গাদ্দার-বেঈমান গালি শুনে গাড়ি থেকে নামলেন কাদের সিদ্দিকী

(Last Updated On: নভেম্বর ১০, ২০১৮)

একাত্তরের রণাঙ্গণের বীরযোদ্ধা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে এবার শুনতে হলো. ‘বেঈমান-গাদ্দার’ গালি। রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্বে পুজি করে যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে, আল্লাহ যদি আমাকে দুই বছর সময় দেয়- তাহলে শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি ঘুচিয়ে দেবো।

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় কাদের সিদ্দিকী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার এখানে আসার কথা ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য আমি জীবন ঝরিয়েছি, তার জন্য আমি রাজনীতিতে এসেছি, যতদিন বেঁচে থাকব আমি বঙ্গবন্ধুকে লালন করে বেঁচে থাকব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা বাংলাদেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে আল্লাহ যদি আমাকে সময় দেন তাহলে শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি ঘুচিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।

বঙ্গবীর খেতাবপ্রাপ্ত এই বীর বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয় নাই। শেখ হাসিনা রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা তুলে দিয়েছেন। কাদেরিয়া বাহিনী যাকে বন্দি রেখে জামালপুর জেলে রেখেছিলাম সেই জামালপুরের সরিষাবাড়ির নুরুকে প্রথম পতাকা দিয়েছে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে। তারপর রংপুরের আশিকুর রহমান, চাঁদপুরের মহিউদ্দিন আলমগীরকে ময়মনসিংহের ডিসি, টাঙ্গাইলের ডিসি আমার ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান আশিকুর রহমানকে পাছায় লাথি মারতে মারতে জেলখানায় ঢুকিয়েছিল।

রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শেষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকি ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তার গাড়ি বহর নিয়ে।গাড়ি বহরের ৫টি গাড়ির মধ্যে তার গাড়ি ছিল সবার সামনে। সমাবেশ থেকে ফেরার পরে কুমারপাড়া রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে এলে, ‘গাদ্দার-বেঈমান’ গালি শুনে গাড়ি থেকেনেমে আসেন কাদের সিদ্দিকী। তার গাড়ি বহরে থাকা অন্য লোকজনও এসময় তার পাশে এসে অবস্থান নেন। তাদের মাথায় লাল গামছা বাঁধা ছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জড়ো হওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে গিয়ে জানতে চান, কে গালাগালি করলো আমাকে? আমি বঙ্গবন্ধুর যোদ্ধা। কী কারণে আমাকে গালি দেওয়া হলো আমি জানতে চা্ই। এসময় অাওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জটলা থেকে একজন বলে ওঠেন, আপনি একটা দালাল-বেঈমান। আজকের বক্তব্যে আপনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়ার তুলনা করেছেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, পুরো বক্তব্য না শোনে না বুঝে কথা বলাটা তোমাদের কে শিখিয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর যোদ্ধা হয়ে কখনোই তার সঙ্গে জিয়ার তুলনা করতে পারি না। আমি বোঝাতে চেয়েছি, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়া তুলনা করাটা অন্যায়। বঙ্গবন্ধু দেশের নেতা, জাতির পিতা। আমরা তার সন্তান। ফয়দা লুটার জন্য তার জিয়ার তুলনা হচ্ছে। এটা বন্ধের কথাই আমি বলেছি।

কাদের সিদ্দিকী এ কথা বলার পর পরই জড়ো হওয়া ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা, ভুয়া ভুয়া- শ্লোগান দিতে থাকে। কর্তব্যরত পুলিশ এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার অাগেই কাদের সিদ্দিকী গাড়িতে ওঠে যান এবং গাড়ি বহর নিয়ে ওই স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ফেনে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু ছেলে আমার বক্তব্য না বুঝে গালাগালি করছিলো। আমি আমার বক্তব্যে যা বলেছি, তার পরিস্কার ব্যাখা করে এসেছি। আমি বলেছি, সারাজীবন দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুকেই বাংলাদেশ মনে করতে ভালবাসি। বঙ্গবন্ধুকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমি এক করতে পারি না। বঙ্গবন্ধু দেশের নেতা, জাতির পিতা। আমরা তার সন্তান। অথচ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়ার তুলনা জাতিকে দ্বিখন্ডিত করে ফায়দা লুটছে, তাদের দুরভিসন্ধি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথাই অামি বলতে চেয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.