চাটুকারী করে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত ও একটি পেশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দরকার

(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮)

নাঈম নিজাম: আমি আওয়ামী লীগ বিট করতাম। ১৯৯১ সালের নির্বাচনকালীন সময় এবং এর পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমরা অল্প কয়েকজন সাংবাদিক সারা বাংলাদেশ সফর করেছি। সর্বশেষ ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাথে দিল্লি ও আজমির গিয়েছিলাম।  অনেক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার পর ওবাদুল কবীর, প্রণব সাহা, পীর হাবিবুর রহমানসহ আমরা কয়েকজন সংবাদকর্মীই প্রথম সাক্ষাৎ করি তাঁর সাথে।  বিট করার সময় কিংবা এখনো আমরা শেখ হাসিনার পক্ষে লেখালেখিও করছি, করেছি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের বাইরে কোনো উপমা যোগ করিনি। ব্যত্তিগতভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে

শেখ হাসিনার সাথে কথা বলার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল; প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলীয় নেতা থাকাকালে। একলা কথা বলার সময় তাঁর সামনে আলাদা করে প্রশংসা করেছি, আবার নেতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরেছি। আওয়ামী লীগের নেতিবাচক কোনো কাজের সমালোচনার জবাবও দিতেন তিনি। অনেক সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলাম। তখন এত সাংবাদিক ছিল না। মৃণাল কান্তি দাস আর নজীব আহমেদের নেতৃত্বে সারা দেশ ঘুরার অভিজ্ঞতা  হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিকের। সব সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী খেতে বসার আগে জানতে চাইতেন, সফরসঙ্গী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তারক্ষীরা খেয়েছেন কিনা। তখন সংবাদ সম্মেলনে আমরা শুধু প্রশ্ন করতাম। উপমা দিতাম না। কিন্তুু এখন অনেক কিছু দেখে বিস্মিত হই।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ২০১০ সালের পর থেকে এক নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এই সংস্কৃতি আগে ছিল না। ২০১৪ সালের পর এই সংস্কৃতির আরও ডালপালা বেড়েছে। অনুজদের কোনো দোষ নেই। এই সংস্কৃতি প্রবীণরা শিখিখেয়েছে নবীনদের। যে শেখ হাসিনাকে আমি চিনি, জানি তিনি এই সংস্কৃতির মানুষ না। তাঁর সামনে নেতিবাচক কথা বলা যায়।  একটা সময় শেখ হাসিনার ইমেজ বাড়ানোর জন্য নিউজ মিডিয়া নামে একটি নিউজ এজেন্সি আমি করেছিলাম। জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, খবর, রূপালীসহ বেশিরভাগ কাগজ এই এজেন্সির খবর প্রকাশ হতো। মারুফ চিনু, মোহসীন আব্বাস, আরিফ রহমান, উত্তম চক্রবর্তী, শাবান মাহমুদ, সোহেল সানি, শাহীন রহমান, সিদ্দিকুর রহমান মান্নাসহ একদল সাংবাদিক এখানে কাজ করতেন। আমাদের যুগে সংবাদ সম্মেলনে গেলে প্রশ্ন করতাম। শেখ হাসিনার প্রশংসাগুলো তাঁর সামনে সাংবাদিকরা করতেন না। তবে করতেন ব্যক্তিগত আলাপচারীতায় অথবা পত্রিকায় লেখার মধ্য দিয়ে।  অনুজদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের কিছু মানুষ অকারনে সংবাদ সম্মেলনে বেশি কথা বলেছেন, বলছেন। কিন্তুু তা অনুকরনের দরকার নেই। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন কর সবাই। জানতে চাও। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করতে হলে, লেখো, টকশোতে কথা বল । তা না পারলে মানুষের সামনে হেঁটে হেঁটে বল। ফেসবুকে লেখো। অনলাইনে লেখো। লাইভ সংবাদ সম্মেলনে অতি চাটুকারী করে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত ও একটি পেশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দরকার নেই। আর সিনিয়রদের বলছি, অনেক তো হলো প্লিজ নিলজ্জের মতো নবীনদের এমন কিছু শেখাবেন না। যা বিব্রত করে সবাইকে।

নাঈম নিজাম, সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ফেইস বুক থেকে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.