীলতার পরতে পরতে অসহ্য ও তীক্ষ যন্ত্রণা বয়ে যাওয়ার মাস। আজ ৪৩ বছর হলো, মুজিব ভাই আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমার অনুভূতিতে, বিশ্বাসে এটা আজও পুরোপুরি সত্যরূপে প্রতিভাত হয় না। আমার মননশীলতা, অনুভূতি, হৃদয়ের অনুরণন, কোনো জায়গায় বঙ্গবন্ধু নেই বা তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন— এটা মানতে পারে না। এ এক অদ্ভুত অনুভূতি, এ অনুভূতি কোনো ভাষার মাধ্যমেই কাউকে বোঝানো যায় না।

নতুন প্রজন্মকে জানিয়ে রাখি, দীর্ঘ কারারুদ্ধ জীবনের মধ্যে এক পর্যায়ে ১৭টি মাস প্রত্যহ এত দীর্ঘ সময় ধরে আমি যে তাঁর নিবিড় সান্নিধ্য পেয়েছি, বাস্তবে কারাগারের বাইরে অথবা ভিতরে অনুজ তার অগ্রজের, সন্তান তার পিতার এত নিবিড় সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয় না। যেটি আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার হয়েছে। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী উদ্ধত উদ্গত পূর্ণায়ত পদ্মটির মতো উদ্ভাসিত যৌবনের অধিকারী। আজকের যুবকরা সেটি অনুধাবন করতে অক্ষম, এটি আমি শতভাগ নিশ্চিত। তখন আমাদের পুরো জীবনটা চেতনার সমস্ত অংশটুকু রাজনীতির সমুদ্রের অতলান্তে নিমজ্জিত। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-ভালোবাসা, চাওয়া-পাওয়া সব কিছুই ছিল রাজনৈতিক চেতনার গভীরে নিমগ্ন। বাংলার স্বাধীনতা ছাড়া আমাদের কল্পনার আবর্তে আর কোনো কিছুই তখন দোলা দিত না। এই যে স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধিকার, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরণ— এর অগ্রভাগে ছিলেন মুজিব ভাই। তিনি ছিলেন আন্দোলনের স্থপতি। তাঁর কালজয়ী নেতৃত্বকে ঘিরেই আবর্তিত হয় প্রতিটি আন্দোলনের স্রোতধারা। আর এই স্রোতধারার স্রষ্টা ছিল ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধুকে বহুজনের মধ্য থেকে একক নেতৃত্বে প্রতিস্থাপিত করার পূর্ণ কৃতিত্ব ছাত্রলীগের।

লাহোরে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে যখন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে আইয়ুবকে উত্খাত করার জন্য পাকিস্তানের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সর্বদলীয় কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নিতে চলেছিল, সেই সম্মেলনের প্রারম্ভে বঙ্গবন্ধু তখনকার পূর্ব-পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছয়দফা কর্মসূচিকে আন্দোলনের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করার দাবি তোলেন। এই কর্মসূচিটা তখনকার দিনে প্রশাসনে যারা বাঙালি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন— সর্বজনাব আহমদ ফজলুর রহমান, রুহুল কুদ্দুস, শামসুর রহমান খান জনসন ভাই, অর্থনীতিবিদ নূরুল ইসলাম, রেহমান সোবহানসহ কয়েকজন প্রতিভাপ্রদীপ্ত সিএসপি অফিসার গ্রন্থনা করে চরম আস্থা ও প্রতীতির প্রতীক বাংলার মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন, অকুতোভয়, দৃপ্ত চেতনার ধারক শেখ মুজিবের হাতে তুলে দেন। শেখ মুজিব ছয়দফা প্রস্তাবটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থাপন করেন। তিনি তখন এতটাই প্রদীপ্ত ও অকুতোভয় মানসিকতায় উজ্জীবিত ছিলেন যে, ছয়দফা স্বাধীনতার উপক্রমণিকা— এটি তাঁর প্রতীতি ও প্রত্যয়ে পরিণত হয়।

ছয়দফা প্রদানের প্রাক্কালে তখনকার শেখ মুজিবুর রহমান এমনকি পূর্ব পাকিস্তানেও অনেক নেতার মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কিন্তু ছয়দফার দাবি উপস্থাপনের পর ছাত্রলীগের নিরলস ও নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের বিস্তীর্ণ পথপরিক্রমণের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ তাঁকে বাংলার মানুষের হৃদয়ের সিংহাসনে মুকুটহীন সম্রাট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। আজকের রাজনীতির এই ডামাডোলের ক্রান্তিলগ্নে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা আমার নৈতিক দায়িত্ব, ছয়দফাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে গিয়ে ইত্তেফাকের প্রকাশনা বন্ধ হয়েছিল। মানিক ভাইও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। সর্বজনাব শহীদ সিরাজউদ্দীন হোসেন, মরহুম আসফ উদদৌলা রেজা, মাহমুদ উল্লাহ ভাইসহ অগণিত সাংবাদিক ও সংবাদপত্রকর্মী অনাহারে-অর্ধাহারে কী যে দুঃসহ যন্ত্রণার জীবন ইত্তেফাক বন্ধ থাকাকালীন কাটিয়েছেন, আজকে তা কল্পনা করাও কঠিন। হাইব্রিড নেতারা তো বটেই, অন্য দল থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা সাইবেরিয়ান পাখিগুলো যারা বামধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিন্ন করে নৌকায় শুধু আশ্রয়ই নেননি, নৌকার মালিকই বনতে চলেছেন; আজকে শেখ মুজিবের রক্ত যাদের ধমনীতে প্রবাহিত— শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সময় বয়ে যাচ্ছে, মস্কো, পিকিং, জাসদ, গণবাহিনী—তাদের সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের জাল সিরাজ শিকদার বাহিনী ও গণবাহিনী কর্তৃক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ঈদের জামাতে সংসদ সদস্য কিবরিয়া ও রাজবাড়ীতে আরেক সংসদ সদস্য কাজী হেদায়েতকে হত্যা ১৫ আগস্টের বেদীমূল রচনা করেছিল।

