সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের পরিবর্তন আসন্ন !

(Last Updated On: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮)

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর  রবিবার লন্ডন জাতিসংঘে সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশে  প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যাত্রা বিরতি করেন বিগত ২২ সেপ্টেম্বর । সেই সময় তিনি ইউরোপ আওয়ামী লীগের এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নেতৃবৃন্দ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকরেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচীনকালীন প্রবাসী আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করেন। ইউরোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক এম,এ,গনির বিরুদ্ধে অসাংগঠনিক ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনেন। 

শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধর্য্য ধরতে বলেন। বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত দুজনকেই উপদেষ্টা করে নির্বাচনের পরে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি করে দিবেন বলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দদের জানান।

 শেখ হাসিনা নির্বাচনে সবাই একসাথে কাজ করার নির্দেশ দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রচার করার পাশাপাশি অপপ্রচার রুখে দিতে বলেন।

উল্লেখ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপর কিছুটা বিরক্ত। তাদের দুজনের সমন্বয়হীনতার অভাবে ইউরোপের প্রায় সবদেশে আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। গতবছর ফ্রান্স ও সুইডেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় অনিল -গনি কাউকে গণসংবর্ধনার মঞ্চে না নিয়ে তাদের উপর বিরক্তির প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ গত এপ্রিলে ২০১৮ যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনার সময় মঞ্চে ৭০ জনের মতো আসন গ্রহণ করলেও মঞ্চে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর জায়গা হয়নি।

ইউরোপ আওয়ামী লীগ ২০০২ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কর্মিসভা করতে পারেনি। কমিটির সদস্য সংখ্যা খোদ ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলতে পারে না। গত এপ্রিলে লন্ডনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে  সভাপতি অনিল ও সাধারণ সম্পাদক গনির ঝগড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিব্রত করে। ঐসময় তিনি দুজনকে সামনে রেখে অন্যানদের কাজ করতে বলেন। ঐসভায় সহসভাপতি নজরুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমানকে নির্দেশ দেন সবাইকে নিয়ে কাজ করতে। এর পরেও ইউরোপ আওয়ামী লীগ স্থবির অবস্থায় পড়ে আছে। গত জুলাই মাসে বেলজিয়ামে ইউরোপ ইউনিয়নে এক সেমিনারের সময় ইউরোপের সব দেশের আওয়ামী লীগ এর নেতা কর্মীরা সমবেত হয়েছিলেন। সেখানে ইউরোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল ও সাধারণ সম্পাদক জনাব গনি কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন এবং পরবর্তীতে এক কর্মী সম্মেলন করবে বলে রোষানল থেকে রেহাই পান। কিন্তু সেই কর্মী সম্মেলন আর করেনি। তাই এবার গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইউরোপ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ এর সময় ইউরোপের নেতা কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের পরে ইউরোপ আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেন।

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.