প্রসঙ্গ: গুজব ও বাস্তবতা

(Last Updated On: আগস্ট ১৫, ২০১৮)

খালেদ গোলাম কিবরিয়া ঃ ছোট বেলায় একটি প্রবাদ শুনতাম গুজবে পাকিস্তান , একটি শ্রেণী সবসময় গুজবে গুজব আমাদের স্বাধীনতার অর্জন কে ছোট করে রাখার চক্রান্তে লিপ্ত থাকতো । ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত একের পর এক গুজবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ কে যখন বঙ্গবন্ধু সুচিন্তিত ভাবে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্পে এটুট ছিলেন তখনই একের পর এক গুজবে জনজীবনে হতাশা দেখা দেয় , গুজবের প্রভাবে বহু মাত্রিক ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহ পরিবারে হত্যা করে ।

বঙ্গবন্ধুকে সহ আওয়ামী লীগের জাতীয় চার নেতাকে হত্যা পর আওয়ামী লীগ কে নিঃচিহ্ন করতে চললো একের পর এক গুজব । আশির দশকে প্রথমেই কিছু লোক পাকিস্তানের অর্থনীতির সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনা করে ব্যাঙ্গ করে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়তো । যখনই মুক্তিযুদ্ধের অর্জন নিয়ে দেশে-বিদেশে মানুষ উচ্ছাসিত বোধ শুরু করলো তখন আরেক গুজব স্বাধীনতা ঘোষক নিয়ে। আশির দশকে শুরুতেও এই গুজব চক্রটি স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে নিশ্চুপ ছিল কারন তারা ভেবেছিল ৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের হৃদয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ও হত্যা করা হয়েছে। মানুষের ঘোর বেশী দিন থাকে না ।

কারবালার মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক ঘটনা যেমন মুসলমানদের কলঙ্কিত করেছে ঠিক তেমনি ১৫ই আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের বাঙ্গালীদের কলঙ্কিত করেছে ।মুক্তিযুদ্ধ যখন বাঙ্গালীদের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল তখনই গুজব চক্রটি মুক্তিযুদ্ধের অর্জনে থাবা দিতে স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে নতুন নাটক অবতারনা শুরু করলো ।

যারা নির্বিচারে অগনিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় হত্যা করেছিল , রাজাকার শাহ আজিজুর রহমান কে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত করেছিল , রাজাকার গোলাম আজমকে দেশে এনে পুনরায় নাগরিকত্ব দিয়েছিল তারা যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনে থাবা দেয় তখনই আমাদের তরুণরা গর্জে উঠে ।এতো গেলো মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবার ধর্মীয় বিষয়ে লক্ষ করি । যখন দেখা গেলো ১৯৯১ আওয়ামী লীগকে আর আটকানো যাবে না এবার স্বয়ং তাদের নেত্রী শুরু করলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মসজিদে মসজিদে উলু ধ্বনি দেওয়া হবে অর্ধেক দেশ ভারত কে দিয়ে দেওয়া হবে । বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংবিধান থেকে তুলে দেওয়া হবে ।গুজবে এবার ও তারা সফল । আওয়ামী লীগকে আরো একটি বারের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হলো তথা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দেওয়া হলো ।

বার আসি অর্থনৈতিক গুজবে , ৮১ এর নির্বাচনে গুজব শুরু হলো আটা রুটি সাক্ষি আছে আর যাবো না নৌকার কাছে । আর বাসন্তীর জালের কাপড়ের ছবি । ১৯৯৬ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পুর্নতা অর্জন করলো তখন তারা রিজার্ভ নিয়ে গুজব শুরু করলো । পরবর্তীতে যখন দেখলো অর্থমন্ত্রী হিসেবে শাহ এম এস কিবরিয়া চুড়ান্তভাবে সফল এবং আগামীতে যদি আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে তার হাত ধরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে অনেক অগ্রসর হবে তাই তাকে মেরে ফেলা হলো ।যে সমাজতান্ত্রিক মতবাদ নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা হতো একেক পর সফল সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চমক লাগিয়ে দিল । যেমন বিনামূল্যে বই , বয়স্কভাতা , বিধবা ভাতা , ভিজিএফ কার্ড ,মুক্তিযোদ্ধা ভাতা শুধু প্রনয়নই করেননি সমায়োপযোগী করে বৃদ্ধি ও করেছেন । আর এবারের দশ বছরে অর্থনৈতিক সক্ষমতায় সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন । পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবের পর গুজবে চললেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অদম্য সাহসিকতা ও অনমনীয় মনোভাব এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব । পদ্মা সেতু নিয়ে সর্বশেষ গুজব স্বয়ং বেগম জিয়া বাজারে ছাড়েন যে পদ্মা সেতু দিয়ে কেউ যাতে কেউ না চলাচল করে কারন এটা মানসম্মত হয় নাই । এ নিয়ে দেশে কম হাসির রোল পড়েনি ! গুজব কারীরা থেমে নেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারকে হঠাতে গুজবে পাকিস্তান এখনো চালু রেখেছে ।সর্বশেষ কোঠা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাথে গুজব মিশিয়ে সরকার পতনের যে চক্রান্ত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় সে গুজবে পাকিস্তান ও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ।

খালেদ গোলাম কিবরিয়াঃ উপদেষ্টা সম্পাদক. দেশপ্রিয় নিউজ ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.