নির্বাচনকালীন সরকার, বাদ পড়া চিন্তিত অনেক মন্ত্রী

(Last Updated On: অক্টোবর ৮, ২০১৮)
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে নতুন ভাবনা শুরু হয়েছে সরকারি দলে। ওয়েস্টমিনস্টার রীতি অনুসরণ করা বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবেতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা ছোট করে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ পুনর্গঠন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা ছোট করা হবে কিনা, তা নিয়ে ভাবছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সংবিধানে ‘নির্বাচনকালীন সরকারের’ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ীই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। কারণ বর্তমান মন্ত্রিসভা বহাল রাখা বা ছোট করার এখতিয়ার সংবিধান অনুযায়ী একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর।

সরকারি দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জানান, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠিত হতে পারে। আবার এমনটিও হতে পারে, বর্তমান মন্ত্রিসভাই নির্বাচন পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্যক্তিগত পর্যায়ের সেসব আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের অনেকেই মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে নিজ নিজ অভিমত দিয়েছেন। অনেকেই চান, মন্ত্রিসভা যেমন আছে তেমনই থাক। কারণ ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশে মন্ত্রিসভার আকার অপরিবর্তিত রেখেই নির্বাচন হয়। কেউ কেউ আবার মন্ত্রিসভা কিছুটা ছোট করার পক্ষে। কারণ আমাদের দেশের আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের সময় মন্ত্রীদের চলাফেরায় কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যিনি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি সবার কথাই শুনছেন। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন সেসব নেতা।

বর্তমান মন্ত্রিসভা বহাল রাখার পক্ষের যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছেনির্বাচনের আগমুহূর্তে ঘটা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হলে সরকারবিরোধী জোট এ ইস্যুতে আন্দোলনে নামার সুযোগ পাবে। ইতোমধ্যে নিরপেক্ষ ব্যক্তি বা সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপিসহ অনেক দল। আর ঘটা করে নির্বাচনকালীন সরকার না করলে সরকারবিরোধীরা আন্দোলনের সুযোগ পাবে না। সরাসরি তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এর পর সব দলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য।

পাশাপাশি নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে তত ‘টেনশন’ বাড়ছে। নির্বাচনের জন্য মন্ত্রিসভার আকার যদি ছোট করেন প্রধানমন্ত্রী, সে ক্ষেত্রে কারা বাদ পড়তে পারেনতা নিয়েও চিন্তিত মন্ত্রীরা। অনেক মন্ত্রী তো রীতিমতো প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অনুরোধ পর্যন্ত করছেন, তাকে যেন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, এবার মন্ত্রিসভার আকার ছোট নাও হতে পারে। কারণ মন্ত্রিত্ব গেলে আমাদের অনেকেই এলাকায় ঢুকতে পারবে না। মন্ত্রীদের অনেকেরই নিজের এলাকায় শক্তিশালী অবস্থান নেই।

একই বিষয়ে দলটির আরেক নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে এবার হয়তো এমনও হতে পারে, নির্বাচনকালীন সময়ে যারা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়বেন, তারা আগামী নির্বাচনে আর দলীয় মনোনয়নও পাবেন না।

বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি গতকাল এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার। তবে এর আকার নির্ধারণ করার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনিই এটি নির্ধারণ করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রী ৩০ জনের মতো সদস্য নিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করতে পারেন।

মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে। দল হিসেবেও তারা সরকারের জোটের অংশ। সে ক্ষেত্রে কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, কে থাকবেন, কে বাদ যাবেনপ্রধানমন্ত্রীই তা ঠিক করবেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচনকালীন সরকার হবে না। সরকার যেটি আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ সরকারই থাকবে। তবে সরকার তখন রুটিনওয়ার্ক করবে, সরকারের কাজের ধরন বদলে যাবে। হয়তো আকারটা একটু ছোট হতে পারে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে এটা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলে আমাদের সংবিধানে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি দলের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের পার্শ¦বর্তী দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনসহ পৃথিবীর বহু দেশে ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সেসব দেশে নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভা ছোট করা হয় না। পূর্ণ মন্ত্রিসভা নিয়েই নির্বাচনকালীন সময়কার রুটিনওয়ার্ক করেন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, এটি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাদ যাওয়ার পর ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে। ওই নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা করেছিলেন।

 আমাদের সময়।

Print Friendly

 

Print Friendly

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.