ড. কামালের মুখ ও মুখোশ!

(Last Updated On: নভেম্বর ২০, ২০১৮)

ফজলুল বারী :বাংলাদেশ তথা ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রথম ছবির নাম ছিল ‘মুখ ও মুখোশ’। কালক্রমে এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক ব্যবহৃত শব্দ এবং উপমা। ড কামাল হোসেনের অতীত ও সাম্প্রতিক রাজনীতির বিশ্লেষণে উপমাটি কেনো নিলাম তা আজ ব্যাখ্যা করবো। এ ব্যাখ্যাটির জন্যেও যে বিশাল ক্যানভাস দরকার তাও এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করবো। কারণ বেশি বড় লেখা পাঠক পছন্দ করেননা। অত সময়ও তাদের নেই। সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করবো সবকিছু।

ড কামাল হোসেনের মোটা দাগের পরিচয় তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি। বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বিশাল হৃদয় দিয়ে এমন অনেককে অনেক কিছু করে দিয়েছিলেন। অপাত্রে অনেক দানও ছিল। ঠকবাজ সাময়িক হয়তো মনে করেছে বঙ্গবন্ধুকে ঠকে দিলাম। কিন্তু ঠকতো ঠকই। সে কখনো আসল হয়না। তাঁর তেমন একটি অপাত্রের নাম এই ড কামাল হোসেন। নির্বাচনে জয়ের কোন যোগ্যতা অথবা আসন তার ছিলোনা। কারণ বরিশালের যেখানে তার বাড়ি সেখানকার লোকজনের সঙ্গে তার কোনদিন কোন যোগাযোগ ছিলোনা। এখনও নেই। অতএব বঙ্গবন্ধু তাঁর নির্বাচিত একটি আসন ছেড়ে দিয়ে তার স্নেহের কামালকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি করে এনেছিলেন। এটিই ড কামালের প্রথম ও শেষ সংসদীয় জীবন। কিন্তু অকৃতজ্ঞ ড কামাল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার আশেপাশেও কোথাও ছিলেননা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার আশেপাশেও ছিলেননা। আইন ব্যবসায়ী ড কামাল দেশে যখনই ছিলেন আইনজীবীর কালো আলখাল্লা পরে আদালত পাড়ায় গেছেন। কিন্তু দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি মামলা যখন যে কোর্টে চলেছে তিনি সেদিকটায় ভুলেও ঢু মারেননি। অতএব মোটা দাগে বলা চলে ড কামালের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান তাই কাকতালীয় বা হঠাৎ সৃষ্ট কোন আসমানি ওহী নয়। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ।

