সেতু ধসে ৩৯ জন নিহত ইতালিজুড়ে শোক-ক্ষোভ

(Last Updated On: আগস্ট ১৬, ২০১৮)

কালের কণ্ঠ: ইতালিতে সেতু ধসে ৩৯ জন নিহত হওয়ার এক দিন পর গতকাল বুধবারও ঘটনাস্থলে জীবিতদের অনুসন্ধানে তৎপরতা চলছিল। এই ঘটনার জন্য সরকার সেতু রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত কম্পানিকে দায়ী করেছে। এত লোকের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি ইতালিজুড়ে ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে।

উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর নগরী জেনোয়ায় মোরান্দি সেতুর একটি বিশাল স্প্যান গত মঙ্গলবার ধসে পড়লে এর ওপর থাকা ৩৫টি গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি ট্রাক ৪৫ মিটার নিচের রেললাইনের ওপর গিয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি গতকাল বলেন, নিহতদের মধ্যে ৮, ১২ ও ১৩ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। এখনো বহু লোক নিখোঁজ।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুর দেখভালকারী অটোস্ট্রেড পার ইতালিয়া কম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাদের ১৫ কোটি ইউরো জরিমানা করা হবে। উপপ্রধানমন্ত্রী লুইগি দি মাইয়ো বলেন, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এড়ানো যেত। গতকাল সকালে তাঁর ওই এলাকা সফরের কথা ছিল। তিনি আরো বলেন, ‘অটোস্ট্রেডের রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা কাজটি করেনি।’

আগের রাতে উদ্ধারকারীরা তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। দমকল কর্মকর্তা ইমানুয়েল গিসি বলেন, ‘প্রবেশ করা যায় এমন সব জায়গার তল্লাশি সম্পন্ন। এখন ভেঙে পড়া সবচেয়ে বড় অংশটি সরানো হবে। আমরা জানি না এখনো কাউকে জীবিত পাওয়া সম্ভব কি না। তবে এটা আমাদের দায়িত্বের অংশ।’ শত শত ফায়ার সার্ভিসকর্মী, ক্রেন, পাথর তোলার সরঞ্জাম উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া জীবিতদের অনুসন্ধানে স্নাইফার কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় ১৬ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ডেভিড কেপেলো (৩৩) বলেন, সেতু ভেঙে তাঁর গাড়ি ৩০ মিটার নিচে পড়ে যাওয়ার পর হঠাৎ ভেঙে যাওয়া কলামে আটকে ঝুলতে থাকে। তিনি বেঁচে যান। তিনি বলছিলেন, ‘আমি বের হয়ে আসতে পেরেছি। মনে হচ্ছিল সিনেমার কোনো দৃশ্য। পুরো ঘটনাটিই রহস্যময়।’ আফিফি ইদ্রিস (৩৯) নামের আরেক মরক্কোর ট্রাকচালক বলেন, ‘আমার সামনের সবুজ রঙের ট্রাকটিকে দেখলাম পেছাচ্ছে। আমি ট্রাক থামিয়ে তাতে তালা দিয়ে নেমে ছুটতে শুরু করি।’

ইতালির অবকাঠামো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এই নিয়ে গত পাঁচ বছরে ইতালিতে পাঁচটি সেতু ধসে পড়ল। এই সেতুটির বিষয়ে গত কয়েক বছর থেকে সরকারকে সতর্ক করা হচ্ছিল। ২০১২ সালে এক গণশুনানিতে বলা হয়, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় এই সেতুটি ধসে পড়তে পারে। ১৯৬০-এর দশকে তৈরি এই সেতুতে কাঠামোগত ত্রুটি আছে বলেও ওই সময় জানা যায়। স্থানীয় বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.