যে কারনে প্রধানমন্ত্রীর লিখা তালিকায় সীমা প্রথমে

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯)

কে জি কিবরিয়া ঃ  একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে কুমিল্লার জনপ্রিয় নেত্রী আঞ্জুম সুলতানা সীমার নাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে লেখা তালিকায় ৪১ জনের মধ্যে ১ নাম্বারে আসায় নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় ।

সীমার পিতা কুমিল্লার পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আফজল খান যিনি আইউব খাঁন থেকে শুরু করে প্রতিটি সামরিক সরকারের সময়কাল দলের জন্য লড়াই করে নির্যাতিত হয়েছেন । দলের দুঃসময়ে দলের জন্য নিজের অর্জিত সম্পদ বিনা হিসাবে খরচ করেছেন । যিনি স্বৈরশাসক এরশাদকে কুমিল্লা টাউন হলে ৫ মিনিট জনসভা করতে দেন নি । ফ্রিডম পার্টির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১৯৮৯ সালে দলীয় কার্যালয়ে হামলা করতে আসলে তিনি কর্মীদের নিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে ফ্রিডম পার্টি কার্যালয় গুড়িয়ে দেন । ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে কুমিল্লা আওয়ামী লীগের বর্তমানে ক্ষমতাশীল কেউ কেউ পত্রিকায় ঘোষনা দেন আর কেউ কেউ বি এন পি জামায়াতের ভয়ে কান্দির পাড় না নামতে পারলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি অধ্যক্ষ আফজল খান কর্মীদের নিয়ে বীর দর্পে মিছিল করছেন , নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতি বছর দলের দুঃসময়ে ও ১৫ আগষ্ট বিশাল পরিসরে শোক দিবস পালন করতেন ।

২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপর গেনেট হামলার পর তিনি দলীয় দ্বায়িত্বে না থাকলে ও সমমনা রাজনৈতিক মিত্রদের নিয়ে গনতান্ত্রিক প্রগতিশীল জোট করে কুমিল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলেন । পরে চৌদ্দ দল গঠিত হলে এর আহবায়ক হয়ে নেতৃত্ব দেন । বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৯ সালে কুমিল্লা সাংগঠনিক সফরে আসলে ৪ দিন আঞ্জুম সুলতানা সীমাদের বাড়ীতে অবস্থান করেছিলেন । তখন অবসর পেলেই পরম আদরে সীমার মাথায় তেল দিয়ে আঁচড়িয়ে দিতেন । ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কুমিল্লা সদর আসনে চির প্রতিদ্বন্দ্বী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে জয়ী করতে নিরলস শ্রম দেন । তাঁর প্রচেষ্টায় ৭৫ পরবর্তীতে সদর আসনে প্রথম বারের মত নৌকা জয়ী হয় । পিতার পরিচয় ছাড়াও সীমা তার দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক জীবনে সততা , নিষ্ঠা ও শোভনীয় আচরনের জন্য দলমত নির্বিশেষে গ্রহনযোগ্য অবস্হান গড়ে তুলেছেন । বিশাল প্রাচুর্যে মানুষ হয়েও তাঁর চালচলন অতি সাধারন ।

কুমিল্লা পৌরসভার কাউন্সিলার থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বয়িত্ব পেয়ে সুনামের সাথে তা পালন করেন । পরে বিশাল ব্যবধানে কুমিল্লা সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । পরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে অর্ধেক ভোটে পরাজিত করে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন । শপথ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলে তিনি ডেকে নিয়ে বলেন তুই মেয়র নির্বাচন করলি না কেন ? পরের বার আঞ্জুম সুলতানা সীমা কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে স্হানীয় একটি গ্রুপের আঁতাতের ফলে বি এন পি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর নিকট পরাজিত হন । নির্বাচনের পর সীমা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি শান্তনা দিয়ে বলেন আমি তোকে দেখবো । এরপর মহানগর কমিটিতেও সীমাকে সাধারন সম্পাদক করার থাকলেও কেন্দ্রের কিছু নেতার যোগসাজশে তাকে বঞ্চিত করা হয় । সীমা এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুযোগ করলে তিনি বললেন তোর দ্বায়িত্ব আমার । এতদিন বিভিন্ন পত্রিকায় খবর হতো প্রধানমন্ত্রী তৃনমূলের খবর রাখেন এবং তাদের সম্মানের চোখে দেখেন তা এবারের সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেখে আবারও প্রমানিত হলো । তিনি দুর্দিনের সাথীদের ভুলেন নি এবং তারাই শেখ হাসিনার শক্তি ও অদম্য সাহসের অনুপ্রেরণা ।

 

Print Friendly, PDF & Email

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.