পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তামান্না ও জসিম

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯)

যুগান্তর:   তামান্না নূরা ও জসিম। একজনের দুই হাত ও এক পা নেই, আরেকজনের নেই দুই হাত। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে স্বপ্ন জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে যশোরের তামান্না ও ফরিদপুরের নগরকান্দার জসিম। পা দিয়ে লিখেই এক ক্লাস দু’ক্লাস করে এ পর্যন্ত এসেছে তারা। এবারও স্বপ্ন ছুঁতে পায়ের যুদ্ধে নেমেছে এই দুই শিক্ষার্থী। যশোর ব্যুরোর ইন্দ্রজিৎ রায় ও নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি মিজান বাবুর পাঠানো খবর-

যশোরের তামান্না : জন্মগতভাবেই দুই হাত ও এক পা নেই তামান্না নূরার। এবার এক পায়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী। তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির মেয়ে। অদম্য এই মেয়েটি প্রথম শ্রেণী থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিল।

পাশাপাশি এডাস বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল। ২০১৩ সালে সে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) ও ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। তামান্না ঝিকরগাছার বাঁকড়া জেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি দিচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানীয় বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ।

শনিবার সকালে বাবা রওশন আলী হুইল চেয়ারে করে মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান। দ্বিতীয়তলার ২০৯ নম্বর কক্ষে তার আসন পড়েছে। সেখানে আলাদা একটি চৌকিতে বসিয়ে তাকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই সে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দিয়েছে।

তামান্না নূরা বলে, ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাইছি, আমি যেন ভালো ফলাফল করতে পারি।

নগরকান্দার জসিম : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জসিম। জন্ম থেকেই দুটি হাত না থাকায় এবার ‘পা দিয়ে লিখে’ এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে। তার পরীক্ষা কেন্দ্র উপজেলার মনোহরপুর এমএ শাকুর মহিলা কলেজ।

জানা যায়, জসিমের বয়স যখন ৪ বছর, তখন থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ৫ বছর বয়সে কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জসিমের বাবা মাকে বুঝিয়ে তাকে স্কুলে ভর্তি করান। তার পায়ের আঙ্গুলে চক ও পেন্সিল দিয়ে একটু একটু করে লেখার অভ্যাস শুরু করা হয়। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস পুরোপুরি আয়ত্ত করে ফেলে জসিম। তার পায়ের লেখাও অনেক সুন্দর।

জসিম নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের উত্তর পাড়ার দরিদ্র কৃষক হানিফ মাতুব্বর ও গৃহিণী তছিরন বেগমের ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড় জসিম। অভাবের সংসারে অতি কষ্টে স্বপ্ন জয়ের পথে ছুটছে জসিম। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে অবসরে নিয়মিত ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও ফুটবল খেলে সময় কাটায়। জসিমের বাম হাতটি পুরোপুরি না থাকলেও, ডান হাতের মাত্র তিন ইঞ্চি অংশ দিয়ে চমৎকারভাবে খেলাধুলা আয়ত্ত করেছে।

জসিমের বাবা হানিফ মাতুব্বর বলেন, শত কষ্ট ও অভাবের মধ্যেও আমি সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছি। আমি চাই ওরা মানুষের মতো মানুষ হোক। জসিম যুগান্তরকে বলেন, প্রথমে কেউ ভাবেনি আমার পক্ষে লেখাপড়া করা সম্ভব। তবে বাবা-মায়ের আগ্রহ আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় তা সম্ভব হচ্ছে। আমি লেখাপড়া শিখে একজন ভালো শিক্ষক হতে চাই।

যুগান্তর…

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.