স্বাধীনতার পূর্বকাল হতেই বামেরা (ভ্রান্ত) বঙ্গবন্ধুকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে আসছিল। বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয় এবং যত কষ্টদায়কই হোক এটা নির্মম বাস্তব, বাকশাল গঠন ১৫ আগস্টের পটভূমিকা রচনায় অনেকটাই প্রণোদনা প্রদান করে। নেতা অবশ্য আমাকে ডেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, আমি আমার মানুষকে বলেছিলাম, সাড়ে তিন বছর কিছুই দিতে পারব না। তারা তা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। এখন আমি কী করে তাদের শান্ত রাখব? তাই এখন একটা রেজিমেন্টেশনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান একটা উন্নয়ন আনতে চাই। তারপর আবার বহুদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসব, ইনশাল্লাহ। ১৫ আগস্ট তাঁর সেই ওয়াদা পূরণ করার সুযোগ দেয়নি।

বঙ্গবন্ধুকে অকালে হারানোর ক্ষতবিক্ষত আমার হৃদয়কে দীপ্তিহীন আগুনের শিখায় দগ্ধীভূত করে যখন একান্তে ভাবি, বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের গৃহটি আক্রান্ত হওয়ার পর দুই ঘণ্টার কাছাকাছি সময় তিনি হাতে পেয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এবং রক্ষীবাহিনীর যিনি রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন— তাদের সবার সঙ্গে টেলিফোনে বারবার পরিস্থিতি জানিয়ে সাহায্যের জন্য, অর্থাৎ ওদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার টেলিফোন করার পরও কারও কাছ থেকে তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি শুধু কর্নেল জামিল ব্যতিরেকে। আমি প্রত্যয়দৃঢ় চিত্তে মনে করি, সশস্ত্রবাহিনী ও রক্ষীবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তো বটেই, ন্যূনতমভাবে তাদের দেহরক্ষীদের নিয়ে বের হলেও দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করার পথ খুঁজে পেত না। কিন্তু দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধুর, মর্মান্তিক শাহাদাতের পূর্বে তিনি বুকভরা বেদনা নিয়ে উপলব্ধি করে গেলেন, তিনি কতটা একা, নিঃস্ব ও রিক্ত!

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে কিন্তু দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে যারা সাড়া দেননি, নিষ্ক্রিয়, নিস্পৃহ ও নিস্তব্ধ থেকেছেন, তাদের শনাক্ত করে আওয়ামী লীগের মতো সংগঠন থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরে থাক, তাদের চিহ্নিত করে প্রতিবাদ ও জবাবদিহিতা পর্যন্ত চাওয়া হয়নি। বারবার সাহায্য চেয়েও নিষ্ফল হয়ে একাকীত্ব ও অসহায়ত্বের বেদনা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আজও সেই গ্লানি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। যারা নিষ্কলুষ চিত্তে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, তারা আজও কান পাতলে হয়তো ইথারে তাঁর বিদেহী আত্মার এই বেদনার ধ্বনি শুনতে পান।

১৫ আগস্ট কোনো সেনা-অভ্যুত্থান বা কোনো বিদ্রোহ হয়নি। কোনো জনতার বিপ্লবও সংঘটিত হয়নি। অন্যদিকে হত্যাকারীরা সংখ্যায় যে কেবল ২৬ জন ছিল তাই নয়, তাদের প্রায় সবাই সামরিক বাহিনী থেকে হয় বহিষ্কৃত, নয় চাকরিচ্যুত।

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ সারা বাংলাদেশ যখন পৈশাচিক শক্তি সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হলো এবং কারফিউ জারি করে নির্বিচারে গুলি ছুড়ে নিরীহ নিরস্ত্র নিতান্ত সহজ-সরল মাটির মানুষগুলোকে হত্যা করা হলো, তখন হৃদয়ের সমস্ত যন্ত্রণাকে প্রশমিত করে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করার সংকল্প ও পূর্ব পরিকল্পনাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রজ্বলিত আকাঙ্ক্ষাকে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করি। কারণ, ২৫ মার্চে আমার একহাতে ছিল বাঁশের বাশরি আর হাতে রণতূর্য। কিন্তু ১৫ আগস্টে হৃদয়ে শুধু রক্তক্ষরণ হয়েছে, কিছুই করতে পারিনি।

