পুলিশের মাঝে অন্তর্বাস পরা ব্যক্তিটি আসলে কে?

(Last Updated On: অক্টোবর ২৮, ২০১৮)

ফেসবুকে একটি ছবি গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভাইরাল হয়েছে। পুলিশের মাঝখানে অস্ত্র হাতে বর্ণিল অন্তর্বাস পরিধান করা এক ব্যক্তি দৌঁডাঁচ্ছেন কিংবা দাঁড়িয়ে আছেন।এ ছবিটি বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঢাকার পোস্তগোলায় একটি সেতুর টোল বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় শ্রমিক পুলিশের মাঝে ব্যাপক ধাওয়া এবং পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলিও চালিয়েছে।

তবে পুলিশ গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য অস্ত্রধারীরাও এসেছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি, হাতে অস্ত্র এবং অন্তর্বাস পড়া ব্যক্তিটি আসলে কে? তিনি কি পুলিশের সদস্য? নাকি অন্য কেউ? পুলিশের সদস্য হলে তার ইউনিফর্ম নেই কেন? অস্ত্রধারীরা কি পুলিশের পাশে অবস্থান করতে পারে?

কারণ বাংলাদেশে অতীতে বিভিন্ন সংঘর্ষের সময় দেখা গেছে, ইউনিফর্ম পরিধান করা পুলিশের পাশে অস্ত্রধারীদের অবস্থান করতে। পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে সেসব ছবি পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে।

পোস্তগোলা এলাকায় সংঘর্ষের সময় সে সময় এ ছবিটি তোলা হয়। ফেসবুকে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের দিক থেকে জানানো হয়, অন্তর্বাস পরা ব্যক্তিটি পুলিশের সদস্য।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শফিউর রহমান জানান, সে ব্যক্তির নাম এবাদত। তিনি কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ কনস্টেবল।

শ্রমিকদের হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান ঢাকার পুলিশ সুপার।

পুলিশ বলছে, শ্রমিকরা যখন পুলিশ সদস্য এবাদতের উপর আক্রমণ করে তখন তিনি নিজেকে রক্ষা করতে অন্য পুলিশ সদস্যদের কাছে ছুটে আসেন।

শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হবার আগে কনস্টেবল এবাদত ঘটনাস্থলের পাশে একটি ক্যাম্পে বিশ্রামরত অবস্থায় ছিলেন। শ্রমিকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যখন পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তখন কনস্টেবল এবাদত ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসলে শ্রমিকরা তার উপর আক্রমণ করে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিনি ইউনিফর্ম ছাড়াই চলে আসেন – এমন কথা বলছে পুলিশ। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.