একটু পুরনো সময়ের দিকে যাই। স্বাধীনতার আগে পরে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল জোট নিরপেক্ষ বিশাল ক্যানভাসের। এবং সবকিছুর মূল স্বার্থ ছিল বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। তাঁর নেতৃত্বের আওয়ামী লীগের মধ্যে নানান খোলা জানালা ছিল। তাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক চিন্তার। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ সম্পর্ক ছিল। যা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খন্দকার মোশতাক-ড কামালরা ছিলেন পুঁজিবাদী মার্কিন লবির ঘনিষ্ঠ। মার্কিন বিরোধিতার মুখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও খন্দকার মোশতাকের ভূমিকা গোপন থাকেনি। ড কামাল যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে স্বেচ্ছা বন্দিত্ব নেন তাই তখন তার ভূমিকা জানা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পর এরা আবার স্বরূপে আবির্ভূত হন। অনেকে বলার চেষ্টা করতে পারেন এসব তো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রশ্রয়ে। তা ঠিক। সেই যে আগেই বলেছি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ক্যানভাসটি ছিল অনেক বড়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং নিয়েছেনও। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও। কিন্তু স্নেহের লোকগুলো যে তাকে হত্যাও করতে পারে তা তার মতো বিশাল হৃদয়ের মানুষ ভাবতে পারেননি। যার নামে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে সে দেশের লোকজন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারে এটা তখন বাংলাদেশের কে ভেবেছে? বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ছিল মার্কিন লবির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন করার প্রতিশোধ। মার্কিন লবি এটি তার এদেশীয় এজেন্টদের দিয়ে তা করিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় ড কামাল ছিলেন বিদেশে। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর বইতে পড়ুন। জার্মানিতে শেখ হাসিনা-শেখ রেহানার সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। কিন্তু বিদেশে থাকা সত্ত্বেও ড কামালকে দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা-প্রতিবাদ করানো যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করানো ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য বিশৃঙ্খল করে দেবার পরিকল্পনার অংশ। যে পরিকল্পনা নিয়ে তখন মাঠে নামেন জিয়া। আওয়ামী লীগকে শর্ত দেয়া হয় বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে তারা দল করতে পারবেনা। বাংলাদেশ স্বাধীন করার কি শাস্তি! বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া যাবেনা! কী মহান মুক্তিযোদ্ধা জিয়া! বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কেউ বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে পারবেনা! সেই বিশ্বাসঘাতক জিয়া, তার দল এখন ড কামালদের কাছে মহান গণতন্ত্রী! যে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আটকে দিয়েছিলেন সেই খালেদা এখন ড কামালের কাছে গণতন্ত্রের মহান নেত্রী! গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ড কামালরা সমবেত বিএনপির পিছনে? সামরিক জেনারেলের দল বিএনপি এখন সংবিধান প্রণেতা ড কামালের পয়লা নাম্বার পছন্দ? মুখোশের এই অংশটা উন্মোচনের আগে আরেকটু পিছন ঘুরে আসি।

অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন ১৯৮১ সালে যখন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় তখন ড কামালের একটি ভূমিকা ছিল। কেনো সেই ভূমিকা মনে করতে পারেন? বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতাবিহীন আওয়ামী লীগ তখন জিয়া সহ খুনিদের পরিকল্পনায় চরম বিশৃঙ্খল। দলের চেইন অব কমান্ড বলতে কিছু নেই। এক নেতা আরেক নেতাকে মানেননা! ড কামালদের তখন মনে হলো শেখ হাসিনাকে সভানেত্রী আনলে তাদের সুবিধা হবে! শেখ হাসিনাকে শিখণ্ডী বানিয়ে নেয়া যাবে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব! কিন্তু শেখ হাসিনার শরীরে যে বঙ্গবন্ধুর রক্ত, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় হওয়া শেখ হাসিনা যে কারো কলের পুতুল হবার না তা জানতে বুঝতে ড কামালদের বেশি দেরি লাগেনি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা তাঁর কামাল চাচাদের সুযোগ কম দেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মেলানো জেনারেল ওসমানী এবং পরে ড কামালকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে দুটো নির্বাচনও করেছেন। কিন্তু দু’জনেই ডাব্বা মেরেছেন। অথবা বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’এর সঙ্গে পেরে ওঠেননি।

