সড়কে মৃত্যুর মিছিল, সোমবার নিহত ২৩ জন

(Last Updated On: আগস্ট ২১, ২০১৮)

ঈদে মানুষের ঘরে ফেরার ব্যস্ততার মধ্যে চার জেলায় মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন।

সোমবার নরসিংদী, গাইবান্ধা, ফেনী ও গাজীপুরে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। তিনটি ক্ষেত্রেই বড় গাড়ির সঙ্গে ছোট গাড়ির সংঘর্ষ হয়।

নরসিংদীতে বাসের সঙ্গে লেগুনার সংঘর্ষে ১১ জন, ফেনীতে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ছয়জন, গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার চারজন এবং গাজীপুরে কভার্ডভ্যানের চাপায় দুজন নিহত হন।

নরসিংদী

বেলাব উপজেলায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও আটজন।

সোমবার রাতে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বেলাব থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ জানান।

নিহতদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন, সুনামগঞ্জ জেলাধীন আজমেরীগঞ্জের আবুল হোসেন (৩০), আবদুল মিয়া (২৪), মোবারক মিয়া (১৮), সুজন মিয়া (২২), তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (২০), আবুল হোসেন (৫৫), শামীম (১৮) ও রাকিবুল (৩০)।

নিহত সবাই লেগুনার আরোহী। ঈদ উপলক্ষে তারা বাড়ি যাচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি তৌফিকুল ইসলাম জানান, ভৈরব থেকে রাজধানীর মহাখালীগামী ‘ঢাকা বস’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দড়িকান্দি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতমুখী মরজাল থেকে ভৈরবগামী লেগুনার সংঘর্ষ হয়।

“এতে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই লেগুনার চালকসহ নয় আরোহী নিহত হন। আহত হয় অন্তত ১০ জন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।”

এদিকে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাইবান্ধা

পলাশবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা আরোহী বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আর একজন।

সোমবার বিকালে উপজেলার মহেশপুর এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আখতারুজ্জামান জানান।

নিহতরা হলেন উপজেলা সদরের উদয় সাগর গ্রামের আব্দুল হান্নান (৫০) ও তার ছেলে আব্দুর রহমান (১৫), অটোরিকশা চালক সাদুল্লাপুর উপজেলার মহীপুর বাজার এলাকার সুমন এবং একই উপজেলার জানিপুর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী আরজিনা বেগম (২৬)।

আব্দুল হান্নানের আরেক ছেলে আহত মো. আব্দুল্লাহকে (১০) পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি আখতারুজ্জামান জানান, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জগামী ‘জেনিন পরিবহনের’ একটি বাস অটোরিকশাটিকে পাশ কাটানোর সময় পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

“এতে অটোরিকশাটি উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।”

ফেনী

সদরের মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গরুর ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এক মাইক্রোবাসের ছয় আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

ভোর রাত ৩টার দিকে মুহুরীগঞ্জ সুলতানা ফিলিং স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) নজরুল ইসলাম জানান।

নিহতরা হলেন- চন্দরগঞ্জ উপজেলার মান্দারী গ্রামের নূর মোহাম্মদের মেয়ে জাহান আরা বেগম (৫০), রুমি (৩৫), রুমন (২), শুভ (৮) ও পপি (১৩) এবং মাইক্রোবাসের চালক লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরমোহনা গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে শরিফ রহমান (৪২)।

ওই মাইক্রোবাসে থাকা চন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের চৌধুরী মিয়ার ছেলে আব্বাস উদ্দিন (৩৭), লামছড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রিয়াজ (২৪), মান্দারী গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে রাজু (২২), আবুল কালামের ছেলে শাহ আলম (২২) ও শাহানা আক্তার (৫০) ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিদেশ থেকে আসা এক আত্মীয়কে আনতে ফেনী থেকে ওই মাইক্রোবাসে করে তারা চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন বলে মুহুরীগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. মাহবুব আলম জানান।

এছাড়া ট্রাকের চালক, তার সহকারী এবং গরুর মালিককে চট্টগ্রামের মীরসরাই বারৈয়ারহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কবির হোসেন বলেন, মাইক্রোবাসটি সুলতানা ফিলিং স্টেশন পার হওয়ার সময় টেকনাফ থেকে কোরবানির গরু নিয়ে ছাগলনাইয়াগামী ওই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাহনই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং মাইক্রোবাস থেকে ছয় জনের লাশ উদ্ধার করেন বলে কবির হোসেন জানান।

গাজীপুর

কোণাবাড়ি এলাকায় কভার্ডভ্যান চাপায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিনজন।

দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নতুনবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সালনা হাইওয়ে থানার ওসি বাসুদেব সিনহা জানান।

নিহতরা হলেন কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালার সেলিম রানার মেয়ে সাদিয়া নাজনীন মীম (১৫) ও তাদের গৃহকর্মী সানজিদা (১২)।

ওসি বাসুদেব বলেন, কোণবাড়ি নতুনবাজার এলাকায় টাঙ্গাইলগামী দুইটি কভার্ডভ্যান পাল্লা দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় একটি কভার্ডভ্যান যাত্রীবাহী একটি ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

“এতে ভ্যানে থাকা মীম ও সানজিদাসহ পাঁচজন সড়কে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মীম ও সানজিদা মারা যায়।”

সূত্র -বিডি নিউজ ২৪

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.