১৫ আগস্টের কিছুদিন আগেও আমি যুবলীগের মহাসচিব ছিলাম। সেখান থেকেও আমাকে সুকৌশলে সরিয়ে দিলে (মনি ভাই এর বিপক্ষে ছিলেন) আমি শুধু নিষ্ক্রিয় ও নিস্তব্ধই হয়ে যাইনি, হয়তো ওই প্রতাপশালী অংশের কেউ আমাকে রক্ষীবাহিনী অথবা আততায়ী দিয়ে হত্যা করিয়ে তারা নিজেরাই শোকসভা, প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করতেন। আমার সুহৃদ, শুভাকাঙ্ক্ষীদের এমন হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে আমি আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হই। সব ধরনের সংগঠন থেকেই আমাকে বিযুক্ত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর আমি ওই দিন ভোরে আমার পিতার টেলিফোনের মাধ্যমে জানতে পারি। আমি যে বন্ধুর বাসায় থাকতাম, তার টেলিফোন নম্বর কেবল আমার পরিবারের সদস্যদেরই জানা ছিল। খবরটি শুনে পিঞ্জিরাবদ্ধ ব্যাঘ্রের ন্যায় বন্ধুর বাসায় ছটফট করছিলাম। আমার বন্ধু ও তার স্ত্রী আমাকে নিবৃত্ত করার জন্য নানা ধরনের সান্ত্বনা ও প্রবোধ বাণী শোনাচ্ছিলেন। তাদের মূল কথা ছিল, ধৈর্য ধর, পরিস্থিতি পর্যালোচনা কর, বিশ্বস্তদের সঙ্গে যোগাযোগ কর। যাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি, তারাই আমাকে ধৈর্যধারণ ও শান্ত থাকতে বলেছেন। জীবনে আমি আর কখনো এতটা অসহায়বোধ করিনি।

বাকশালের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ১৫ আগস্টের পর আমাকে গ্রেফতার করে দীর্ঘদিন ক্যান্টনমেন্টে তারপর কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯ মাস বন্দী করে রাখা হয়েছিল (রিট করে বেরিয়ে আসি)। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, আমার একটাই সান্ত্বনা এই যে, ১৫ আগস্টে প্রতিরোধ গড়তে না পারলেও নেতার একান্ত বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে কারাভোগের মাধ্যমে নেতার প্রতি কিছুটা ঋণশোধ করতে পেরেছি এবং সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর চিন্তা-চেতনা, আদর্শ ও মননশীলতার বাইরে যেতে পারিনি। কোনো লোভ, প্রলোভন, প্রাপ্তি-প্রত্যাশা আমাকে আকর্ষণ করেনি। নির্যাতন-নিগ্রহ আমার প্রতিবাদী চেতনাকে নিষ্প্রভ করতে পারেনি। প্রাণপণে চেষ্টা করেছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার স্বার্থে বিভক্ত আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতার আদর্শকে তুলে ধরার জন্য কোনো পাথরই উল্টাতে বাকি রাখিনি। শেখ হাসিনা তখন দিল্লিতে প্রবাসী জীবনযাপন করছিলেন। ইতিমধ্যে জোহরা তাজউদ্দীন ও মালেক ভাইয়ের মধ্যে সভাপতি পদটি নিয়ে কোনো রকমের আপস-নিষ্পত্তি না হলে আরেকটি বিভক্তি রোধের লক্ষ্যে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হলে ওই অংশের সংকট নিরসন হয়। তবে আশা করেছিলাম স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শেখ হাসিনা দলকে একত্রিত করার জন্য একটি সক্রিয় ও বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সর্বজনাব ন্যাপের মহিউদ্দিন সাহেব ও আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে দলের মধ্যে আরেকটি বিভক্তি আসে। জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরী অকস্মাৎ ’৭৯ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং মই মার্কা গ্রহণ করতে সম্মতি প্রদান করেন। আওয়ামী লীগ মালেককে যখন নৌকা দেওয়া হয়, তখন বর্ধিত সভায় প্রস্তাব নিয়ে দলীয় প্রধান জনাব মিজান চৌধুরীকে এর সর্বাত্মক বিরোধিতা এমনকি কোর্টের ইনজাঙ্কশন আনার ক্ষমতা প্রদান করা হয়। কিন্তু মিজান ভাই এর কিছুই করেননি। যার কারণটি আজও আমার কাছে অজানাই রয়ে গেছে। নিবন্ধের কলেবর না বাড়িয়ে এখানে আমি বেদনাবিহ্বল চিত্তে এটুকু বলতে চাই, ১৫ আগস্ট আমার কাছে শোকাবহ একটি দিনই রয়ে গেছে, প্রতিবাদের শাণিত অস্ত্র হতে পারেনি।

লেখক : স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা।

বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.