ড কামালের আসল চেহারা বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে প্রকাশ পায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময়। এরশাদের পতনের পর তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন ছিল একমাত্র আওয়ামী লীগের। মওদুদগং খালেদাকে ছেড়ে এরশাদের সঙ্গে যোগ দেয়ায় বিএনপির তখন ছত্রখান অবস্থা। এমনকি আজকের চরম বিপ্লবী মির্জা ফখরুলের বাবা ঠাকুরগাঁওর রাজাকার শান্তি কমিটির নেতা মির্জা রুহুল আমিন চোখা মিয়াও তখন বিএনপি ছেড়ে এরশাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে হঠাৎ করে ড কামালের মন উঠে গেলো তা তাঁর তৎকালীন নেতাকর্মীরা জানেন। নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনি হঠাৎ তার নেতাকর্মীদের বলেন তিনি নির্বাচনের খরচ দিতে পারবেননা। তখন সবাই বুঝে গেলো আমেরিকা চাইছেনা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক তাই ড কামালও আওয়ামী লীগের বিজয় চাইছেননা! সেই তার সবকিছুতে সবার উপরে আমেরিকা সত্য! তৃণমূল সংগঠন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে হারিয়ে দেয়া হলো আর ড কামাল বললেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে! সেই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এর কি বিশাল প্রতিবাদ হয়েছিল তা অনেকে মনে করতে পারেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী শুয়ে পড়েছিল ধানমন্ডির বত্রিশ নাম্বার সড়কের রাস্তায়! শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত বদলের আগে পর্যন্ত তাদের নড়ানো যায়নি। মূলত তখনই নেতাকর্মীদের চাপে চাচাদের হটিয়ে আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ হয়। ড কামালও বুঝে ফেলেন আওয়ামী লীগে তার আর খাওয়া নেই। এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে তিনি নিজের নতুন রাজনৈতিক দোকান খোলেন গণফোরাম। যা কোনদিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের পিছনের জায়গায় প্যান্ডেল বেঁধে গণফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথা অনেকে মনে করতে পারবেন। সেখানে মূল প্রবন্ধ পড়েছিলেন ড ইউনুস। আমেরিকা আমেরিকা ভাই ভাই! ‘পথের বাধা দূর করতে হবে’ ছিল সেই প্রবন্ধের শিরোনাম। এদের তো পথের বাধা মানে আওয়ামী লীগ! এর নেত্রী শেখ হাসিনা। কারণ বাংলাদেশে এই প্রথম একজন রাজনৈতিক নেত্রী যিনি আমেরিকা কেনো, বিদেশিদের পাত্তা দেন কম। কিন্তু ড কামালের গণফোরাম অশ্বডিম্ব হয়েছে। এরপর এই চক্রটি চেষ্টা করেছে ওয়ান ইলেভেনের সময়। ড ইউনুস আলাদা রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছেন। ড কামাল হয়েছিলেন ওয়ান ইলেভেনের অরাজনৈতিক সরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টা! তিনি সংবিধান প্রণেতা। তিনি তখন ফতোয়া দিয়েছিলেন ওয়ান ইলেভেনের সরকার অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে! তখন জনতার চাপে ড কামাল-ইউনুসদের দুই নাম্বারি ব্যর্থ হয়। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন-অপশাসন, হাওয়া ভবনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয় বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের বিপুল ম্যান্ডেটে শুধু বিএনপি-জামায়াত না হেরে যান ড কামাল-ইউনুসরাও। কারণ আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়া মানে আমেরিকার পরাজয়। আমেরিকা হারলে ড কামাল-ইউনুসরা জয়ী হন কী করে?

এরপর থেকে দুই ডক্টর ড কামাল-ড ইউনুস দেশেবিদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গেছেন। গণজাগরণ মঞ্চের বিজয়ে তারা আসেননি। মুখে শরমে কিছু বলতে না পারলেও মেয়ের জামাইকে দিয়ে এর বিরুদ্ধে কাজ করে গেছেন ড কামাল। পদ্মাসেতুর কাজ আটকে দিয়ে ড ইউনুস ভেবেছিলেন এই বুঝি জব্দ হয়ে গেলো শেখ হাসিনা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা যে উল্টো তাদের গালে চড় বসাবেন তা তারা ভাবতে পারেননি। শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় শীর্ষ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ চলছে জোরকদমে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন আর কোন রূপকল্প নয়। দেশেবিদেশে বিস্ময়কর সত্যি ঘটনা।

