প্রেমের টানে ব্রাজিলিয়ান তরুনী লাকসামে

(Last Updated On: নভেম্বর ৬, ২০১৮)

সেলিম চৌধুরী হীরা ঃ  ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র ও সংস্কৃতিসহ সকল বাঁধা অতিক্রম করে সুদূর ব্রাজিল থেকে প্রেমের টানে লাকসাম উপজেলা গোবিন্দপুর ইউপির দোখাইয়া গ্রামে ছুটে এসেছেন ২৫বছর বয়সী এক প্রেমিকা জুলিয়ানা নামে এক তরুনী। সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ঘর বাধলেন উপজেলার দোখাইয়া গ্রামের আবুল খায়েরের ছোট ছেলে বাহরাইন প্রবাসী আবদুর রব হিরু । সিলেট মদন মোহন কলেজ থেকে রাষ্ট বিজ্ঞান বিভাগে শেষ বর্ষে অধ্যায়নরত অবস্থায় জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান প্রবাসে। বছর খানেক পূর্বে দেশে আসেন হিরু। গত ৩১শে অক্টোবর ঢাকায় কাকরাইল একটি কাজী অফিসে ওই প্রেমিক যোগল বিয়ে করেন।
এই অসীম প্রেমের সংবাদ সংগ্রহ করতে গত সোমবার সরেজমিনে উপজেলার দোখাইয়া গ্রামে প্রেমিক হিরু বাবা আবুল খায়েরের বাড়ীতে গিয়ে কথা হয়। খুবই আন্তরিক ভাবে প্রেমিক হিরু তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন তার ও বড় ভাই মানিক। এর পর হিরুর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৬জুলাই ২০১২সালে বাহারাইন কর্মস্থলে অবসরে ইংরেজী ভাষা শিক্ষা সেন্টারে দুজনার পরিচয় হয়। পরে ফেইসবুকে জুলিয়ানার আইডিতে লাইক দেয় হিরু। জুলিয়ানও তাকে লাইক দেন। এভাবেই শুরু হয়ে চলতে থাকে তাদের প্রেম আলাপ-আলোচনা। এক পর্যায়ে তাদের টেক্স বিনিময় থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো। সেই থেকে দুজনের মধ্যে প্রেম-ভালবাস সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর থেকে ব্রাজিলের প্রেমিকা জুলিয়ানা সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ের সম্পর্কের কথাবার্তা শুরু করে ঘনিষ্টতা বেড়ে যায়। ব্রাজিলের প্রেমিকা জুলিয়ানা বাবা মারকোর্স জিয়ানিং’র সাথে আলোচন করে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গত ৩১শে অক্টোবর বাংলাদেশে আসেন ওই প্রেমিকা ও তার বাবা। ঢাকায় এয়ারফোটে বাংলাদেশের হিরু বাবা মেয়েকে রিসিভ করে কাকরাইল কাজী অফিসে ইসলাম ধর্ম গ্রহনের মাধ্যমে ৫লক্ষটাকা দেন মোহরে বিয়ে করি। এরপর মিরপুর-২ একটি ভাড়া বাসায় উঠি। গত মঙ্গলবারে হিরু তার প্রেমিকা জুলিয়ানা ও তার বাবাকে নিয়ে নিজ বাড়ীতে আসি। সকলের আর্শিবাদে ও উপরালার ইচ্ছায় আমরা সুখের সংসার করছি। জুলিয়ানা কিছু বাংলা বলতে শিখেছে। আমাদের পরিবারের সকল সদস্য এই সম্পর্ক নিয়ে খুবই খুশি।
এ গভীর প্রেমের খবরে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশু সহ লোকজন প্রেমিক আব্দুর রব হিরু’র বাড়িতে ভীড় জমাচ্ছেন। গত ১লা নভেম্বর হিরুর বাবা আবদুল খালেক এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের কে নিয়ে বধুবরণ উপলক্ষে ৩শ লোকের মেসবানীর আয়োজন করে। স্থানীয় এক রিক্সা চালক অটোরিক্সা নিয়ে ওই নব দম্পতিকে নিয়ে আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখান। এরপর জুলিয়ার বাবা রিক্সার পেন্ডেল চেপে মেয়ে এবং জামাইকে নিয়ে আনন্দ উল্লাস করেন। বর্তমানে নবদম্পতি তাদের ভাড়া করা ঢাকার বাসায় অবস্থান করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.