স্ক্রিন বন্দী শিশুদের বাঁচান

(Last Updated On: নভেম্বর ১৪, ২০১৮)

ডাঃ ইকবাল আনোয়ার : দোহাই আপনার শিশুকে স্ক্রিন দেখিয়ে খাওয়াবেন না। ক্ষুধা লাগলে সে এমনি খাবে।

বড়ো কষ্ট হয় তাদের জন্য। কি বন্য – জঘন্য সময়ে তারা এলো দুনিয়ায়।

কেন স্ক্রিনে জীবন বন্দী

* * *

মা বাবা হয়তো দু জনে ব্যস্ত। সন্তান থাকে, নানী দাদি অথবা গৃহকর্মীর সাথে। অথবা থাকে একসাথেই, খেতে চায়না শিশু, তাই মোবাইলে বা টিভিতে গেইম, গান, কার্টুন দেখিয়ে খাওয়াবার অভ্যাস করা হয়েছে।

এটা না হলে এখন চলছেই না। সান্ত্বনা হলো যে ভবেই হোক অন্তত খাচ্ছে তো!

না, এটাকে খাওয়া বলেনা। শিশু এতে খাবার মজা পায়না। তার মন স্ক্রিনের দিকে। ফলে খাবার হজম হচ্ছেনা, কি খায় তা জানেনা, ঘাস না লতা!

এ ভাবে বন্দী শিশুদের পরিণতি!

* * * * *

স্ক্রিনের জীবনে বন্দী এ সব শিশুদের মানসিক বিকাশ কম হচ্ছে। তারা সামাজিক আচরণ, মেলামেশার আনন্দ, কথা বলা, ভাব প্রকাশ করা, ইত্যাদি থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

শেষে এমন অবস্থা হতে পারে যে-

শিশু কথা বলছেনা, বলছে দেরীতে,

ভাব প্রকাশে অপারগ, সামাজিক যোগাযোগে পিছিয়ে পড়ছে, কেউ কিছু জিজ্ঞাস করলে বলছেনা, দিতে চাইলে নিচ্ছেনা, নিতে বললে নিচ্ছেনা।

কিছু বলছে তো চোখের দিকে তাকিয়ে বলছে না

নিজের পছন্দের বাইরে কিছু হলেই মারাক্তক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

একা থাকছে নিজের ভুবনে। একা খেলছে। অন্যের সাথে খেলছে না। কেবল স্ক্রিন দেখানোর সাথে সাথে একদম বশ!

এসব যে একত্রে আজই দেখা দেবে তা না। একটা বা অনেক গুলো লক্ষণ বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন মাত্রায় দেখা দেবে। এভাবে তার ভবিষ্যৎ ভীষণ বিপন্নতায় নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। তার দায় কে নেবে!

এতোটা বিপদজনক জানতাম না! এখন কি করি!

* * * * * * *

আপনি আজই তার কাছ থেকে স্ক্রিন সরিয়ে নিন। বড় দেরী হবার আগেই, দরকার হলে ঘরে রাখবেন ই না।

অাঠোরো মাসের অাগে শিশুর কাছে মোবাইল দেয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। তার পর কেউ সংগে থেকে শিক্ষামূলক অনুসঙ্গ যোগ করে মাত্রা মেনে দেয়া যেতে পারে।

withdraw (প্রত্যাহার) করলে কিছু

symptom( প্রভাব/ উপসর্গ) দেখা যেতে পারে, তবে এটা সহ্য করে মানিয়ে নিতে হবে। কিছুদিনের জন্য।

এ সময়ে সে খিটখিটে হবে। খাবেনা। জেদ করবে, রাগ করবে, নাছোড়বান্দা হবে। এবং অারো কিছু সমস্যা হবে এগুলো সাময়িক ও স্বাভাবিক। অাপনার পজেটিভ আচরণে ক্রমে তা কমে অাসবে।

তার পর সঠিক পথে সে অাসবে। ক্ষুধা লাগলে খাবে। খাবার নিয়ে জোর, ধমক, মারধর, প্রলোভন মোটেও নয়।

শিশুর সংগে সময়,কাটাতে যোগ্য সময় দিন, যতোটা পারা যায়, যারা তার পরিচর্চায় অাছেন, তাদের মনোভাব পাল্টানো, প্রশিক্ষিত করা জরুরী।

শিশুকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যান। নানান কিছু প্রকৃতির মধ্যে পানি গাছ লতা চাঁদ নদী পুকুর সমুদ্র পাহার অন্তত পার্ক দেখান। চিড়িয়াখানায় যেতে পারেন। জানি অামি, মনে মনে বলছেন, বলতে সহজ, সময় কই, নেবার জায়গা কই! সব মানলাম, অাপনার সমস্যা অাপনার অবস্থায় কেউ না পড়লে বুঝবে না। তবে কি, কিছু দিক বাতলে দিতে চাই, যেন অাপনি নিজের উপায় খোঁজে পান।

‌ তার উৎসাহটা খোঁজে বের করুন বা নূতন কিছুর প্রতি তার ভালো লাগা তৈরী করুন। হতে পারে ছবি আঁকা, গান, মিউজিক কিছু দিয়ে কিছু বানানো। মাঠে খেলা, তার খেলনা হবে বয়স মাফিক, বুদ্ধি বৃদ্ধিকারক, সমস্যা সমাধান মূলক। শিশুরা বড়োদের অনুকরণ করে। আপনি বা অাপনারা সারাদিন ফেস বুকিং করবেন, শিশু জনপ্রিয় গানের কলির মতো চেয়ে চেয়ে দেখবে তা ভাবার কারণ নেই।

বড়োদের স্ক্রিন -জীবন

অার বড়েদের স্ক্রিনের খবর অারেকদিনের জন্য রেখে দিলাম। চিকিৎসক হবার কারণে অনেক অন্তঃপুরের খবর জানা। এ সব সামাজিক দায়ে লিখি। মনে কিছু নেবেন না। অাজ ইতি।

ডাঃ ইকবাল আনোয়ার,

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ।

ফেইস বুক থেকে।

সাবেক সভাপতি, বিএমএ, কুমিল্লা।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.