অতঃপর ড কামালের মনে হলো নো হোয়ার বিএনপি-জামায়াতকে একটা ফ্লোর দেয়া দরকার! যেহেতু তিনি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চৌ-সীমানায় ছিলেননা এটি তার জন্যে সহজ হয়েছে। অথবা যদি বলা হয় তার মক্কা আমেরিকা চায়নি বলে তিনি দেশের বড় এই দুটি আইনি-যজ্ঞে ছিলেননা তাহলে কী ভুল বলা হবে? আমেরিকার ইচ্ছায় বিএনপি-জামায়াতকে ফ্লোর দিতে গিয়েও কিছু মুখোশ পরেন ড কামাল! এই যজ্ঞে তার সঙ্গে যোগ দেন রব-মান্না-সুলতান মনসুর-কাদের সিদ্দিকীর মতো কিছু রাজনৈতিক এতিম। একদা এরাও নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। ছোটছোট লোভ সামাল দিতে না পেরে তারা এখন কূলহারা। যেমন আ স ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী রাজনৈতিক দল পরিচালনার জন্যে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মাসিক টাকা নিতেন। এদের রাজনৈতিক দোকানের ভবিষ্যৎ না দেখে সে টাকা বন্ধ হয়ে গেলে তারা চোখে সর্ষে ফুল দেখেন। ওয়ান ইলেভেনের ক্যাপ্টেন পর্যায়ের অফিসারদের ইচ্ছায় চলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাট হারান মান্না-সুলতান মনসুর। এই এতিম সমাবেশে ড কামাল প্রথমে বলেছিলেন জামায়াত তাদের ঐক্যে থাকবেনা। এরপর এতিম মান্নাকে দিয়ে বলান এটা বিএনপির ব্যাপার!

তারেক রহমান নিয়ে শুরুতে ড কামাল বলেছিলেন ‘কোথাকার কোন তারেক রহমান লন্ডনে বসে কী করছে না করছে’! দুর্নীতি আর খুনের মামলায় দণ্ডিত বিদেশে পলাতক তারেক যখন তার জোটের প্রধান দল বিএনপির প্রার্থী ঠিক করছে ভিডিও কনফারেন্সে তখন কবি ড কামাল নীরব! এ ব্যাপারে তার সংবিধান কি বলে? যে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছে সে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল পরিচালনা কতে পারে? সে দল থাকতে পারে তার নেতৃত্বাধীন জোটে? দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত জেলে থাকা খালেদা জিয়াকে হঠাৎ ড কামাল বলে ফেললেন রাজবন্দী! প্রথমে মুখে মুখোশ থাকায় খালেদা জিয়ার নাম মুখে নেননি। বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবী সমাবেশে গিয়ে আর জোশ সামাল দিতে পারেননি! মুখোশ তার এভাবে একটু একটু করে খসে পড়েছে পুরোটা! এরা জোট করেছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলে! প্রথম বৈঠক আমেরিকা সহ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে! এ ব্যাপারে আপনি সংবিধানে কী লিখেছিলেন ড কামাল হোসেন? এরা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সম্পাদকদের প্রায় সবাই বিএনপি-জামায়াত সমর্থক! মুখোশ এখানেও খসলো। মোটকথা এই জোটের মূল টার্গেটটি হলো মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হঠানো। শেখ হাসিনা যিনি নিরবচ্ছিন্ন আন্তরিকতায় বাংলাদেশকে অভাবিত এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তাঁকে ক্ষমতা থেকে নামানো? এটাই তাদের মার্কিন এসাইনমেন্ট? গণতন্ত্র, জনগণই মালিক এসব বুলি সব এই মুখোশধারীর বোগাস সব আওয়াজ।

প্রতারক মুখোশ যখন খসেছেই এদের রুখতে হবে। বাংলাদেশকে মার্কিন থাবা থেকে রক্ষা করতে আগামী নির্বাচন আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ। মনে রাখতে হবে শত্রুপক্ষকে হারাতে যুদ্ধ শুধু ভোটে হয়না। নির্বাচনে বাংলাদেশের স্বাধীনত।

ফজলুল বারী। প্রবাসী সাংবাদিক, অস্ট্রেলিয়া।

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.